সরকারের সঙ্গে প্রতারণা: লন্ডনে বাংলাদেশি নারীর কারাদণ্ড ও জরিমানা

Send
লন্ডন প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:২৭, জানুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৭, জানুয়ারি ২২, ২০২০

প্রতারণার অভিযোগে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীকে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি জরিমানা করা হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি  স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টের দেওয়া রায়ে বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বাসিন্দা খাদিজা বেগমকে ১৬ মাসের স্থগিত কারাদণ্ড ও সাড়ে সাত হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা প্রায়) জরিমানা করা হয়। কাউন্সিলের 'স্পেশালিস্ট হাউজিং ফ্রড টিম' তদন্ত শেষে এই মামলা দায়ের করেছিল।

উল্লেখ্য, একক অথবা যৌথ-মালিকানায় অন্য কোনও বাড়ি না থাকলে যুক্তরাজ্যবাসীকে সোশ্যাল হাউজিং-এর আওতায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। খাদিজা বেগম ২০০২ সালে হাউজিং এর জন্য আবেদন করেন। সে সময় তিনি ডিক্লারেশন পেপারে স্বাক্ষর করে জানান, তার কোথাও কোনও বাড়ি নেই এবং তার অবস্থার পরিবর্তন হলে তিনি কাউন্সিলকে তা অবহিত করবেন।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইলফোর্ডে খাদিজা তার ভাইয়ের সঙ্গে মিলে ৩, ৩৭,৫০০ পাউন্ড মূল্যে ৪ বেডরুমের একটি বাড়ি কেনেন। তবে তিনি কাউন্সিলকে তা অবহিত করেননি। একই বছরের জুন মাসে কাউন্সিল থেকে হোয়াইট চ্যাপেলের কলিংউড হাউজে বসবাসের জন্য একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পান খাজিদা। তখনও তিনি ইলফোর্ডে ভাইয়ের সাথে যৌথভাবে কেনা তার বাড়ির বিষয়টি চেপে যান।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে খাদিজা বেগম রাইট টু বাই আইনের অধীনে ডিসকাউন্টে কলিংউড হাউজের ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য কাউন্সিলের কাছে আবেদন করেন। কাউন্সিলের ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রেও কোথাও একক বা যৌথভাবে বাড়ি থাকলে রাইট টু বাই অধিকার প্রযোজ্য হয় না।

খাদিজা বেগমের রাইট টু বাই আবেদন পর্যালোচনাকালে কাউন্সিলের হাউজিং ফ্রড টিম জানতে সক্ষম হয়, ইলফোর্ডে যৌথ নামে তার একটি বাড়ি রয়েছে এবং তিনি কখনোই তা কাউন্সিলকে জানাননি। কাউন্সিলের কাছে বিভিন্ন সময়ে দেয়া সাক্ষাৎকার ও অঙ্গীকারনামায় তিনি তা ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে গেছেন। হাউজিং ফ্রড টিম তাকে তথ্য প্রমাণসহ চ্যালেঞ্জ করলে ২০১৭ সালের জুন মাসে তিনি কাউন্সিলকে ফ্ল্যাটটি ফেরত দেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর থেমস ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে খাদিজা বেগম তার বিরুদ্ধে আনীত হাউজিং প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করে নেন এবং এর প্রেক্ষিতে তাকে এ বছরের ৯ জানুয়ারি স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে ১৬ মাসের স্থগিত কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে মামলার খরচ বাবদ তাকে প্রায় ৬ হাজার পাউন্ড প্রদানেরও নির্দেশ দেয়া হয়।

খাদিজার কারণে দীর্ঘদিন অন্য একটি পরিবার সোশাল হাউজিং থেকে বঞ্চিত হয় এবং ঐ পরিবারকে অস্থায়ী হাউজিংয়ে রাখার কারণে কাউন্সিলের ১শ ৫ হাজার পাউন্ড খরচ হয়। সেই টাকাও ক্ষতিপূরণ বাবদ উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে নির্বাহী মেয়র জন বিগস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দ্রুতবর্ধনশীল জনসংখ্যার কারণে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে সোশাল হাউজিং এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খাদিজা বেগম সত্যি কথা বললে আরেকটি পরিবার উপকৃত হতো। কাউন্সিলের বাড়িটি তাকে বরাদ্দ দেয়া হতো না।

ডেপুটি মেয়র সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনাটি প্রমাণ করেছে একজনের প্রতারণার কারণে আরেকজন ভুক্তভোগী হয়। বিশেষকরে প্রায় ২০ হাজার পরিবার যেখানে অপেক্ষামান সেখানে এটা কোন ভিকটিমলেস ক্রাইম হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে ক্ষতিপূরণ উদ্ধার হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট টিমকে অভিনন্দন। তাদের পরিশ্রমের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

এ ব‌্যাপা‌রে আইনজী‌বী বিপ্লব কুমার পোদ্দার ব‌লেন, হাউ‌জিং ফ্রড-সহ বি‌ভিন্ন প্রতারণায় অভিবাসীদের জ‌ড়ি‌য়ে পড়ার ঘটনা লজ্জাজনক।

/বিএ/

লাইভ

টপ