যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসেতে নিজ বাসায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দম্পতির হত্যাকারীদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। তদন্ত শুরুর পর নিহত বাংলাদেশি দম্পতি গোলাম রাব্বি ও শামীমা রাব্বির পরিচিত, বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নিহত দম্পতির বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, ছেলের প্রতি সন্দেহ নয়, হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পেতেই এই জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার স্থানীয় সময় পৌনে দুইটার দিকে পুলিশ নিজ বাসায় রাব্বি (৫৯) ও শামীমার (৫৭) লাশ উদ্ধার করে। বেশ কিছু দিন ধরে কোনও খবর না পেয়ে রাব্বির এক আত্মীয় বাসায় গিয়ে তাদের লাশ দেখতে পান। খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের লাশ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: ঘোড়ায় চড়ে সংসদে আসলেন বিজেপি এমপি
রাব্বি ও শামীমা কয়েক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। রাব্বি পেশায় একজন প্রকৌশলী ও শামীমা হিসাবরক্ষকের কাজ করতেন। তাদের দুটি ছেলে রয়েছে। একজনের বয়স (১৭) ও আরেকজনের (২৩)। লাশ উদ্ধারের সময় তারা কেউই বাসায় ছিলেন না। পুলিশ ছোট ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
মঙ্গলবার রাতে পুলিশ জানিয়েছে, তাদেরকে অন্তত একটি করে গুলি করা হয়েছে। তদন্তকারীরা নিহত দম্পতির বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে। সান জোসে পুলিশের মুখপাত্র আলবার্ট মোরালেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, তদন্তের এই পর্যায়ে নিহত দম্পতির বড় ছেলেকে সন্দেহ করা হচ্ছে না। তবে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে হয়তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছে পাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় সাপ্তাহিক ছুটি ৫ দিন, ২ দিন কাজ
যারা ওই নিহত দম্পতির মরদেহ খুঁজে পান সেই প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা লাশের পাশে কালি দিয়ে একটি বার্তা লেখা ছিল। তাতে লেখা ছিল: ‘দুঃখিত, আমার প্রথম হত্যাকাণ্ড এমন বিভৎস হলো।’
মোরালেস এ ধরনের কোনও বার্তার কথা স্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করেননি। তিনি জানান, গোয়েন্দারা মনে করছেন যেই খুন করে থাকুক তিনি পরিবারের পরিচিত ব্যক্তিই হবেন। মোরালেস বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দারা ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছেন যাতে করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড উন্মোচন ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।’
হত্যাকাণ্ডটির বিষয়ে তথ্যদাতাকে নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: নারীর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে নারী সাধুর অভিনব প্রতিবাদ
নিহত দম্পতির বন্ধু হাসান রহিম স্থানীয় কেটিভিইউ টিভি জানিয়েছেন, রাব্বি শিকার করতে পছন্দ করতেন। ফলে রাব্বির বাসায় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। রাব্বিকে রহিম বলেছিলেন, যদি বাসায় অস্ত্র থাকে তাহলে তোমাকে সতর্ক থাকতে হবে।
স্থানীয় সান ফ্রান্সিসকো ক্রোনিকলের খবরে বলা হয়েছে, নিহত দম্পতির লাশ প্রথমে দেখতে পান তাদের ভাইপো গোলাম মুস্তাকিম। ওই সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ খবর। আমি তাদের খুব কাছের মানুষ ছিলাম। আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার মনে হয় এখনও তারা জীবিত আছেন। আমি চাই তাদের খুনি ধরা পড়ুক। আমি জানতে চাই, কেন এভাবে তাদের হত্যা করা হলো।’
স্থানীয় এভারগ্রিন ইসলামিক সেন্টার ও সাউথ বে ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশনের পুরনো সদস্য ছিলেন রাব্বি ও শামীম। উভয় প্রতিষ্ঠানে পক্ষ থেকে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। তারা স্থানীয় মসজিদের কাছেই বসবাস করতেন এবং তারা খুব ধর্মপ্রাণ ছিলেন বলে দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
/এএ/বিএ/







