X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

প্রধান বিচারপতির বিদায় সংবর্ধনা বর্জনের ব্যাখ্যা দিলেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:৫৩

দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বিদায় সংবর্ধনায় না থাকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বিএনপি সমর্থিত নেতারা। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) এই অনুষ্ঠানে অবজ্ঞার প্রতিবাদে সংগঠনটির সদস্যরা যাননি বলে দাবি করা হয়েছে। সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। আজ প্রধান বিচারপতির শেষ বিচারিক কার্যদিবসে তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘চিরাচরিত রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির বিদায় অনুষ্ঠানের তিন-চার দিন আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সদস্যদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সমিতির সভাপতি-সম্পাদককে অবহিত করা হয়ে থাকে এবং সদস্যরা আমন্ত্রণ পান। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো হয়। সমিতিও সদস্যদের প্রধান বিচারপতির বিদায় সংবর্ধনায় যোগদানের অনুরোধ করে। কিন্তু গতকালের (১৪ ডিসেম্বর) কর্মদিবস পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে সমিতিকে জানানো হয়নি। এটি সমিতির প্রত্যেক সদস্যের জন্য চরম অবজ্ঞার শামিল। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে এসএমএসের মাধ্যমে আজকের সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে সাংবাদিক ও সমিতির সদস্যদের অবহিত করা হয়। এসএমএস দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে সম্পাদককে ফোনে জানান, আজ (বুধবার) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রধান বিচারপতির বিদায় অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু আমাদের করণীয় কী বা সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে কোনও কিছু বলেননি তিনি। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদস্বরূপ সংবর্ধনায় যোগদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২১-২০২২ কার্যকরী কমিটি গত ১২ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু গত ১৪ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে সংগঠনের সভাপতি পদ শূন্য রয়েছে। সভাপতির অবর্তমানে দুই জন সহ-সভাপতি নিয়ে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ও সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ।

ব্যারিস্টার কাজলের মন্তব্য, ‘যেকোনও অনুষ্ঠানে সভাপতির অবর্তমানে সিনিয়র সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করবেন, এটাই সাংবিধানিক রীতি। অথচ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রমাগতভাবে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বর্তমান সভাপতি হিসেবে সম্বোধন করা হয়ে থাকে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সুপ্রিম কোর্ট দিবসের আমন্ত্রণপত্রেও তাকে সমিতির সভাপতি আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও সমিতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার অপপ্রয়াস।’

সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বিদায় অনুষ্ঠানে তার কার্যকালের সফলতা-ব্যর্থতা, সমিতির সদস্যদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন ব্যারিস্টার কাজল। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্দশা, ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম, হাইকোর্ট প্রদত্ত জামিনাদেশ ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের অহরহ স্থগিতাদেশের কারণে সৃষ্ট মামলা জট ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি, সমিতির অভ্যন্তরে স্থাপিত সুপ্রিম কোর্টের কর্মীদের জন্য অস্থায়ী টিনশেড উচ্ছেদ, সমিতি কর্তৃক নির্মাণাধীন ভবন-২০২০-এর ওপর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সমিতির সদস্যদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানোর ইচ্ছে ছিল সংগঠনের সদস্যদের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সুযোগ থেকে সুকৌশলে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করেন সমিতির বিএনপি সমর্থিত নেতারা।

/বিআই/জেএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
হজ ফ্লাইটের জন্য অন্য রুটের ফ্লাইট কমাবে বিমান
হজ ফ্লাইটের জন্য অন্য রুটের ফ্লাইট কমাবে বিমান
তাইওয়াকে রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপ: বাইডেন
তাইওয়াকে রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপ: বাইডেন
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশ ন্যাপের
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশ ন্যাপের
স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন
স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত