ইতালির ১০ শহরে জনসমাগমস্থল বন্ধ ঘোষণা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৪:৩২, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫৪, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় ১০ শহরে জনসমাগমস্থল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর আওতায় স্কুল, সরকারি ভবন, রেস্টুরেন্ট ও কফি শপের মতো স্থানগুলো; যেখানে জনসমাগম ঘটে সেগুলো বন্ধ থাকবে। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।
ইতালিতে সম্প্রতি এ ভাইরাসে আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যিনি কখনও চীনে যাননি। ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শুক্রবার অঞ্চলটির জনসমাগমস্থল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি আক্রান্ত ১৪ জনের সবাই লোম্বার্ডি এলাকার বাসিন্দা। সেখানে জানুয়ারির শেষ দিকে চীন থেকে ফেরা এক ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকের পর ৩৮ বছরের আরেক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ওই ব্যক্তি যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন সেখানকার পাঁচ চিকিৎসক ও নার্স এবং অন্য  বেশ কয়েকজন রোগীও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ওই এলাকার একটি ক্যাফেতে যাওয়া তিন ব্যক্তির শরীরেও এ ভাইরাসের সন্ধান মিলে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নড়েচেড়ে বসে প্রশাসন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে শতাধিক মানুষকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। তাদের পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহের জন্য যাবতীয় উৎসব পালন কিংবা গির্জা বা খেলাধূলায় অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশে বৃহস্পতিবার এ ভাইরাসে আরও ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য কমিশনের নিয়মিত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৩৩। এছাড়া বৃহস্পতিবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৪১১ জন। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৯৮৭।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হুবেই প্রদেশ থেকে ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করে। চীনের স্বাস্থ্য কমিশন প্রতিদিনই আক্রান্ত ও নিহতের তথ্য প্রকাশ করছে। প্রকাশিত সেই তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জানুয়ারির পর থেকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) আগ পর্যন্ত কোনও দিনই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজারের নিচে নামেনি। গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো তা নেমে এসে টানা তিন দিন অব্যাহত থাকে। তবে বৃহস্পতিবার নতুন আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে।

এর আগে জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস বলেন, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকা উৎসাহব্যঞ্জক। তবে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কিনা তা বলার সময় আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা এই প্রবণতায় উৎসাহ পাচ্ছি কিন্তু আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই’।

পাকিস্তানের করাচিতে নিযুক্ত চীনের কনস্যুলেট জেনারেল বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে বলে মনে করেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা। মার্চের শেষ নাগাদ ভাইরাসটির সংক্রমণ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র: ডয়চে ভেলে, আল জাজিরা, ফ্রান্স ২৪।

/এমপি/

লাইভ

টপ