আসামের বিক্ষোভে বাড়ছে লাশের সংখ্যা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:২০, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩২, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

ভারতের আসামে বিতর্কিত নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ছয়জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভা নাগরিকত্ব বিলে অনুমোদন দেওয়ার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ওই রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাষ্ট্রপতির সাক্ষরে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে রাজ্যটি। আইনটি সংশোধনের দাবিতে রবিবারও (১৫ ডিসেম্বর) তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত। ১২ ডিসেম্বর রাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরেই আইনে পরিণত হয়েছে বিতর্কিত বিলটি। তারপর থেকেই সহিংসতা বেড়েছে সমগ্র ভারতে। আসামসহ ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে অবৈধ অবৈধ অভিবাসীদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি বাতিল ও এই অঞ্চলকে ওই আইনের আওতামুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ করছে তারা। এসব অঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারিসহ বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষ চড়িয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও।

নাগরিকত্ব আইনকে মুসলিমবিরোধী দাবি করে রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ প্রতিবাদ করলেও আসামের আন্দোলনের কারণ সম্পূর্ণ আলাদা। তারা মূলত ওই বিলের দুই অনুচ্ছেদের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রথমত, 'অবৈধ অভিবাসী'কে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি এবং অন্য আইনের মাধ্যমে তাদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ বাতিল করা। দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চলগুলোকে সিএবি’র আওতামুক্ত করা।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের পঞ্চম দিনে আসামের রাজধানী গৌহাটিতে গুলিতে চারজন নিহত হয়েছে। বিক্ষোভের সময় দোকানে আগুন দিলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান এক দোকানি আর ষষ্ঠদিনে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রবিবার রাজধানী গৌহাটিতে বিক্ষোভে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেয়। এ সময় সেখানে শত শত পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারী গান গেয়ে ও শ্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানায় সেখানে। ওই আইনের সংশোধন দাবি করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার প্রদর্শন করে তারা। ব্যানারে ‘লং লিভ আসাম’ সম্বলিত লেখাও প্রদর্শিত হয়।

কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কারফিউয়ের কারণে আসামে তেল ও গ্যাসের উৎপাদনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সেখানে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করায় কিছু দোকান খুলতে দেখা গেছে।

সমালোচকরা বলছেন, হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের এই আইন একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করছে। এটা ভারতীয় সংবিধানের অসাম্প্রদায়িক নীতির লঙ্ঘন। তথ্য: আল জাজিরা

/এইচকে/এএ/

লাইভ

টপ