আবারও দুই ধাপে গুয়ানতানামো কারাগারের বন্দি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত

বিদেশ ডেস্ক
৩১ মার্চ ২০১৬, ১২:১৯আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৬, ১২:১৯
image

গুয়ানতানামো কারাগার আবারও দুই ধাপে কিউবায় অবস্থিত কুখ্যাত মার্কিন বন্দিশালা গুয়ানতানামো বে থেকে বন্দি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, অন্তত দুইটি দেশে ওই বন্দিদের স্থানান্তর করা হবে। কারাগারটি বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই বন্দি স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেসের সামনে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে ওবামা বলেন, ‘গুয়ানতানামো বন্দী শিবিরটি মার্কিন আদর্শের বিপক্ষেই যায়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও কাজেই আসেনি এই কারাগার। অতএব এটা বন্ধ করাই সঠিক কাজ হবে।’ বর্তমানে সেখানে এখনও ৯১ জন বন্দি অবশিষ্ট রয়েছেন। তাদের এখন মার্কিন ভূখণ্ডে কোনও সেনা অথবা বেসামরিক কারাগারে স্থানান্তর করতে চান ওবামা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আলজাজিরা জানায়, সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বন্দিদের একাংশকে কয়েকদিনের মধ্যে অন্য দেশে স্থানান্তর করা হবে। আগামি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্থানান্তর করা হবে আরও কিছু বন্দিকে। এই প্রক্রিয়ায় ৩৭ জন বন্দি স্থানান্তরিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। যারা স্থানান্তরিত হবেন তাদের মধ্যে তারিক বা ওদা নামের ইয়েমেনি এক বন্দিও রয়েছেন। দীর্ঘদিনের অনশনে তিনি তার শরীরের অর্ধেক ভর হারিয়েছেন। তার আইনজীবীরা শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় তার মুক্তি চাইলেও পেন্টাগন বলছে, তাকে যথাযথভাবে দেখাশোনা করা হচ্ছে।

গুয়ানতানামো

গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধে ওবামার নেওয়া সিদ্ধান্তের বিপক্ষে জোরালো অবস্থানে রয়েছে রিপাবলিকানরা। এমনকি ডেমোক্র্যাট শিবিরেও এ নিয়ে রয়েছে অস্বস্তি। তারা নির্বাচনি বছরে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করতে চান না। তবে পেন্টাগন এরইমধ্যে তাদের পরিকল্পনার কথা কংগ্রেসকে জানিয়ে দিয়েছে।

পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র কমান্ডার গে রোজ আলজাজিরাকে বলেন, ‘কবে ওই বন্দিরা স্থানান্তরিত হবে তার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানি না। তবে গুয়ানতানামো বে বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই প্রক্রিয়া চলছে।’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে সময় ফুরিয়ে এসেছে ওবামার। এই বন্দীশিবির বন্ধ করা ছিল তার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। তাই হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে তিনি গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধ করতে চান। মার্কিন সরকার পরিচালিত এই কারাগারটির অবস্থান কিউবায়। এর প্রতিষ্ঠা নাইন ইলেভেন হামলার পরের বছর ২০০২ সালে। কারাগারটি প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের চোখে সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তি অথবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি বলে মনে হয় এমন ৭৮০ জনকে সেখানে বন্দি রাখা হয়।

নানা সময়ে বন্দিদের উপর নির্যাতন ও তাদের অধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। আরেকটি অভিযোগ হলো সেখানে বন্দিদের বিনা বিচারে আটক রাখা হয়। সূত্র: আলজাজিরা, মিডল ইস্ট আই

/বিএ/

সম্পর্কিত
ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা হুথিদের দখলে
আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো আলজেরিয়া
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
আগের সরকারের মেগা দুর্নীতির বিচার কি সম্ভব? 
আগের সরকারের মেগা দুর্নীতির বিচার কি সম্ভব? 
ডেঙ্গুর প্রকোপ: কোথাও সিট আছে, কোথাও নেই
ডেঙ্গুর প্রকোপ: কোথাও সিট আছে, কোথাও নেই
ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা হুথিদের দখলে
ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা হুথিদের দখলে
ধর্ম নিয়ে বিতর্ক: শুভ’র মরদেহ দাফনের নির্দেশ হাইকোর্টের
ধর্ম নিয়ে বিতর্ক: শুভ’র মরদেহ দাফনের নির্দেশ হাইকোর্টের
সর্বাধিক পঠিত
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
রয়টার্স এক্সক্লুসিভডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি