ইদলিবে সিরিয়া-তুরস্ক তীব্র লড়াই, নিহত অন্তত ২৭

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:২৮, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০১, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ইদলিবের কাছে দেশটির সরকারি বাহিনী ও তুরস্কের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সিরীয় বাহিনীর হামলায় তাদের দুই সেনা নিহত ও অপর পাঁচ জন আহত হয়েছে। পাল্টা হামলায় ৫০ জনেরও বেশি সিরীয় সেনাকে হত্যার দাবি করেছে তারা। তবে সিরীয় যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী একটি ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা জানিয়েছে, পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে।

বিদ্রোহীদের সর্বশেষ অবস্থান ইদলিবের দখল নিতে সম্প্রতি রাশিয়ার সহায়তায় অভিযান জোরালো করেছে সিরীয় বাহিনী। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার)পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেন, ইদলিবে তুর্কি সামরিক অবস্থানের আশপাশ থেকে সিরীয় সেনাদের প্রত্যাহার না করা হলে ফেব্রুয়ারির শেষে সেখানে অভিযান চালাবে আঙ্কারা। এরদোয়ানের এই হুমকির একদিনের মাথায় সেখানে তীব্র লড়াইয়ের কথা জানা গেছে।

ইদলিবে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তা পরিচালনার ব্যবস্থা করতে তুর্কি সেনারা সেখানে অবস্থান করছে বলে দাবি করেছেন তুরস্কের যোগাযোগ পরিচালক ফাহরেত্তিন আলতুন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘(সিরিয়ান) শাসকের চালানো হামলায় সেনা সদস্যরা নিহত হয়’। তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে পাল্টা হামলায় অন্তত ৫০ সিরীয় সেনাকে হত্যার দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাল্টা হামলায় সিরিয়ার পাঁচটি ট্যাঙ্ক, দুটি সেনা পরিবহন করা গাড়ি, দুটি সশস্ত্র ট্রাক ও একটি কামান ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের মিত্র রাশিয়ার অভিযোগ বৃহস্পতিবার সিরীয় বিদ্রোহীদের আর্টিলারি (কামান) সহায়তা দিয়েছে তুরস্ক। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরীয় বিদ্রোহীরা ইদলিবের সরকারি অবস্থানে ঢুকে পড়লে তুর্কি সমর্থিত যোদ্ধাদের ওপর বিমান হামলা চালায় রাশিয়া। পাশাপাশি সিরীয় সেনাবাহিনী পাল্টা হামলা চালায় বলেও দাবি তাদের।

ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা সিরীয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের পাল্টাপাল্টি হামলায় সিরিয়ার সরকার সমর্থক ১১ সেনা ও তুরস্ক সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ১৪ সেনা ও দুই তুর্কি সেনা নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর দেশ ছেড়ে পালিয়েছে দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ। এদের বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী তুরস্কের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে। ইদলিবে সিরীয় বিদ্রোহীদের সমর্থনে ২০১৭ সাল থেকেই সেনা মোতায়েন রেখেছে তুরস্ক। নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কায় ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে সিরীয় সীমান্তে ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে তুরস্ক।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ