করোনাভাইরাস, নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে জার্মানি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:২১, মার্চ ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৪, মার্চ ৩০, ২০২০

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা দিতে যাচ্ছে জার্মানি। তবে অ্যাডিডাসের মতো বহুজাতিক কোম্পানির আচরণে বিরক্তি প্রকাশ করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
করোনা সংকটের ফলে সাধারণ মানুষের আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটাতে জার্মানির ফেডারেল ও রাজ্য সরকারগুলো রবিবার এক বোঝাপড়ায় এসেছে। এর আওতায় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ইউরো অবিলম্বে ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু হবে।

সোমবার থেকেই রাজ্য সরকারগুলো বিশেষ তহবিল থেকে সেসব মানুষ ও ছোট প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ হস্তান্তর করবে; করোনা সংকটের ফলে যাদের আয় কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্য বহু স্থানের মতো জার্মানিতেও জনজীবন প্রায় স্তব্ধ হয়ে গেছে। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

সব বড় অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যাওয়ায় শিল্পী, কলাকুশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট আকারের কোম্পানি ও স্বনির্ভর মানুষও দিশাহারা হয়ে পড়েছে। খুব কম মানুষ অসুস্থতা বা অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার কারণে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন।

যেসব মানুষের পক্ষে ধারদেনা করে অথবা অন্য কোনওভাবে অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়, মূলত তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে জার্মান সরকার। যেসব ছোট আকারের কোম্পানির সর্বোচ্চ পাঁচ জন পর্যন্ত কর্মী রয়েছে, সেগুলো আপাতত তিন মাস পর্যন্ত ৯ হাজার ইউরো করে সাহায্য পাবে। ১০ জন কর্মী থাকলে ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। তবে তার জন্য বর্তমান সংকটের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল, এমন প্রমাণ দিতে হবে।

জার্মানির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী পেটার আল্টমায়ার বলেন, চাষিরাও এই সহায়তা পাবেন।

বড় আকারের কোম্পানিগুলোকে সাহায্য করতে সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি মালিকানার সুযোগ ইত্যাদি পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কিছু কোম্পানির আচরণে সরকার অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে পড়ছে।

অ্যাডিডাস ও এইচঅ্যান্ডএম-এর মতো বহুজাতিক কোম্পানি একতরফাভাবে দোকানের ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে। করোনা সংকটের ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দোকান থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। এমন যুক্তি দেখিয়েছে কোম্পানিগুলি। জার্মানির অর্থমন্ত্রী ওলাফ শলৎস এমন বেপরোয়া পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তার মতে, এর ফলে সম্পত্তির মালিকদের ক্ষতি হবে। তার বদলে মালিক ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সরকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভাড়া মেটাতেও সাময়িক সহায়তা করছে। তবে আইনমন্ত্রী ক্রিস্টিনে লামব্রেশট এই সুযোগের অপব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তার মতে, বিশেষ করে আর্থিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী কোম্পানিগুলো এমন সংকটের সময়ে ভাড়া দেওয়া বন্ধ রাখলে তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

উল্লেখ্য, অ্যাডিডাস ২০১৯ সালে ২০০ কোটি ইউরো মুনাফা করেছিল। আত্মপক্ষ সমর্থন প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-কে জানিয়েছেন, দোকানের মালিকদের জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তির আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: ডিডব্লিউ।

/এমপি/

লাইভ

টপ