করোনা ভাইরাস চীনের চেয়েও 'বেশি মারাত্মক' হতে পারে উ. কোরিয়ায়

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৫০, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৪, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

চীনে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশ উত্তর কোরিয়ায় ওই ভাইরাসে একজনও আক্রান্ত পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দারিদ্র্যপীড়িত ওই দেশটি সম্ভবত সংক্রমণ শনাক্ত করতে পারছে না; সেখানে প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তা চীনের চেয়েও ভয়াবহ প্রাণঘাতী হতে পারে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৭৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছে ২ হাজারের বেশি মানুষ। পিয়ংইয়ংয়ের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের অন্তত ২৪টির বেশি দেশে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সংক্রমিত হয়েছে ১০৪ জন।

তবে উত্তর কোরিয়ার সরকারি মুখপত্র দৈনিক সিনমুন মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটিতে এখনও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। একই দিনে উত্তর কোরিয়ার এই বিবৃতিতে সমর্থন জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জেনেভায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ায় করোনা ভাইরাসের কোনও আলামত নেই।

চীনে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর নিজ দেশে এর বিস্তার ঠেকাতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সব ধরনের বিমান ও ট্রেন চলাচল স্থগিত করেছে উত্তর কোরিয়া। এমনকি দেশটির রাজধানীতে যাওয়া যেকোনও নাগরিক, সব বিদেশি, কূটনৈতিক কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ দাতব্য সংস্থার কর্মীদের শরীর স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ ১৪ দিন করা হলেও ওই দেশটি তা বাড়িয়ে করেছে এক মাস। চীন সীমান্তের এই দেশটি করোনার বিস্তার ঠেকাতে সামরিক আইন জারি করেছে। কারও শরীরে করোনার উপস্থিতি না পাওয়া গেলেও চীনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অথবা সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করেছেন; এমন যেকোনও ব্যক্তিকে নির্জন স্থানে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কিম জং উন।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের এমন নির্দেশ যারা অমান্য করবেন; বিশেষ করে অনুমোদন ছাড়া কোয়ারেন্টাইন থেকে বের হলে যে কাউকে সামরিক আইনে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে ডিক্রি জারি করা হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই হয়ে থাকে চীনের সঙ্গে। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর দেশটির সঙ্গে দেড় হাজার কিলোমিটার সীমান্তও বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। সংক্রমণ শনাক্ত করতে চীন সীমান্ত এলাকায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক পাঠিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস।

এত কড়াকড়ি আরোপের মধ্যেও দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম বলছে, করোনায় সংক্রমিত হওয়ার লক্ষণ নিয়ে উত্তর কোরিয়ায় গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন মারা গেছে। তবে উত্তর কোরিয়ায় করোনায় প্রাণহানির এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি দক্ষিণের ওই সংবাদমাধ্যমটি। উত্তর কোরিয়ায় সংবাদমাধ্যম ও মানুষের বাকস্বাধীনতা ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রিত।

হংকংয়ের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও এশিয়ার স্বাস্থ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিকোলাস ডেভিড থমাস বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া এবং চীন সীমান্তে শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক রয়েছে। এজন্য শুধু একজন চোরাচালানকারীর প্রবেশই যথেষ্ট...আর এটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে না।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘দেশটিতে যদি করোনা ভাইরাস প্রবেশ করে, তাহলে তা দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, দেশটির স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা একেবারে দুর্বল। এ ধরনের ঘটনা দরিদ্রতা ও অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা একটি দেশের মানুষের জীবনকে বিপদাপন্ন করে তুলতে পারে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হেলথ কেয়ার সেন্টারের পরিচালক ডা. জন লিন্টন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সাধারণ জনগণ অপুষ্টিতে ভুগছেন। তার ওপর এই ভাইরাসের সংক্রমণ হলে তা চীনের চেয়েও বেশি প্রাণঘাতী হবে।’

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ শতাংশ (এক কোটি ১০ লাখ) পুষ্টিহীনতার শিকার এবং ব্যাপক পরিসরে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। এমনকি অনেক প্রদেশে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে।

/এইচকে/এমওএফ/

লাইভ

টপ