উষ্ণতা বাড়লেই থামবে না করোনার প্রকোপ: যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী দল

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৫০, এপ্রিল ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৪, এপ্রিল ০৯, ২০২০

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে যাবে—এমনটা নিশ্চিত করে বলতে রাজি নন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সে কমিটির বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজে পাঠানো চিঠিতে তারা লিখেছেন, তাপমাত্রা একবার বাড়লেই যে করোনাভাইরাস দূর হবে যাবে এমন আলামত দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মার্কিন বিজ্ঞানীরা এই পর্যবেক্ষণে পৌঁছেছেন। 





মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবারই দাবি করেছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাস দূর হয়ে যাবে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি গভর্নরদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘অনেক মানুষই মনে করছেন এপ্রিল মাসের গরমে ভাইরাসের প্রকোপ চলে যাবে। এপ্রিল মাসে গরম আসে। স্বাভাবিকভাবে এপ্রিল মাসে তা চলে যাওয়ার কথা।’ একই দিনে নিউ হ্যাম্পশায়ারে এক সমাবেশে ট্রাম্প সে দাবির পুনরাবৃত্তি করেন। বলেন, ‘তত্ত্ব অনুযায়ী আপনারা জানেন যে এপ্রিলে গরম শুরু হলে তা চলে যায়।’ সেদিনই আবার ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তাকে একই কথা বলতে শোনা গেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা জানেন এপ্রিল মাসের গরমের সঙ্গে এ ভাইরাস টিকতে পারবে না। সুন্দর সে সময় আসার অপেক্ষায় আছি।’

তবে ট্রাম্পের সে দাবির সঙ্গে একমত নন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স কমিটির (এনএএস) বিজ্ঞানীরা। হোয়াইট হাউজের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতিমালা বিষয়ক কার্যালয় বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন, উষ্ণ আবহাওয়ার দেশগুলোতে এখনও করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে তারা লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইরানের মতো অনেক দেশে এখন গ্রীষ্মকাল চলছে। তারপরও সেখানে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে। আর্দ্রতা ও উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে যাবে তা ভাবার কারণ নেই।’
চিঠিতে এনএএস-এর বিজ্ঞানীরা লিখেছেন, কয়েকটি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, গরম ও আর্দ্রতাপূর্ণ পরিবেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ কমে যায়, তবে তা এখনও অনিশ্চিত। চিঠিতে আরও বলা হয়, টুলানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক চাদ রয় ভাইরাসটিকে ল্যাবরেটরিতে উষ্ণ ও আর্দ্র তাপমাত্রার মধ্যে রেখেছিলেন। এভাবে ১৬ ঘণ্টা রেখে তিনি গবেষণা করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, আশ্চর্যজনকভাবে জ্বর, যক্ষ্মা, সার্স ভাইরাস নামক পুরনো করোনা ভাইরাসের চেয়েও বেশি সময় ধরে বেঁচেছে নতুন করোনা ভাইরাস।
চিঠিতে বলা হয়, ‘এমন কিছু আলামত দেখা গেছে, উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্র পরিবেশে করোনাভাইরাস অপেক্ষাকৃত কম শক্তি নিয়ে সংক্রমিত হতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে মানুষের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার যে ঘাটতি রয়েছে তাতে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা কমলেও রোগের বিস্তার উল্লেখযোগ্য হারে কমবে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক বড় পদক্ষেপ না নিলে রোগের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়।’
চিঠিতে চীনের উদাহরণ সামনে নিয়ে আসা হয়। বলা হয়, চীনে করোনার প্রকোপ নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাপূর্ণ অবস্থা থাকার পরও করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে প্রায় দুই জনকে আক্রান্ত করেছেন।
ভান্ডেরবিল্ট ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের সংক্রামক রোগ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম শাফনের সিএনএন-কে বলেন, ‘যদিও আমরা আশা করতে পারি যে করোনার সংক্রমণ কমার ক্ষেত্রে আবহাওয়ার কিছুটা ভূমিকা থাকবে, তবে আমরা পুরোপুরি এর ওপর নির্ভর করতে পারি না। সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব ও অন্য পদক্ষেপগুলো অব্যাহত রাখতে হবে।’
ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালের অধ্যাপক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ পল অফিট বলেন, সাধারণ ঠান্ডার জন্য দায়ী করোনা ভাইরাসগুলো মৌসুমি। তবে এ নতুন করোনাভাইরাস আলাদা। কারণ, এর উৎপত্তি পশুর শরীর থেকে, মানব শরীর থেকে নয়। ‘এ ভাইরাস কেমন আচরণ করবে তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না’- বলেন অফিট।

/এফইউ/বিএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ