‘শিক্ষার ব্যয় সরকারের, জরিমানা ছাড়াই জেএনইউ শিক্ষার্থীদের ভর্তি’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:১১, জানুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৭, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) হোস্টেল ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিবন্ধন না করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শুক্রবার তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্দেশনা জারি করেছেন দিল্লির হাই কোর্ট। নির্দেশনায় আদালত বলেছেন, জনগণের শিক্ষার ব্যয় বহনের দায়িত্ব সরকারের। চলমান শীতকালীন সেমিস্টারে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হননি তাদেরকে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরনো ফিতেই ভর্তি করতে হবে। কোনও জরিমানা আদায় করা যাবে না।

জেএনইউতে নতুন হোস্টেল ম্যানুয়াল জারির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন ছাত্র সংসদের কয়েকজন সদস্য। আবেদনকারীদের দাবি, নতুন ম্যানুয়ালে ফি বাড়ানো হয়েছে, কক্ষ বরাদ্দে সংরক্ষিত ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের সুযোগ কমেছে এবং আন্তঃহোস্টেল প্রশাসনে (আইএইচএ) ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিত্ব কমেছে। ওই আবেদনের শুনানি শেষে এর জবাব দিতে জেএনইউ প্রশাসনকে দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছেন দিল্লি হাই কোর্টের এক সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চ।

আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে সিনিয়র আইনজীবী অখিল সিবাল বলেন, ‘নতুন হোস্টেল ম্যানুয়াল প্রচলনের পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের কোনও প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি।’

আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাডিশনাল সলিসিটার জেনারেল পিঙ্কি আনন্দ দাবি করেন, ‘নতুন হোস্টেল ম্যানুয়েল অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে ফেলেছে’। জবাবে বিচারপতি রাজিব শাখদার বলেন, ‘অন্য উপায় না থাকলে আপনি কী করতেন?’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বিচারপতি রাজিব বলেন, ‘আপনারা বলতে পারেন না যে আলোচনা করবেন না। এটাই আমার উদ্বেগ।’

নতুন ম্যানুয়েলে হোস্টেল ফি বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে পিঙ্কি আনন্দ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বেতন পরিশোধের কারণেই ফি বাড়ানো হয়েছে’। জবাবে বিচারপতি রাজিব বলেন, ‘সরকার শিক্ষার দায় এড়াতে পারে না। জনগণের শিক্ষার ব্যয় সরকারকেই যোগাতে হবে। কর্মীদের বেতন পরিশোধ শিক্ষার্থীদের দায় নয়। অন্য কাউকেই তহবিল খুঁজতে হবে’।

পিঙ্কি আনন্দ দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন ম্যানুয়েল প্রচলন করা হয়েছে। আর ইউজিসি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর প্রেক্ষিতে বিচারক বলেন, প্রয়োজন পড়লে পরে এই বিষয়ের নিষ্পত্তি করা হবে।

আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য্য করেছেন।

/জেজে/এএ/

লাইভ

টপ