ফিনসেন ফাইলস: এবার বড় বড় ব্যাংকের কালো টাকা পাচারের তথ্য ফাঁস

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৩৬, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৮, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

গত পাঁচ বছর ধরে গোপন লেনদেন, অর্থপাচার এবং আর্থিক অপরাধ বিষয়ে ফাঁস হওয়া গোপন দলিল ফিনসেন ফাইলসে জানা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় ব্যাংক কীভাবে অপরাধীদেরকে বিশ্বজুড়ে কালো টাকা পাচার করতে দিয়েছে। এই লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি ডলার। ফিনসেন ফাইলস হচ্ছে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রায় আড়াই হাজার দলিল। ২০০০ সাল হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছিল এসব দলিল। ব্যাংকের গ্রাহকরা আসলে যা করছেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এসব দলিলে। এগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সবচেয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়, এমন ধরনের দলিল রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।


এই দলিলগুলো ফাঁস করা হয়েছিল বাজফিড নিউজের কাছে। এরপর সারা বিশ্বের অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব দলিল বিনিময় করা হয়। ৮৮টি দেশের ১০৮টি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব দলিল বিতরণ করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ দলিল ঘেঁটে অনুসন্ধান কাজটি চালিয়েছেন সাংবাদিকরা। বেশিরভাগ দলিল খুবই টেকনিক্যাল। ব্যাংকগুলো প্রকাশ করতে চায় না, এমন অনেক কাজকর্ম সাংবাদিকরা তাদের অনুসন্ধানের মাধ্যমে উদঘাটন করেছেন।
ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) সঙ্গে কাজ করা ফার্গাস শিয়েল বলেন, বিশ্বজুড়ে কী বিপুল পরিমাণ কালো অর্থ পাচার হচ্ছে তার ওপর দৃষ্টিপাতের সুযোগ করেছ দিয়েছে এই ফাঁস হওয়া দলিলগুলো।
ফিনসেন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন নেটওয়ার্ক-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টে আর্থিক অপরাধ দমনে কাজ করে। মার্কিন ডলারে যত লেনদেন হয়, সেটা যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও ঘটে থাকে, সেই লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা ফিনসেনের কাছে পাঠাতে হয়।
ফাঁস হওয়া গোপন দলিল থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, এইচএসবিসি জালিয়াত চক্রকে চুরি করা কোটি কোটি ডলার পাচার করতে দিয়েছে। মার্কিন তদন্তকারীদের কাছ থেকে এই স্কিমটি যে একটি ধাপ্পাবাজি সেটা জানার পরও তারা এই লেনদেন হতে দিয়েছে।
এতে আরও আছে, জেপি মর্গান একটি কোম্পানিকে লন্ডনের একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একশো কোটি ডলার লেনদেন করতে দিয়েছে। অথচ জেপি মর্গান জানতো না কোম্পানিটির মালিক কে। পরে জেপি মর্গান জানতে পারে যে, এই কোম্পানিটির মালিক হয়তো এমন এক অপরাধী গোষ্ঠির নেতা, যার নাম আছে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এর সবচেয়ে দুর্ধর্ষ দশ ফেরারি আসামির তালিকায়।
এছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগী তার বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে লন্ডনের বার্কলেজ ব্যাংককে ব্যবহার করেছেন। অথচ এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্যই ছিল তিনি যেন পশ্চিমা বিশ্বের কোনও আর্থিক সেবা ব্যবহার করতে না পারেন। এই পাচার করা অর্থ দিয়ে শিল্পকর্ম কেনা হয়েছে।
ফিনসেনের ইন্টেলিজেন্স বিভাগের মতে, যুক্তরাজ্য এখন সাইপ্রাসের মতোই 'উচ্চ ঝুঁকির এলাকা'। ফিনসেন ফাইলে যুক্তরাজ্যের তিন হাজারের বেশি কোম্পানির নাম আছে। বিশ্বের আর কোনও দেশের এত বেশি কোম্পানির নাম ফিনসেন ফাইলে নেই।
ইরানের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, সেটি এড়াতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কোম্পানি সহায়তা করছিল। কিন্তু এ নিয়ে সতর্ক করে দেওয়ার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়। সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠী, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক চোরাচালানকারীদের কালো টাকা পাচার করতে দিয়েছে ডয়েচে বাংক।
জর্ডানের একটি ব্যাংক 'আরব ব্যাংকে‌র' গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট এক দশকের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবাদের অর্থ যোগানোর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক তাদের অর্থ লেনদেন করতে দিয়েছে।
ফিনসেন বলেছে, এসব দলিল ফাঁস হওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে তাদের নিজস্ব তদন্তে বিঘ্ন হতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি এসব রিপোর্ট পাঠিয়েছে তাদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ফিনসেন অবশ্য গত সপ্তাহে অর্থ পাচার-বিরোধী কার্যক্রম ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে এক প্রস্তাব ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাজ্যও ঘোষণা করেছে যে, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধে তারা কোম্পানি নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যের নিয়মনীতি সংস্কার করে ঢেলে সাজাচ্ছে।

/এএ/

লাইভ

টপ