বাংলাদেশি আমেরিকানদের অবশ্যই একটি আসনের জন্য লড়তে হবে: নিনা আহমেদ

Send
ব্রজেশ উপাধ্যায়
প্রকাশিত : ০৯:২৬, জুন ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০২, জুন ২২, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের অডিটর জেনারেল পদে নির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিনা আহমেদ। এ মাসের গোড়ার দিকের ওই অর্জনের মধ্য দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেন এ নারী।

কমিউনিটি সদস্যদের কাছে তার বার্তা, আপনি যদি দরজা খুলতে চান তবে টেবিলে নিজের আসনের জন্য লড়াই করুন।

বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিনা আহমেদ বলেন, ‘দেশজুড়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিকে তাদের চিরস্থায়ী বিদেশির মতো অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। লোকজন যেন কমিউনিটির অবদান বুঝতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে জন্ম নেওয়া আমাদের শিশুদের বলুন তোমরা পুরোপুরি আমেরিকান। এর বাইরে অন্যভাবে তোমার সম্পর্কে কাউকে কিছু বলতে দেবে না।’

পেনসিলভানিয়ার অডিটর জেনারেল পদে নির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে ছিলেন ছয় জন। তবে বাকিদের হারিয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে তিনি দলীয় মনোনয়ন লাভে সমর্থ হন। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী টিমোথি ডেফোর।

পেনসিলভানিয়ায় নিবন্ধিত রিপাবলিকানদের চেয়ে নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যা আট লাখ বেশি। এটিই নিনা আহমেদকে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক প্রক্রিয়া চলাকালে ভোটারদের মন-মেজাজ পরিষ্কার ছিল।

রাজনীতির পাশাপাশি নিনা আহমেদ একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আণবিক জীববিজ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘ভোটাররা যা চান, সে সম্পর্কে তারা স্পষ্ট কথা বলেছেন। তারা একজন নারীকে চান। তারা এমন একজনকে চান যে, যিনি একজন বিজ্ঞানী। তিনি ফ্যাক্ট ও ডাটা ব্যবহার করবেন। হোয়াইট হাউসের ব্যক্তির মতো ভয় ও বিভাজনকে ব্যবহার করবেন না।’

আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশ-আমেরিকান এখন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের অফিসগুলোতে দৌড়ঝাঁপ করছে। তবে অনেকেই তাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্য অতিক্রম করতে পারেনি। নিনা আহমেদকেও তার প্রথম দফার দৌড়ে হার মানতে হয়েছিল। তবে সেই অভিজ্ঞতা এবং নাম-যশ দৃশ্যত এবার তাকে সাহায্য করেছে। তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর অফিসে দৌড়ঝাঁপ করা অন্যদের জন্য তার বার্তা কী?’

নিনা আহমেদ বলেন, ‘আমাদের পেছনে কিছু নেই। ব্যবহার করার মতো পারিবারিক নাম নেই আমাদের। আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস নেই যেখানে প্রত্যেকেই আমাদের চেনে এবং বিশ্বাস করে। আমাদেরকে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হবে।’

তার মতে, বাংলাদেশি-আমেরিকানরা সংখ্যায় কম হলেও উদ্দীপনা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভোটের মাঠে তাদের এটি কাটিয়ে উঠতে হবে।

১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন নিনা আহমেদ। ৯ বছর পর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি রসায়নে পিএইচডি করেন। পরে থমাস জেফারসন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল ফেলোশিপ শেষ করেন।

নিনা আহমেদ জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ তার মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দুর্দান্ত প্রভাব ফেলেছে।

তার ভাষায়, ’৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমি কখনোই এটা ভুলে যাই না যে, আমরা যা বিশ্বাস করি তার জন্য আমাদের লড়াই করতে হবে।’

নিজের প্রচারণার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় প্রার্থী জো বাইডেনের পক্ষেও আরও সক্রিয়ভাবে ক্যাম্পেইন চালানো এবং তাকে সমর্থনকারী ভোটারদের আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। তিনি বলেন, এটি শুধু জো বাইডেন-এর বিষয় নয়; বরং এটি দেশের পাহারাদার বা অভিভাবক পরিবর্তনের বিষয়।

নিনা আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেশ হিসেবে কাজ করছি না। ট্রাম্প প্রশাসন মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হওয়ায় এই মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর করোনাভাইরাসের আঘাত ছিল সবচেয়ে বেশি।

নিনা আহমেদ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০-৩০ বছর আগের নাগরিকত্ব আবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি আলাদা বিভাগ তৈরি করেছেন। সেখানে কোনও ভুল পেলেই তারা নাগরিকত্ব বাতিলের পথে হাঁটবে। এমন পরিস্থিতিতেও যদি সবাই তাদের বিতাড়িত করতে ভোট দিতে না আসে; তাহলে কী হবে সেটা আমি জানি না।

/এমপি/

লাইভ

টপ
X