কেন দেশ রক্ষায় অস্ত্র ধরতে নারাজ ৯৪ শতাংশ ব্রিটিশ

মুনজের আহমদ চৌধুরী, লন্ডন
২৬ জুলাই ২০২৬, ২৩:৪৭আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ২৩:৪৭

ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক হুমকির মধ্যেও যুক্তরাজ্যে জনসাধারণের প্রতিরক্ষাগত প্রস্তুতির চরম দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানরা যখন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সতর্ক করছেন, ঠিক তখনই এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্য সরাসরি সামরিক আক্রমণের শিকার হলেও দেশটির ৯৪ শতাংশ নাগরিক স্বেচ্ছায় অস্ত্র হাতে তুলে নিতে রাজি নন।

ইউগভ-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, জাতীয় ভূখণ্ডগত সংকটে যুক্তরাজ্যের মাত্র ৬ শতাংশ নাগরিক স্বেচ্ছায় সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে এগিয়ে আসবেন। অন্যদিকে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন বয়স, শারীরিক অসুস্থতা বা অক্ষমতার কারণে তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপযোগী। রাষ্ট্র বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা জারি করলে ১৪ শতাংশ নাগরিক সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। তবে ১৭ শতাংশ মানুষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশ রক্ষার সরকারি নির্দেশ পেলেও তারা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবেন। বাকি উত্তরদাতারা সিদ্ধান্তহীন বা যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার পক্ষে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বহু দশক ধরে নিজেদের মাটিতে কোনও প্রত্যক্ষ সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি না হওয়ার ফলেই নাগরিকদের চিন্তা থেকে মাতৃভূমি রক্ষার তাগিদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৪০ বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যে সামরিক পরিষেবার প্রতি অনিহা সবচেয়ে বেশি।

ইলেক্টোরাল ক্যালকুলাস ও ফাইন্ড আউট নাউ-এর আর্থ-সামাজিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সামরিক আক্রমণের ঝুঁকি নাগরিকদের অন্যান্য উদ্বেগের তুলনায় অনেক নিচে। ৪৫ শতাংশ মানুষ সামরিক হামলাকে ঝুঁকি মনে করলেও ৮২ শতাংশ মানুষের প্রধান উদ্বেগ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ৬৭ শতাংশের উদ্বেগ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে। এছাড়া অর্ধেকের বেশি উত্তরদাতা বড় ধরনের সংঘাতের সময় জাতীয় ভূখণ্ড সুরক্ষায় বর্তমান সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। সামরিক সরঞ্জাম ঘাটতি ও বাজেট কাটছাঁটের বিতর্ক এ অনাস্থা আরও বাড়িয়েছে।

এই চিত্রে ব্রিটেন তার ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে পড়েছে। ফিনল্যান্ড ও সুইডেন তাদের প্রতিটি পরিবারে জরুরি প্রোটোকল, বোমা শেল্টারের অবস্থান ও খাদ্য রেশনিং নির্দেশিকা পৌঁছে দিয়েছে। পোল্যান্ড ২০৩৯ সালের মধ্যে তাদের রিজার্ভ ফোর্স ৫ লাখে উন্নীত করতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং নরওয়েও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী বাড়াচ্ছে।

যদিও যুক্তরাজ্যের ৫৬ শতাংশ নাগরিক প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পক্ষে, তবে এনএইচএস বা অন্যান্য সামাজিক সেবা খাতের বাজেট কেটে তা করার বিপক্ষে তারা। সরকারি নীতি-নির্ধারকরা এখন এমন এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে জনগণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নীতিকে সমর্থন করলেও নিজেরা মাতৃভূমির সক্রিয় প্রতিরক্ষার দায়ভার নিতে একেবারেই অনিচ্ছুক।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
পরীক্ষা সংস্কারে টাস্কফোর্স গঠন মোদির
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
এত মূল্যবৃদ্ধি দেখিনি, গরুর মাংস কেনা বন্ধ করে দিয়েছি
সর্বশেষ খবর
থানায় গিয়ে সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেন বৃদ্ধ বাবা, চাইলেন বিচার
থানায় গিয়ে সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেন বৃদ্ধ বাবা, চাইলেন বিচার
ঘুষ নিয়ে ভাইরাল সেই সরকারি কর্মকর্তা বরখাস্ত
ঘুষ নিয়ে ভাইরাল সেই সরকারি কর্মকর্তা বরখাস্ত
অধিভুক্ত কলেজে সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব গঠনের ঘোষণা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির
অধিভুক্ত কলেজে সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব গঠনের ঘোষণা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির
গ্যাস সংকট: বন্ধ হচ্ছে কারখানা, ঝুঁকিতে রফতানি-কর্মসংস্থান
গ্যাস সংকট: বন্ধ হচ্ছে কারখানা, ঝুঁকিতে রফতানি-কর্মসংস্থান
সর্বাধিক পঠিত
শেখ হাসিনা যেদিক দিয়েই আসবেন সেদিক দিয়েই বরণ করবো: এসএম জিলানী
শেখ হাসিনা যেদিক দিয়েই আসবেন সেদিক দিয়েই বরণ করবো: এসএম জিলানী
উদ্বোধনের ১২ দিনেই ধসে পড়লো ৪৭০০ কোটির এক্সপ্রেসওয়ে
উদ্বোধনের ১২ দিনেই ধসে পড়লো ৪৭০০ কোটির এক্সপ্রেসওয়ে
খানজাহান আলী বিমানবন্দরে চীনা অর্থায়নের আভাস: প্রস্তাব পেলে একনেকে উপস্থাপনের আশ্বাস
খানজাহান আলী বিমানবন্দরে চীনা অর্থায়নের আভাস: প্রস্তাব পেলে একনেকে উপস্থাপনের আশ্বাস
ফেরি থেকে মাঝ পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়া নারীকে ফরিদপুরে জীবিত উদ্ধার
ফেরি থেকে মাঝ পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়া নারীকে ফরিদপুরে জীবিত উদ্ধার
বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ, সীমান্তের  ৯ নারীকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ
বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ, সীমান্তের  ৯ নারীকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ