৭৫ বছরে জাতিসংঘ, হাল না ছাড়ার অঙ্গীকার মহাসচিবের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:৪০, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৩, অক্টোবর ২৪, ২০২০

বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের এই দিনে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে জাতিসংঘ ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছে। আজকের দিনে জাতিসংঘ দিবসের পাশাপাশি একই দিনে বিশ্ব উন্নয়ন তথ্য দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৭২ সাল থেকে প্রতি বছরের ২৪ অক্টোবর এ দিনটি বৈশ্বিকভাবে পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য, যেমন ভবিষ্যৎ চাই, যে জাতিসংঘ আমাদের প্রয়োজন। সবার প্রতি আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনা। এক বার্তায় মহাসচিব বৈষম্য ও বাধা থাকলেও হাল না ছাড়ার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। কারণ আমরা বৈষম্য হ্রাস করতে জানি। আমাদের আশা, বিশ্বজুড়ে মানুষের সুযোগ ও শান্তি বৃদ্ধি পাবে।

 



বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যালয়ে, বিশেষত নিউ ইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), হেগ (নেদারল্যান্ডস), জেনেভা (সুইজারল্যান্ড), ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া) এবং নাইরোবি (কেনিয়া)-র প্রধান কার্যালয়গুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কনসার্ট, গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে জাতিসংঘের পতাকা ওড়ানো, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কাজের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিতর্ক এবং রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য নেতার ঘোষণাপত্র। 

বাংলাদেশে দিবস পালনে সন্ধ্যা ৭টায় জাতিসংঘ বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ‘অনলাইন কনসার্ট’। করোনা মহামারির কথা মাথায় রেখে, অনলাইনেই হবে পুরো আয়োজন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেস আয়োজিত ‘কেমন ভবিষ্যৎ দেখতে চান’, তা তাদের ফরমের মাধ্যমে জানানো যাবে। চলতি বছরের শুরুতে গুতেরেস এই বিশ্বব্যাপী কথোপকথন শুরু করেছিলেন যাতে সবাই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা এবং আশঙ্কা উভয়ই জানাতে পারেন। এর ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব নেতারা উত্তর দেবেন। এ বিশাল ক্রিয়াকলাপটি জাতিসংঘের একটি উচ্চ-স্তরের বৈঠকের ‘রাজনৈতিক ঘোষণা’ ছিল। এর ওপর ভিত্তি করে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, যেমন ভবিষ্যৎ চাই, যে জাতিসংঘ আমাদের প্রয়োজন। সকলের প্রতি আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনা।

জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেস বলেন, বৈষম্য ও বাধা সত্ত্বেও আমরা হাল ছেড়ে দেই না। কারণ আমরা বৈষম্য হ্রাস করতে জানি। আমাদের আশা, বিশ্বজুড়ে মানুষের সুযোগ ও শান্তি বৃদ্ধি পাবে।
জলবায়ু কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনের দৃঢ়তা, মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম এবং শান্তি উপার্জনের জন্য পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দৃঢ় সংকল্পের কথা ব্যক্ত করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, জাতিসংঘ দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হলো ভাঙা বিশ্বাস পুনর্নির্মাণ করা, আমাদের পৃথিবী নিরাপদ করা, জাতিসংঘ হিসেবে এক থাকার এবং সবার মর্যাদা অটুট রাখার।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশগুলোর প্রায় চার বছরের চেষ্টা ও ধারাবাহিক আলোচনার পর ১৯৪৫ সালের এই দিনে প্রাথমিকভাবে ৪৬টি সদস্য দেশ জাতিসংঘ সনদকে অনুসমর্থন দেয়। ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২৪ অক্টোবরকে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে জাতিসংঘ সনদ অনুমোদনের দিনে ১৯৪৮ সালে এ দিবস পালনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। সে থেকে জাতিসংঘ দিবস ২৪ অক্টোবর বিশ্বের সকল স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে উদযাপিত হয়। দিবসটিতে জাতিসংঘের বৈশ্বিক অর্জন ও উদ্দেশ্যকে জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। ১৯৭১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সদস্য দেশসমূহে দিবসটিকে ছুটির দিন হিসেবে পালনের জন্য সুপারিশ করে।

/এএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ