যুক্তরাজ্যের ‘অন্যায্য’ ভিসা পদ্ধতির শিকার বাংলাদেশি প্রভাষক

Send
অদিতি খান্না, যুক্তরাজ্য
প্রকাশিত : ১২:২২, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৭, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

যুক্তরাজ্যের ‘অন্যায্য’ ভিসা পদ্ধতির শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের একজন শিক্ষক। গবেষণার কাজে বাংলাদেশে সময় কাটানোর পর যুক্তরাজ্যে তার স্থায়ী আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্র দফতরের সেই কাগজপত্র হাতে পেয়েছেন ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. নাজিয়া হুসেন নামের ওই প্রভাষক।

ড. নাজিয়া হুসেন ধর্ম, লিঙ্গ ও বর্ণ নিয়ে গবেষণা করেন। মিডিয়ায় পরিবেশিত প্রাত্যহিক বর্ণবাদ, যৌন সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং মুসমলামদের নেতিবাচক প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কিত বিষয়ে বিশ্ব মিডিয়া ও ইনস্টিটিউশনে প্রায় কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশি ওই শিক্ষাবিদ অনেক বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। ১০ বছর সেদেশে থাকার ভিত্তিতে তিনি গত বছর স্থায়ী আবাসিকতার (আইএলআর) জন্য আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, পিএইচডি ফিল্ডওয়ার্কের জন্য বাংলাদেশে দেশে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন।

নাজিয়া হুসেন বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের চিঠিতে বলা হয়েছে, আমি যোগ্যতাসম্পন্ন একজন মানুষ। সহজেই বাংলাদেশে নিজের স্থায়ীভাবে বসবাস করার ব্যবস্থা করতে পারবো।’ চিঠিতে অতিরিক্ত বিলম্ব ও পরিবারের সমস্যা এড়াতে তাকে ভিন্ন মাধ্যমে আবেদন করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও তার স্বামীর যুক্তরাজ্যে স্থায়ী আবাসিকতা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে সম্প্রতি এমন বেশ কয়েকটি ঘটনার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সম্প্রতি উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে ‘স্পেশাল গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা’ ঘোষণা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও সেখানে যাওয়া প্রখ্যাত গবেষক ও অ্যাকাডেমিকদের দেশছাড়া হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আছিয়া ইসলামের ক্ষেত্রে। তিনি আইএলআর আবেদন করেছেন, গবেষণার জন্য ভারতে যাওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যে অনুপস্থিতি দেখিয়ে তার আবেদনও বাতিল করা হয়েছে। আছিয়া টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, ওইটাই ঠিক (শুনেছেন)- যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর আমার আবেদন বাতিল করেছে। কারণ ইউকে’র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গবেষণার কাজে সেখানে (ভারত) গিয়েছিলাম। এতে আমি অবাক হয়ে গেছি।’

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর আগেই জোর দিয়ে বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদদের স্বাগত জানাবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের বিশ্বে নেতৃত্বে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেবে লন্ডন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের অভিবাসন নীতি অনুযায়ী সব অভিবাসন আবেদন তাদের ব্যক্তিগত মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।’

গত শুক্রবার উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য দ্রুত ভিসা (ফাস্ট ট্রাক ভিসা) দিতে দ্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট স্কিম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে কোনও চাকরি সুযোগ ছাড়াই অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী ও গবেষকদের আকৃষ্ট করতেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়। যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের মধ্যে যারা দেশটির ফান্ডিং অর্গাইনাইজেন থেকে ফেলোশিপের চিঠি পাবেন তারাই কেবল ভিসা আবেদনে ফাস্ট ট্রাক সুবিধা পাবেন। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, এটা এই বিষয়টা নিশ্চিত করছে যে, যে সব শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী যত দ্রুত তার উদ্ভাবনী কাজ শুরু করতে পারবেন তিনি যত দ্রুত যুক্তরাজ্যে আসতে পারবেন।

ফাস্ট ট্রাক ভিসা পদ্ধতিতে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের গবেষণা প্রয়োজনীয়তার যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনিভাবে তারা যাতে কোনও জটিলতায় না পড়েন সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ