যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওরল্যান্ডোতে সমকামীদের নাইটক্লাবে চালানো সন্ত্রাসী হামলার জন্য ক্ষমা চাইলেন হামলাকারীর বাবা। রবিবার (১২ জুন) হামলাকারী ওমর সিদ্দিক মতিনের বাবা মীর সিদ্দিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে এসব কথা বলেন।
মীর সিদ্দিক বলেন, ‘আমার ছেলের কৃতকর্মের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এই পুরো ঘটনার জন্য আমরা ক্ষমা চাইছি। তার ওই কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতাম না। ওই ঘটনায় পুরো দেশের সঙ্গে আমরাও স্তম্ভিত।’
ছেলের চালানো সন্ত্রাসী হামলা সম্পর্কে মীর সিদ্দিক বলেন, ‘এর সঙ্গে ধর্মের কোনও সংযোগ নেই।’ হামলার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, তার ছেলে কয়েক মাস আগে মিয়ামিতে দুজন পুরুষকে চুম্বনরত অবস্থায় দেখে ভীষণ রাগান্বিত হয়। ওমরের বাবার ধারণা, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ওমর ওই হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।
এদিকে, মার্কিন মুসলিমরাও ওই সন্ত্রাসী হামলার পর স্তম্ভিত। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের অধিকারের বিষয়ে কাজ করা সবচেয়ে বড় সংগঠন দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস মার্কিন মুসলিমদের ওই সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের জন্য রক্তদান করার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির ওরল্যান্ডোর আহবায়ক রাশা মোবারক বলেন, ‘আমরা ওই ভয়াবহ হামলার নিন্দা জানাই এবং ওই হামলার নিহত এবং আহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। মুসলিমরা আমাদের সহনাগরিকদের পাশে রয়েছে।’
উল্লেখ্য, নাইটক্লাবে চালানো ওই সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন নিহত হন। আরও ৫৩ জন আহত হয়েছে ওই ঘটনায়। শনিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফ্লোরিডার ওরল্যান্ডো শহরের পালস নাইটক্লাবে ঢুকে গুলি চালান ওমর মতিন নামক এক ব্যক্তি। এরপর তিনি নাইটক্লাবে অবস্থান করা লোকজনকে জিম্মি করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, জরুরি সাহায্যের জন্য দেওয়া ৯১১ নম্বরে ফোন করে ওমর নিজেই ওই হামলার কথা জানান। ওমর মতিনের কাছে একটি রাইফেল, একটি পিস্তল এবং দুটি সন্দেহজনক যন্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানায়। স্থানীয় সময় আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে এসডব্লিউএটি-এর বিশেষ কমান্ডোরা জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য অভিযান চালান। ওই অভিযানে ওমর মতিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে ওমর মতিনের সরাসরি কোনও সংযোগের বিষয়ে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে আইএস ওমরকে তাদের যোদ্ধা বলে দাবি করেছে।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এনবিসি নিউজ।
আরও পড়ুন:
ফ্লোরিডার নাইটক্লাবে হামলাকারী বউ পেটাতেন!
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলা
/এসএ/








