জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন আসামি মো. মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনি এবং তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২। এসময় ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব বলছে, অভিযুক্ত প্যারা পনির বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৩টি মামলা রয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
র্যাব জানায়, রবিবার নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-২ জানতে পারে, ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারী স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন (৫৫) হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ ছিনতাইকারীরা রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে র্যাব-২-এর একটি আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি ও ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা মো. মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনিকে তার সহযোগী সেড্রিক এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ আটক করে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আটক করা হয়।
ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার দিন মোটরসাইকেলটি পনি গাজীর হেফাজতে ছিল। নিহতের স্বামী আব্দুল মতিনও ঘটনাস্থলে এই মোটরসাইকেলটি ব্যবহৃত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবারী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্বামীর সঙ্গে গাবতলী থেকে রিকশাযোগে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। রিকশাটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে আসলে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী পেছন থেকে রনজিনা পারভীনের ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে নিচে পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন অজ্ঞাতনামা দুই ছিনতাইকারীকে আসামি করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শেরেবাংলা নগর থানার মামলা নম্বর ২৩, তারিখ
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দিগ্ধ পনি গাজী একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজধানীর তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৩টি মামলা রয়েছে।
র্যাব বলছে, পনির বিরুদ্ধে ডিএমপির হাতিরঝিল, আদাবর ও কাফরুল থানায় মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে। ডিএমপির ভাটারা, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, বাড্ডা ও শাহজাহানপুর থানায় চুরি, সিঁধেল চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ছয়টি মামলা রয়েছে। আর ডিএমপির আদাবর, খিলগাঁও ও কামরাঙ্গীরচর থানায় চুরি ও সিঁধেল চুরির তিনটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে চাঁদপুর মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণের একটি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।









