করোনায় নিউ ইয়র্কে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের মৃত্যু

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:৫৭, এপ্রিল ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫২, এপ্রিল ০৫, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরও ৬৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে রাজ্যটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ৫৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

নিউ ইয়র্কে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ১৩ হাজারের বেশি, যা পুরো ইতালিতে আক্রান্তের প্রায় সমান।

নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো বলেছেন যে, এই সংক্রমণ চার থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, আমার মনের একটা অংশ বলছে এই সংখ্যা চূড়ায় পৌঁছাবে। মন বলছে চলুন এর মোকাবিলা করি। আবার মনের আরেক অংশ বলছে যে, আমরা যে এখনও পর্যন্ত চূড়ায় পৌঁছাইনি, এটাই ভালো। কারণ আমরা এখনও প্রস্তুত নই।

কুওমো বলেন যে, তার রাজ্য আরও বেশি ভেন্টিলেটরেরের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শনিবার এক হাজার ভেন্টিলেটর পাঠানোর জন্য তিনি চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া ওরেগন রাজ্য থেকে আরও ১৪০টি ভেন্টিলেটর সরবরাহের কথা রয়েছে।

এদিকে প্রতিদিনের করোনাভাইরাস ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন যে, নিউ ইয়র্কে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হবে। তবে ট্রাম্প বলেছেন যে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় সহায়তা দেয়া হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত তিন লাখেরও বেশি মানুষের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছেন আট হাজারেরও বেশি মানুষ।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ছয় লাখেরও বেশি মানুষ এই করোনাভাইরাসে মারা গেছেন। সংক্রমিত হয়েছেন ১১ লাখেরও বেশি মানুষ।

নিউ ইয়র্কের সর্বশেষ চিত্র কী?

নিউ ইয়র্কে এক লাখ ১৩ হাজার ৭৪ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে নিউ ইয়র্ক সিটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৩৬ জন। কুওমো বলেছেন যে, নিউ ইয়র্ক সিটিতে এখন আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা ধীর গতিতে বাড়ছে। তবে নিকটবর্তী লং আইল্যান্ডে এই সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ম্যানহাটানের আড়াই হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল জাভিটস সেন্টার ইন ম্যানহাটানে বিপুল সংখ্যক রোগী ভিড় করছে। তাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জনবল এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ, যাদের প্রায় এক চতুর্থাংশ অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা, তারা নিউ ইয়র্কের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সহায়তার জন্য নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এটাই এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি।

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র তার ৮০ লাখ বাসিন্দার কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। এতে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যে, তাদের মধ্যে যারা যোগ্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মী তারা যেন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে।

বিল ডে ব্লাসিও সাহায্যের আবেদন জানিয়ে বলেছেন, আপনাদের মধ্যে যারা এখনও এই লড়াইয়ে শামিল হননি, তাদের বলতে চাই যে আপনাকে আমাদের প্রয়োজন। যে কোনও পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মী - ডাক্তার, নার্স, রেসপিরেটরি থেরাপিস্ট, আপনি শুধু নাম দিন।

বিল ডে ব্লাসিও-র ধারণা, এপ্রিল ও মে মাসে এই মহামারি মোকাবিলায় আরও ৪৫ হাজার মেডিকেল কর্মীর প্রয়োজন।

এর আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছিলেন বিল ডে ব্লাসিও। তিনি বলেন, বাইরে বের হওয়ার সময় নাক মুখ ঢেকে রাখুন। এজন্য আপনি স্কার্ফ বা আপনার নিজের তৈরি করা কিছু ব্যবহার করতে পারেন।

শনিবার হোয়াইট হাউসে বক্তব্য রাখার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামনের কয়েক সপ্তাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কী অপেক্ষা করছে সেটার একটি মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, পরের সপ্তাহ, 'সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন' সময় হবে। 'অনেক মৃত্যুর' জন্য অপেক্ষা করতে তিনি আমেরিকানদের সতর্ক করে দিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যের পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, তার প্রশাসন প্রচুর সামরিক কর্মকর্তা, হাজার হাজার সেনাসদস্য, চিকিৎসা কর্মী, পেশাদারদের মোতায়েন করবে। সামরিক বাহিনীকে শিগগিরই তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হবে। নিউইয়র্ক সিটিতে এক হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্রাম্প নির্দেশ জারি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি মেডিক্যাল সামগ্রী অন্য দেশে রফতানি করা যাবে না। কোরিয়ান যুদ্ধের সময়ে একটি আইনের বলে তিনি এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেল পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, স্থানীয় চাহিদা মেটাতে আমাদের এখনই এসব সামগ্রী দরকার। আমাদের অবশ্যই এগুলো পেতে হবে।

থ্রিএম নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মাস্ক উৎপাদক কোম্পানির ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির উচিত ছিল এমন পরিস্থিতিতে অন্যদের কাছে মাস্ক বিক্রি করার পরিবর্তে নিজ দেশের কথা ভাবা।

সামাজিক-দূরত্বের বিষয়ে কড়াকড়ি শিথিল করে আনার প্রশ্নে ট্রাম্প একটি পুরোনো কথাই পুনরাবৃত্তি করেন। নির্দিষ্ট কোনও সময় বা তারিখ উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আমাদের দেশটি খুলে দেওয়া দরকার। সমস্যার চাইতে এর নিরাময় খারাপ হতে পারে না। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/

লাইভ

টপ