সেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পক্ষে লড়বেন বিশ্বভারতীর শিক্ষকেরা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৫০, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৮, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০

ভারত ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আইনি ও নৈতিক সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ। বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় সরকার বিরোধী কর্মকাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে আফসারা আনিকা মিম নামের ওই শিক্ষার্থীকে ১৫ দিনের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের একাংশও আফসারার পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।

বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার বাসিন্দা আফসারা আনিকা মিম ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হন। তিনি চারুকলা বিভাগের (ডিজাইন) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। গত বুধবার তাকে ভারত ছাড়ার নোটিশ পাঠায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)। নোটিশ পাওয়ার পর বিচলিত হয়ে পড়েছে ওই শিক্ষার্থী। পরে ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে লড়তে বৃহস্পতিবার কলকাতার সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, ‘মেয়েটি সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছে আর তার ভিত্তিতে তাকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের কয়েক জন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এছাড়াও আমরা তাকে সব ধরনের সহায়তা দেবো’।

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী শামীম আহমেদ বলেন, আফসারাকে দেওয়া নোটিশ নিয়ে আইনি লড়াই করা সম্ভব। কারণ তাকে দেওয়া নোটিশের কোথাও ‘সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, ‘আমি ওই নোটিশ এবং তার ফেসবুক পোস্ট খুঁজে দেখেছি। নোটিশে কোনও সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়নি যাতে দেখা যায় সে সরকার বিরোধী কাজ করেছে। তার মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে আর খুবই অস্পষ্ট কারণে তাকে দেশ ছাড়তে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এমনকি তার মতামত না শুনেই তাকে ওই আদেশ দেওয়া হয়েছে’। ‘আমি তাকে আইনি সহায়তা দেবো’, বলেন তিনি।

এদিকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও নিশ্চিত করেছেন আফসারা তাতে যুক্ত ছিলেন না। সেখানকার শিক্ষার্থী স্বপ্নানীল মুখার্জি বলেন, ‘বিশ্বভারতী এমন এক জায়গা যেখানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে আর বন্ধু হয়ে যায়। বেশিরভাগ বিদেশি শিক্ষার্থী আসে বাংলাদেশ থেকে। আমি নিশ্চিত করতে পারি সে কোনও বিক্ষোভে অংশ নেয়নি। আমরা তার পাশে আছি’।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় একশো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। আর আফসারা দেশ ছাড়ার নোটিশ পাওয়ার পর আতঙ্কে ভুগছে তারা। বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাংলাদেশি অনেক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দেখতে যায়। বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভও দেখতে গেছে অনেকে। আফসারা শুধুমাত্র কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে। এটা আমাদের জন্য আতঙ্কজনক পরিস্থিতি’। তবে আফসারার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিজেপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ২৩ জানুয়ারি বিশ্বভারতীর উপাচার্যের কাছে চিঠি দেয় এবিভিপি নেতারা। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও সেই চিঠির কপি পাঠানো হয়। এভিবিপি নেতা অপূর্ব শারদ বলেন, ‘উপাচার্যের কাছে লেখা চিঠিতে আমরা সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে ওই শিক্ষার্থীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছিলাম’।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ