X
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪
৩ আষাঢ় ১৪৩১

হাসিখুশি থাকাও হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৮:৫৬আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৮:৫৬

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ভালোবাসা দিয়ে প্রতিটি হৃদয়ের যত্ন নিন’ প্রতিপাদ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিশ্ব হার্ট দিবস-২০২৩ পালিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও একটি সিএমই আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগ ও শিশু হৃদরোগ বিভাগ।

কর্মসূচির শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-ব্লকের সামনে থেকে শুরু হয়ে সি-ব্লক অতিক্রম করে বেসিক সায়েন্স ভবন, টিএসসি ও এ-ব্লক ঘুরে বি-ব্লকের সামনে শেখ রাসেল ফোয়ারায় গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগ ও শিশু হৃদরোগের বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা ও নার্সরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত সিএমই আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগ। সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটো।

সিএমইতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান। সিএমইতে প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে মতামত প্রদান করেন ইউজিসি অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক, শিশু হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তারিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম ইয়ার ই মাহাবুব, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রসুল আমিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি ও পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিট স্থাপন প্রকল্প পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সব হার্টের রোগীর ইন্টারভেনশন প্রয়োজন নেই। ইদানীং একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে তাদের কাছে রোগী এলেই অপারেশন (ইন্টারভেনশন) করা। প্রসঙ্গক্রমে একটা কথা উল্লেখ করতে চাই যে আগে চোখের ক্যাটারেক্ট ( ছানি) হলেই চিকিৎসকরা বলতেন, ক্যাটারেক্ট ম্যাচিউরড হলে ইন্টারভেনশ করো। ইম্যাচিউরড অবস্থায় করা যাবে না। কিন্তু এখন ইম্যাচিউর্ড অবস্থায়ও করা হচ্ছে। যেটা ইথিক্যালি ঠিক না। চিকিৎসাসেবা প্রদানে অবশ্যই চিকিৎসকদের এথিকস মেনে চলতে হবে।

উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় শিশু হৃদরোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে কাজ করছে। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হৃদরোগ বিভাগে ৭ শতাধিক শিশুর হৃদরোগের অপারেশন করা হয়েছে। শিশুরা যাতে রোগে না ভোগে, শিশুরা যাতে ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ না করে, সে জন্য মাতৃগর্ভে থাকতেই তা স্ক্রিনিং করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া কার্যক্রম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু করেছে।

সিএমইতে বলা হয়, প্রতি দেড় সেকেন্ডে এক জন লোক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ জন লোক নন কমিউনিক্যাবল ডিজিজেসে মৃত্যুবরণ করেন। তার মধ্যে ৩০ শতাংশ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

বক্তারা বলেন, হার্ট ব্লক হলেই ইন্টারভেনশন করা যাবে না। অনেক হার্ট ব্লক আছে যেসব ওষুধের দ্বারা ভালো রাখা যায়। হৃদরোগ প্রতিকারের চেয়ে সবাই প্রতিরোধের দিকে অধিক গুরুত্বারোপ করেন। এ জন্য নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিয়মিত ঘুম, লবণ না খাওয়া, স্ট্রেস না থাকা ও ধূমপান না করলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। ধূমপান নিরোধের আইন প্রয়োগ করা কথা জানানো হয়।

বর্তমানে দেশের হৃদরোগীর ব্যস্থাপনা খুব ভালো হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মৃত্যুর যেসব কারণ রয়েছে, তার মধ্যে হৃদরোগ ১ নম্বর থেকে ৪ নম্বরে নেমেছে। হৃদরোগের প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো সঠিক নিয়মে দৈনন্দিন জীবনযাপন করা। হাসিখুশি থাকাও হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বর্তমানে জীবনে শান্তি কামনায় মেডিটেনশ কাজ করে। শান্তিময় জীবন যাবনে আধুনিক বিশ্বে মেডিটেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

/এসও/এনএআর/
সম্পর্কিত
গাজীপুরে ফজিলাতুন নেছা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রী
ঈদের ছুটিতে বিএসএমএমইউ’র জরুরি ও অন্তর্বিভাগ খোলা
কোরবানির পশুর হাটে ভেটেরিনারি সেবা দেওয়া হবে
সর্বশেষ খবর
শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যার পরিকল্পনাকারী ভারতীয় সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ
শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যার পরিকল্পনাকারী ভারতীয় সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ
কাঁচা চামড়ার দাম এবার কত বেশি পেলো বিক্রেতারা
কাঁচা চামড়ার দাম এবার কত বেশি পেলো বিক্রেতারা
যত্রতত্র কাঁচা চামড়া কেনাবেচা, ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
যত্রতত্র কাঁচা চামড়া কেনাবেচা, ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই কোরবানির পশুর বর্জ্যমুক্ত চট্টগ্রাম
নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই কোরবানির পশুর বর্জ্যমুক্ত চট্টগ্রাম
সর্বাধিক পঠিত
জাপান যাওয়ার পথে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিমান ভেঙে পড়েছে
জাপান যাওয়ার পথে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিমান ভেঙে পড়েছে
ঈদের ৫ ছবি: ১২৯ প্রেক্ষাগৃহে ‘তুফান’, ৩৫টিতে বাকি ৪!
ঈদের ৫ ছবি: ১২৯ প্রেক্ষাগৃহে ‘তুফান’, ৩৫টিতে বাকি ৪!
নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে বাংলাদেশ
নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে বাংলাদেশ
সুপার এইটে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা, ম্যাচ কবে?
সুপার এইটে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা, ম্যাচ কবে?
রাশিয়া ইউক্রেন ত্যাগ করলে আগামীকালই শান্তি আলোচনা হবে: জেলেনস্কি
রাশিয়া ইউক্রেন ত্যাগ করলে আগামীকালই শান্তি আলোচনা হবে: জেলেনস্কি