পুলিশের এক আত্মীয়কে হত্যার দায়ে দীর্ঘ চার দশক ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সারিতে থাকা ৭১ বছর বয়সী ডগলাস কার্টার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নতুন ডিএনএ পরীক্ষায় অপরাধের সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা না পাওয়ার কথা প্রসিকিউটররা জানানোর পর সোমবার রাতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইউটাহর এক বিচারক ভুক্তভোগী পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও ডগলাস কার্টারকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন। ১৯৮৫ সালে ইভা ওলেসেনকে হত্যার অভিযোগে নতুন বিচার কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় থাকা কার্টারকে জামিনে থাকাকালীন জিপিএস মনিটর পরিধান করতে হবে।
তদন্তকারীদের অসদাচরণের কথা উল্লেখ করে গত বছর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট নতুন বিচারকার্য পরিচালনার নির্দেশ দেন। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে কার্টার দাবি করে আসছেন, তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাস্থল থেকে কোনও আলামত না মিললেও কৃষ্ণাঙ্গ কার্টারকে ওই জবানবন্দি এবং ওলেসেনকে হত্যার বিষয়ে বড়াই করার দাবিদার দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে জুরিরা দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে ওই সাক্ষীরা তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর হাতে পাওয়া ডিএনএ বিশ্লেষণে দেখা যায়, দরজার হাতলে পাওয়া রক্ত এবং ওলেসেনকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করার সময় ব্যবহৃত ছুরির হাতলে থাকা জিনগত উপাদানের সঙ্গে কার্টারের ডিএনএর কোনও মিল নেই।
বিচারক ডেরেক পুলান জানান, এই ফলাফল কার্টারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে, তবে যুক্তিসংগত জুরিরা এখনও মনে করতে পারেন যে কার্টারই ওলেসেনকে হত্যা করেছেন।
কার্টারকে সোমবার রাতে মুক্তি দিয়ে ওলেসেনের পরিবারের সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কার্টারের আইনজীবী নিল হ্যামিল্টন বলেন, তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি আগে প্রকাশ না পেলে আরও ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই কার্টারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে যেতে পারত। তিনি প্রসিকিউটরদের কাছে কার্টারের বিরুদ্ধে থাকা গুরুতর হত্যার অভিযোগটি খারিজের আহ্বান জানান।
হ্যামিল্টনের তথ্য অনুযায়ী, কার্টারকে তার ছেলে টাইলার অ্যাঙ্গারের পরিবারের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি থাকার হোটেলে রাখা হবে। অ্যাঙ্গারকে ছোটবেলায় অন্য একটি পরিবার দত্তক নিয়েছিল। বহু বছর পর তিনি কার্টারের দণ্ডের বিষয়ে জানতে পারেন। কার্টারের আইনজীবী আরও বলেন, দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তার থেরাপির প্রয়োজন হবে।
ইউটাহর কাউন্টি জেলের বাইরে অপেক্ষমাণ অ্যাঙ্গার বলেন, এটি তার জন্য অনেক বড় বিষয়। আমি চাই ডগলাস ঘাসের ওপর তার পা রাখুক। গত ৪০ বছরে সে তা করতে পারেনি।
আগামী বছর দুই মাসব্যাপী পুনর্বিচার হওয়ার কথা রয়েছে, তবে গত সপ্তাহে কাউন্টি প্রসিকিউটররা মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার নোটিশ প্রত্যাহার করে নেন। ইউটাহর কাউন্টি প্রসিকিউটর এরভিন পেতিলো সোমবার বিচারককে জানান, এই মামলার বাকি প্রমাণগুলো মূল্যায়ন করার সময় কার্টারের জামিন পুনর্বিবেচনা করা ‘প্রয়োজনীয় এবং ন্যায়সঙ্গত’।
মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছিল পুলিশ
শিকাগোতে জন্ম নেওয়া কার্টার ১৯৮৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওলেসেনের মৃত্যুর সময় ইউটাহয় তার মায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, একটি ডাকাতির ঘটনায় ওলেসেনকে হত্যার সন্দেহে তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন কার্টার।
পরে ভিন্ন এক হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ইউটাহ থেকে পালিয়ে যান কার্টার এবং ওই বছরের জুনে ন্যাশভিলে গ্রেফতার হন। সেখানে গোয়েন্দাদের জেরার মুখে তিনি একটি জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করেন। কার্টার পরে জানান, পুলিশ বারবার হুমকি দেওয়ায় তিনি মিথ্যা জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
মামলার মোড় ঘোরে ২০১১ সালে, যখন মূল বিচারের দুই সাক্ষীকে মেক্সিকোতে খুঁজে পাওয়া যায়। তারা জানান, আদালতে মিথ্যা বলার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশ তাদের নগদ অর্থ ও উপহার দিয়েছিল। এমনকি কার্টারকে ফাঁস না করলে পুলিশ তাদের ও তাদের সন্তানকে দেশ থেকে বিতাড়নের হুমকি দিয়েছিল বলেও তারা জানান।
পুলিশ ও একজন প্রসিকিউটরের ‘ইচ্ছাকৃত অসদাচরণের বহু ঘটনার’ কথা উল্লেখ করে ইউটাহ সুপ্রিম কোর্ট গত বছর নতুন বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। এরপরই ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবার কার্টারের মুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এ ঘটনায় এখনও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে।
সূত্র: এপি
‘আমি তাদের কিছুই দিইনি’: ইরানকে নিষেধাজ্ঞা-তহবিল ছাড়ের খবর নাকচ ট্রাম্পের
তেলের দাম ফের ছাড়ালো ১০৫ ডলার