গোপন ক্যামেরায় ছবি-ভিডিও ধারণ: আইনে বৈধতা কতটুকু

রিনা আকতার তুলি
২৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:২৫আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৪

গোপন ক্যামেরায় ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ধারণ ও কথোপকথন রেকর্ডের ঘটনা ইদানীং হারহামেশাই ঘটছে। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি অনেকেই ‘ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন স্বার্থে’ গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি, ভিডিও ও কথোপকথন ফেসবুক, ইউটিউব ও হোয়াটঅ্যাপ গ্রুপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সংবিধানে প্রদত্ত ব্যক্তিগত অধিকারও লঙ্ঘিত হচ্ছে।

গোপন ক্যামেরার ব্যবহার প্রকৃত অর্থে কতটা আইনসংগত—এ প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, কোনো ব্যক্তির অজান্তে বা সম্মতি ছাড়া তার ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ বা তা প্রচার করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তাদের মতে, এটি একটি ক্রিমিনাল অফেন্স। এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোনো স্থাপনা, শপিংমল, পার্লার বা রেস্টুরেন্টে গোপন ক্যামেরা থাকলে উপস্থিত ব্যক্তিদের অবশ্যই মৌখিকভাবে জানাতে হবে। গোপন ক্যামেরায় ছবি-ভিডিও ধারণ করা একটি মারাত্মক অপরাধ। এ ধরনের ক্যামেরা পাওয়া গেলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

সম্প্রতি সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আলোচিত ঘটনা

সোমবার রাত থেকে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বিকালে নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে একটি ‘স্পাই ক্যামেরা’ (কলমে লাগানো) স্থাপন করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কখনও বিউটি পার্লারে, কখনও বুটিক শপের চেঞ্জিং রুমসহ বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন নারীরা।

আইন কী বলে

জানতে চাইলে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন ফারুক বুধবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গোপন ক্যামেরায় ছবি-ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা বা কোনো অনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে এ-সংক্রান্ত একটি ধারা ও শাস্তির বিধান সংযুক্ত করার জন্য কাজ চলছে।

তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন, বিচার এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে নতুনভাবে বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শেষ হবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা মঙ্গলবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ফোন রেকর্ড ফাঁস হলে তা সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় আসবে। তবে জামায়াতের ওই এমপির ঘটনাটি মূলত ‘রাইট টু প্রাইভেসি’র বিষয়। এ ক্ষেত্রে গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়ে থাকলে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ প্রযোজ্য হবে।

এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বুধবার দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গোপন ক্যামেরায় ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ধারণ ও কথোপকথন রেকর্ড করা একটি গর্হিত অপরাধ। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনও। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও কারও ছবি প্রকাশ করতে হলে অবশ্যই তার অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া কারও ছবি-ভিডিও প্রকাশ করা বড় ধরনের অপরাধ।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি-ভিডিও প্রকাশের ঘটনা বাড়ছে, যা মানহানির পর্যায়ে পড়ে। এ বিষয়ে একজন নাগরিক সাংবিধানিকভাবে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন।’

সরকারের উচিত সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে আরও জোরালোভাবে কাজ করা। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
ধানমন্ডি ২৭-এ তো পানি জমার কথা ছিল না, তাহলে কেন জলাবদ্ধতা?
বন্যা-পরবর্তী নয়, বন্যার আগেই প্রস্তুতি: মিরপুরে ‘প্রজেক্ট প্রত্যাশা’র কার্যক্রম
রাজধানীর দুই থানায় নতুন ওসি
সর্বশেষ খবর
ক্লাবের হয়ে না খেলে পোকার টুর্নামেন্টে, আবার বিতর্কে নেইমার!
ক্লাবের হয়ে না খেলে পোকার টুর্নামেন্টে, আবার বিতর্কে নেইমার!
শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় কেঁদেছিলেন র‌্যাব কর্মকর্তাও, সেই আসামির মৃত্যুদণ্ড
শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় কেঁদেছিলেন র‌্যাব কর্মকর্তাও, সেই আসামির মৃত্যুদণ্ড
পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠালো সরকার
পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠালো সরকার
উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইউজিসি
উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইউজিসি
সর্বাধিক পঠিত
ভুলে চার মাস কারাভোগ, ৩০ লাখ টাকা পেলেন ভুক্তভোগী
ভুলে চার মাস কারাভোগ, ৩০ লাখ টাকা পেলেন ভুক্তভোগী
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী
দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
জামায়াতের আরেক নেতার পদ স্থগিত
জামায়াতের আরেক নেতার পদ স্থগিত