ভারতকে চাপে ফেলতেই ভুটানের ভূখণ্ডের মালিকানা দাবি করছে চীন?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৩৮, জুলাই ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৯, জুলাই ০৬, ২০২০

সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ ভুটানের সাকতেং অভয়ারণ্যকে নিজেদের বলে দাবি করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হয়েছে চীন। একইসঙ্গে পরোক্ষভাবে দিল্লিকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। চীন ভারতকে হুঁশিয়ার করেছে, দুই দেশের সীমান্ত বিরোধে যেন তৃতীয় পক্ষ হস্তক্ষেপ না করে। এরইমধ্যে চীনের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে ভুটান। ভারতীয় কূটনীতিকরা মনে করেন, ভুটানের ভূখণ্ডের মালিকানা দাবির বিষয়টি মূলত দিল্লির ওপর বেইজিংয়ের চাপ বাড়ানোর কৌশল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি কাউন্সিল। বৈঠকে নিজ দেশের পাশাপাশি ভুটান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ভারতের আইএএস অফিসার অপর্ণা সুব্রহ্মণ্যম। সেই বৈঠকে হঠাৎই সাকতেং অভয়ারণ্যকে বিতর্কিত এলাকা বলে দাবি করেন চীনের প্রতিনিধি। বেইজিংয়ের দাবি, ওই এলাকা নিয়ে বিবাদ রয়েছে৷ ফলে তা নিজেদের বলে দাবি করতে পারে না ভুটান৷

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘মূলত সাকতেংকে বিতর্কিত এলাকা প্রমাণ করে আর্থিক সাহায্য আটকে দেওয়াই ছিল চীনের আসল উদ্দেশ্য। তবে, বেইজিংয়ের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। চীনের আপত্তি সত্ত্বেও সাকতেং অভয়ারণ্য উন্নয়নে ভুটানের জন্য বরাদ্দ অনুমোদিত হয়।’

গত ২-৩ জুন অনুষ্ঠিত কাউন্সিল বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী চীনা প্রতিনিধি বলেন, ‘চীন-ভুটানের বিতর্কিত এলাকা হলো সাকতেং অভয়ারণ্য। চীন-ভুটান সীমান্ত আলোচনার অন্যতম ইস্যু ছিল এই বিষয়টি। তাই এই অভয়ারণ্যের জন্য ভুটানের দাবির প্রতিবাদ করছে চীন। কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে চীন সহমত নয়।’

কাউন্সিলে ভুটান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রতিনিধিত্বকারী অপর্ণা জানান, ‘কাউন্সিলে চীনের প্রতিনিধির দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ভুটান। সাকতেং অভয়ারণ্য ভুটানের অখণ্ড ও সার্বভৌম এলাকা। সীমান্ত বৈঠকে কোনও সময়ই বিতর্কিত এই এলাকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কথা হয়নি।’

ভারতীয় কূটনীতিকরা একে কোভিড পরিস্থিতিতে চীনের সম্প্রসারণবাদের একটা উদাহরণ হিসেবে দেখছে। বেইজিংয়ে নিযুক্ত প্রাক্তন ভারতীয় দূত অশোক কে কান্থা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘ভুটানের ভূখণ্ড দাবি করছে চীন। এই এলাকা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। যৌথ সমীক্ষাতেই তা স্পষ্ট করা হয়েছিল।’ একে প্রতিবেশীদের জমি দখলে চীনা প্রচেষ্টা মনে করেন কান্থা।

ভুটানে নিযুক্ত প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ভি পি হরান ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ‘এটা নতুন দাবি। পূর্ব ভুটানের সাকতেং অভয়ারণ্য নিয়ে কোনও বিরোধ নেই। চীনের সীমান্ত থেকে এটা কিছুটা দূরে অবস্থিত। ২০১৩-১৫ ভারত-চীন যৌথ সমীক্ষা অনুসারে উত্তরে পাসামলুঙ্গ ও জাকারলুঙ্গ এবং পশ্চিমে ডোকলাম ও সংলগ্ন কিছু এলাকা ছাড়া দুই দেশের কোনও সীমান্ত বিরোধ নেই।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসকে ভুটানের তরফে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, সাকতেং অভয়ারণ্যের গোটাটাই তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ৷ একে অপরের দেশে কোনও দূতাবাস না রাখায় ভুটান ও চীন দিল্লিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মাধ্যমেই কাজ করে থাকে। ভুটান-চীন ২৪ রাউন্ড সীমান্ত বৈঠক করেছে। সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, আগামী বৈঠকে বেইজিং সাকতেং অভয়ারণ্যের দাবি জানালে থিম্পু তার প্রতিবাদ করবে ও পাল্টা যুক্তি পেশ করবে।

গত শনিবার চীনা পররাষ্ট্র দফতরের তরফে হিন্দুস্তান টাইমকে জানানো হয় যে ‘চীন এবং ভুটানের সীমানা কখনোই সীমাবদ্ধ হয়নি। বহু দিন ধরেই পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিমের সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এই অংশ নিয়ে নতুন করে তাই বিতর্ক উঠে আসছে না। চীন-ভুটান সীমান্ত সমস্যা মেটাতে বেইজিং সবসময় আপস-সমাধানের পক্ষেই কথা বলেছে।’ চীনা পররাষ্ট্র দফতরের এই মন্তব্যেই সমস্যা আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মানা হবে না। যা ভারতের প্রতি বেইজিংয়ের বার্তা বলে ধরা হচ্ছে।

/এফইউ/বিএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ