X
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

প্রাভা হেলথের সেবা নিয়ে কী ভাবছেন গ্রাহকরা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:০০

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন সায়েদ সাজ্জাদ হোসেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে থেকেই বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবাদান প্রতিষ্ঠান প্রাভা হেলথের শরণাপন্ন হন। সেখানে তিনি করোনা পরীক্ষা করান। সায়েদ সাজ্জাদ হোসেনের মতে, প্রাভা হেলথের সেবার মান বেশ ভালো এবং তিনি তাদের সেবায় সন্তুষ্ট। যার ফলশ্রুতিতে তিনি এখন পুরো পরিবারের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজটি এখানেই সম্পন্ন করেন এবং তিনি নিজেও তিনমাস পর পর রুটিন চেকআপের কাজটি সেখানে করে থাকেন। আগে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে রুটিন চেকআপ করালেও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তিনি প্রাভার সেবা নেন বলে জানান।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তাদের সেবা ফার্স্ট ক্লাস এবং খুব সুইফট সাপোর্ট তারা দেয়। তারা একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান। আমাদের দেশের অনেক হাসপাতালই আমাদের কাছে কীসের জন্য বিল নিচ্ছে, কী দিচ্ছে আমরা জানি না ঠিকভাবে। কিন্তু প্রাভায় দেখেছি, চিকিৎসক যেভাবে রোগীকে সময় দেন, কথোপকথন, টেস্টগুলো যথেষ্ট অথেনটিক এবং হেল্পফুল। সেই জায়গা থেকে প্রাভার প্রতি আমার একটি দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তাই আমি আমার পরিবার, পুরো অফিস এবং পরিচিত যারা আছে তাদের কাছে আমি প্রাভাকে পরিচিত করিয়েছি।

প্রাভা হেলথ একটি 'ব্রিক এবং ক্লিক' স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম। প্ল্যাটফর্মটি গতানুগতিক স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে টেকনোলজিকে একত্রিত করেছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও মূলত করোনা পরীক্ষার কারণে আলোচনায় আসে এই প্রতিষ্ঠান। বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহের সেবা দিয়ে আসছে তারা বরাবরই। প্রাভা হেলথের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল করোনা টেস্টের ভুল রিপোর্ট দেওয়ার। ফলশ্রুতিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর ২২ দিন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। ৪টি যৎসামান্য ক্ষেত্রে পর্যালোচনা ও মান উন্নয়ন সাপেক্ষে স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিষ্ঠানটিকে আবার তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার অনুমতি দেয়।

গত জুলাইতে এক ব্যক্তির বিদেশগামী পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনায় আসে প্রাভা হেলথ। প্রাভা হেলথে ওই ব্যক্তির পরিবারের করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এলে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে করোনা পরীক্ষা করান। সেখানে ফলাফল নেগেটিভ আসে। সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুরো পরিবারের করোনা পরীক্ষা করান একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখানেও সবার ফলাফল নেগেটিভ আসে। যার ফলে তিনি মনে করেছেন— ভুল রিপোর্ট দিয়েছে প্রাভা হেলথ।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি টেকনিক্যাল কারণে এক জায়গায় পজিটিভ এবং আরেক জায়গায় নেগেটিভ আসতে পারে। এর আগেও গেল বছরের জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্রগামী এক যাত্রীর নেগেটিভ এবং তার স্ত্রীর পজিটিভ এসেছিল। একই বাসায় একসঙ্গে থেকে দুজনের দুরকম ফল পাওয়ায় তিনি পুনরায় অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করান। সেখানে তার স্ত্রীর ফল নেগেটিভ আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকনিক্যালি ফলস পজিটিভ অথবা ফলস নেগেটিভ দুটোই হতে পারে। তবে সাধারণত ফলস পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা কম, ফলস নেগেটিভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যেকোনও ডায়াগনস্টিক টেস্টের ক্ষেত্রে ফলস নেগেটিভ কিংবা ফলস পজিটিভ হওয়ার ঝুঁকি আছে। সারা বিশ্বে ২ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত ফলস নেগেটিভ রিপোর্ট আসার রেকর্ড আছে। ভাইরাল কন্টেমিনেশনের কারণে ফলস পজিটিভ আসতে পারে তবে ফলস নেগেটিভ আসার পেছনে রয়েছে অনেকগুলো কারণ।

ফলস নেগেটিভ কেন আসতে পারে এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পিসিআর প্রযুক্তির বিশেষজ্ঞ ও প্রাভা হেলথ-এর সিনিয়র ল্যাব ডিরেক্টর ডা. জাহিদ হুসেন বলেন, এটা স্বীকার করতেই হবে যে, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার কোনও ফলাফলই নিখুঁত নয়। বিশেষ করে SARS-CoV-2-এর মতো একটি নতুন ভাইরাসের ক্ষেত্রে। এমনকি বিশ্বের সেরা ল্যাবগুলোতেও কোনও পরীক্ষা ১০০ ভাগ নির্ভুল নয়। অন্য যে কোনও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মতো, COVID-19 এর জন্য RT-PCR পরীক্ষাগুলোর ফলাফলগুরোতেও কিছু অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে। এমনও আশঙ্কা আছে যে, কারও ভাইরাস আছে কিন্তু পরীক্ষায় ফলস নেগেটিভ আসতে পারে। আবার কারও সংক্রমণ নেই, তারপরও ফলস পজিটিভ আসতে পারে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রাভা হেলথ এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি রোগীকে সেবা দিয়েছে। পাশাপাশি দেড় লাখেরও বেশি করোনার নমুনা পরীক্ষা করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাভা হেলথ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (চেয়ার) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিলভানা কিউ সিনহা বলেন, আমাদের দেশে কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাভা হেলথ সক্রিয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখন পর্যন্ত দেশের ৩ শতাংশেরও বেশি কোভিড পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এখানে। আমরা বিনীতভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের সবাইকে যারা তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। প্রাভা হেলথ শুধু ল্যাব পরীক্ষায় নয়, অন্যান্য সকল পরিষেবার মাধ্যমেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রোগীদের সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিইও আরও বলেন, ‘আমাদের অন্যান্য সেবার মধ্যে রয়েছে—বিশ্বমানের ডাক্তারদের সঙ্গে ক্লিনিকে এসে বা ভিডিও কনসালটেশানের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ, ক্লিনিকে এসে ইমেজিং, বাসা থেকে বা ক্লিনিকে এসে নন-কোভিড টেস্টিং, এবং ফার্মাসি আর ই-ফার্মা পরিষেবা।’

শুধু সাজ্জাদ হোসেন নন, তার মতো সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন আরও অনেকে। প্রাভা হেলথ থেকে করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, প্রাভার সার্ভিস আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। আমি তাদের করোনার নমুনা বাসা থেকে সংগ্রহ করার সেবাটি নিয়েছিলাম। আমার পুরো পরিবার গত মার্চে করোনা আক্রান্ত ছিল। সে সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমার মাকে নিয়ে পরীক্ষা করতে যাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। তাই আমি তাদের কল করেছিলাম বাসা থেকে স্যাম্পল নেওয়ার জন্য। প্রাভার অফিসে গিয়েও সেবা নিয়েছি। অন্যান্য টেস্টও তাদের প্রতিষ্ঠানে করিয়েছি। আমার কাছে তাদের সেবা বেশ ভালো মনে হয়েছে।’

আরেক সেবাগ্রহীতা মনিরুজ্জামান খান জানান, আমার মতে এখন সেরা সেবাটি প্রাভা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যখনই প্রয়োজন হয়েছে তারা তাদের বেস্ট সার্ভিস দিয়েছে। আমাদের কোম্পানির সবারই করোনার পরীক্ষা প্রাভা হেলথ করেছে।

 

/এফএ/
সম্পর্কিত
সোমবার বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৫৫ হাজার জন
সোমবার বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৫৫ হাজার জন
রাজধানীতে আরও ২ ডেঙ্গু রোগী 
রাজধানীতে আরও ২ ডেঙ্গু রোগী 
ডাক্তার পদবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞায় আপত্তি হোমিও চিকিৎসকদের
ডাক্তার পদবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞায় আপত্তি হোমিও চিকিৎসকদের
বুস্টার ডোজে বয়সসীমা কমেছে
বুস্টার ডোজে বয়সসীমা কমেছে

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
করোনায় তিন সপ্তাহের শিশুর মৃত্যু
করোনায় তিন সপ্তাহের শিশুর মৃত্যু
চট্টগ্রামে মৃত্যু শূন্য দিনে ৭৩৮ জনের করোনা শনাক্ত
চট্টগ্রামে মৃত্যু শূন্য দিনে ৭৩৮ জনের করোনা শনাক্ত
রাঙামাটিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ
রাঙামাটিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ
সোমবার বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৫৫ হাজার জন
সোমবার বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৫৫ হাজার জন
রাজধানীতে আরও ২ ডেঙ্গু রোগী 
রাজধানীতে আরও ২ ডেঙ্গু রোগী 
© 2022 Bangla Tribune