সাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে ফের মামলায় উদ্বেগ অ্যামনেস্টির

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:২৮, এপ্রিল ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩১, এপ্রিল ০১, ২০২০

নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় মামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ১ এপ্রিল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানায় সংস্থাটি।শফিকুল ইসলাম কাজল

এর আগে গত ২১ মার্চ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ মার্চ নিখোঁজ হওয়া দৈনিক পক্ষকাল-এর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলের সর্বশেষ অবস্থান সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে একটি বাইকে চড়ে যেতে দেখা যায় তাকে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে সিসিটিভি ফুটেজটিও প্রকাশ করা হয়।

বুধবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে তার সর্বশেষ অবস্থান প্রকাশের তিন ঘন্টা পর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে কঠোর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনা তার গুম হওয়ার আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে পুলিশ ২০১৮ সালের কঠোর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে দ্বিতীয় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে তার অনুলিপি তারা হাতে পেয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এটা উদ্বেগজনক যে সিসিটিভি ক্যামেরায় তাকে শেষ দেখা যাওয়ার মাত্র তিন ঘন্টা পর তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করা হয়। ওই মামলার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মাথায় ফের মামলা হয়।

তার ভাগ্যে কী ঘটেছে এবং তার বর্তমান অবস্থান নির্ধারণে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই জরুরি তদন্ত শুরু করতে হবে। তিনি যদি কোনও রাষ্ট্রীয় সংস্থার হেফাজতে থাকেন তবে তাকে মুক্তি দিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে যাবতীয় মামলা তুলে নিতে হবে।

অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি বলেন, ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়েরের ঘটনার মধ্যেই শফিকুল ইসলাম কাজলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গভীর উদ্বেগজনক। এটি কোনও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর একদিন পরই তাকে অনুসরণ করা হয়েছিল।

সাদ হাম্মাদি বলেন, শফিকুল ইসলাম কাজলের পরিবার তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব মানুষের জীবন রক্ষা করা। এটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব যে, কাউকে তাদের প্রিয়জনদের ব্যাপারে এ জাতীয় অনিশ্চয়তা নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে না।

তিনি বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম কাজলের অবস্থান এবং তার ভাগ্যে কী ঘটেছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তা প্রকাশ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকলে তাকে মুক্তি দিতে হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৫০ বছরের শফিকুল ইসলাম কাজল একজন ফটোগ্রাফার এবং দৈনিক পক্ষকালের সম্পাদক। আরও ৩১ জনসহ তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশের মামলার একদিন পর ২০২০ সালের ১০ মার্চ থেকে তার আর কোনও খোঁজ মিলছে না।

নিখোঁজের আগের দিন ২০২০ সালের ৯ মার্চ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপি সাইফুজ্জামান শিখর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শেরে বাংলা থানায় শফিকুল ইসলাম কাজল এবং আরও ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে এ মামলা করা হয়।

পরদিন ১০ মার্চ বিকাল ৪টা ১৪ মিনিটে মোটরসাইকেলে শফিকুল ইসলাম কাজল ঢাকার হাতিরপুলে মেহের টাওয়ারে তার অফিসে পৌঁছান। এরপর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগের আগ পর্যন্ত তার বাইকের আশপাশে বেশ কয়েকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিকাল ৫টা ৫৯ মিনিট থেকে ৬টা ৫ মিনিটের মধ্যবর্তী ৬ মিনিট তিন জন ব্যক্তি আলাদা আলাদাভাবে মোটরবাইকটির কাছে যান। ৬টা ১৯ মিনিটে কাজলকে অন্য একজন ব্যক্তির সঙ্গে অফিস থেকে বের হয়ে নিজের বাইকের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে তিনি ফিরে আসেন এবং সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে বাইকে চড়ে চলে যান। এটাই ছিল তাকে প্রকাশ্যে সর্বশেষ দেখা যাওয়ার মুহূর্ত।

এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ১০ মার্চ রাত ১০টা ১০ মিনিটে তার বিরুদ্ধে একটি নতুন মামলা নথিবদ্ধ করে পুলিশ। উসমিন আর বেইলি নামের আওয়ামী লীগ দলীয় একজন সদস্য তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৬ ও ২৯ ধারায় মামলাটি করা হয়।

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, গত বছর স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ অন্তত ৩৪ জন ব্যক্তি গুম হওয়ার অভিযোগ করে। এদের মধ্যে ৮ জনের লাশ পাওয়া যায়, ১৭ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং বাকি ৯ জনের ভাগ্য কী ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি।

/এমপি/

লাইভ

টপ