ট্রাভেলগসোফিয়ার আলেকজান্ডার নেভস্কি গির্জায় একদিন

Send
রাকিব হাসান, স্লোভেনিয়া
প্রকাশিত : ২১:৩২, জুন ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৫, জুন ২৫, ২০২০

ক্যাথেড্রাল সেন্ট আলেকজান্ডার নেভস্কিসোফিয়ার কথা বললে কারও নাম মনে হতে পারে। গ্রিক পুরাণে সোফিয়া হচ্ছেন জ্ঞানের দেবী। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত ৪২ হাজার ৮৫৮ বর্গমাইলের ছোট দেশ বুলগেরিয়ার রাজধানীর নামও সোফিয়া।

ইন্টারনেটে ‘সোফিয়া, বুলগেরিয়া’ লিখে সার্চ দিলে প্রথমে চলে আসে বিখ্যাত একটি গির্জার ছবি। এর নাম আলেকজান্ডার নেভস্কি ক্যাথেড্রাল। বুলগেরিয়ার বেশিরভাগ মানুষই অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্মালম্বী হওয়ায় তাদের ব্যক্তিগত জীবনে এই গির্জার প্রভাব ব্যাপক।

বুলগেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে আলেকজান্ডার নেভস্কি ক্যাথেড্রাল। ১৮৭৯ সালে তুরস্কের অটোমান শাসকদের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে বুলগেরিয়া। কিন্তু যুদ্ধ করার জন্য তেমন কোনও সুসংগঠিত সামরিক বাহিনী ছিল না দেশটির। তখন বলকান অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে অটোমানদের বিরুদ্ধে লড়তে বুলগেরিয়াকে সামরিক শক্তি দিয়ে সাহায্য করে রাশিয়া।

স্বাধীনতা অর্জনের পর রুশদের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এবং যুদ্ধে নিহতদের স্মরণে ক্যাথেড্রাল সেন্ট আলেকজান্ডার নেভস্কি নির্মাণ করে বুলগেরিয়া। এজন্য লেগেছে প্রায় ৩০ বছর। ১৯২৪ সালে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

রাশিয়ার ভেলিকি নভগরদের রাজকুমার ও ধর্মযাজক আলেকজান্ডার নেভস্কির নামানুসারে গির্জার নাম রাখা হয়। এটি বর্তমানে পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় অর্থোডক্স গির্জাগুলোর একটি। প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য পর্যটক এর অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী দেখতে আসে।

গির্জাটি বাইরে থেকে দেখতে অসাধারণ। ভেতরেও রয়েছে নিপুণ শিল্পকর্মের উপস্থিতি। যিশুখ্রিস্ট ও মাদার ভার্জিন মেরিসহ বাইবেলে ওল্ড টেস্টামেনে বর্ণিত বিভিন্ন চরিত্রের চিত্রকর্ম দেখা যায় এখানে। কাঠের ও বিভিন্ন ধাতুর তৈরি জিনিসের ওপর খোদাই করা নানান নকশা এবং হরেক রকম ঝাড়বাতি দিয়ে ভেতরটা সাজানো হয়েছে।

আলেকজান্ডার নেভস্কি ক্যাথেড্রালের ভেতরে ঢুকতে কোনও টিকিট লাগে না। তবে ছবি তুলতে হলে নির্দিষ্ট একটি ফি দিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়।

ক্যাথেড্রাল সেন্ট আলেকজান্ডার নেভস্কিইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিচায় পড়াশোনার জন্য ইউরোপের মাটিতে পা রাখার পর বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ায় প্রথম ভ্রমণে বেরিয়েছিলাম। স্লোভেনিয়া একইসঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত, তাই আলাদা কোনও ভিসা লাগেনি।

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের ফেরেন্স লিস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উইজএয়ারে মাত্র ২০ ইউরোতে (২ হাজার টাকা) সোফিয়া যাওয়ার টিকিট পেয়েছি। আকাশপথে বুদাপেস্ট থেকে সোফিয়া পৌঁছাতে লেগেছে দেড় ঘণ্টার মতো।

সোফিয়ার একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আলেকজান্ডার নেভস্কি ক্যাথেড্রাল। সোফিয়া ইউরোপের অন্যান্য রাজধানী শহর থেকে আলাদা। বুলগেরিয়া সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্যপদ লাভ করেছে, তবুও দেশটিতে এখনও সোভিয়েতের ছাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে দেশটির বিভিন্ন স্থাপত্যে এখনও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব লক্ষ্যণীয়। এছাড়া দীর্ঘদিন অটোমান শাসনের অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে বুলগেরিয়ার আচার-কৃষ্টিতে অটোমানদের আবহ পাওয়া যায়।

স্বপ্নের ইউরোপে কম বাজেটে যদি কোনও দেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে তাহলে বুলগেরিয়া ও রোমানিয়াকে তালিকায় রাখতে পারেন অনায়াসে।

ছবি: লেখক
আরও পড়ুন-

মনোমুগ্ধকর সোচা নদীর ওপর সোলকান ব্রিজের স্থাপত্যশৈলী




/জেএইচ/
টপ