দুই চিকিৎসকের ক্ষমা প্রার্থনা

মেডিক্যাল রিপোর্টের কারণে ধর্ষণে অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না: হাইকোর্ট

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২১ নভেম্বর ২০২১, ২৩:০৪আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪৪

ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী নারীর মেডিক্যাল রিপোর্টে সঠিক তথ্য উঠে না আসায় দুই চিকিৎসক হাইকোর্টে ক্ষমা চেয়েছেন। এসময় আদালত বলেন, আমরা ক্ষমা করতে বসিনি, বিচার করতে বসেছি। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক রিপোর্ট দেওয়ার কারণেই ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। 

ধর্ষণ মামলার এক আসামির জামিন আবেদনের শুনানিকালে রবিবার (২১ নভেম্বর) বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শামীম খান, উর্বশী বড়ুয়া, এ কে এম নূরনবী সুমন ও সাফায়েত জামিল। আর আসামি রাবিয়া খাতুনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ হবিগঞ্জের লাখাইয়ে বান্ধবীর বিয়েতে যান ভুক্তভোগী নারী।  সেখানে বখাটেদের দ্বারা উত্যক্তের শিকার হন এই নারী। পরে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ১২ মার্চ তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ লাখাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী। ওই মামলায়  শিপন মিয়া (২২),  পারভেজ (২০),  হুমায়ুন মিয়া (২০),  শাহজাহান (২২), আফিয়া আক্তার (৩০), দেলোয়ার হোসেন দিলু (৪৫) ও রাবিয়া খাতুনকে (৩৫) আসামি করা হয়। এর মধ্যে প্রথম চার আসামি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। অপর আসামিরা এ কাজে সহায়তা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ওই মামলায় হাইকোর্টে জামিন চান গ্রেফতারকৃত আসামি রাবিয়া খাতুন। আবেদনের শুনানিকালে ভুক্তভোগী নারীর শরীরে ধর্ষণের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি মর্মে মেডিক্যাল রিপোর্টটি হাইকোর্টের নজরে আসে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিক্যাল রিপোর্টটি দেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের দুই চিকিৎসক ডা. মোমিন চৌধুরী ও ডা. নাদিরা বেগম।

এরপর হাইকোর্ট দুই চিকিৎসককে তলব করেন। রবিবার (২১ নভেম্বর) ওই দুই চিকিৎসক আদালতে হাজির হয়ে রিপোর্টের পক্ষে মৌখিক ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু আদালত ওই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে আদেশ দিতে চান। এ সময় চিকিৎসকরা আদালতের কাছে ক্ষমা চান।

তখন হাইকোর্ট বলেন, আমরা ক্ষমা করতে বসিনি, বিচার করতে বসেছি। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক রিপোর্ট দেওয়ার কারণেই ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। ধর্ষকরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের উচিত ধর্ষণের ঘটনায় গুরুত্বসহ ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা। যাতে ধর্ষকরা পার পেয়ে না যায়। এরপর আদালত দুই চিকিৎসককে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেন।

/বিআই/এমআর/
সম্পর্কিত
এক মামলায় দীপু মনির জামিন, ছয়টিতে রুল
বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা নেই
বিসিবি নির্বাচন: তফসিল ও ভোটার তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম