চিৎকার করেও উদ্‌যাপন হয় দিবস! জেনে নিন বিশেষ এই দিবসের কথা

জীবনযাপন ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০৭ আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০৭

এক কাপ কফি ছলকে পড়েছে, যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কিংবা একের পর এক কাজের চাপে হাঁসফাঁস অবস্থা! মনে হচ্ছে, আর পারছেন না। ইচ্ছে করছে প্রাণ খুলে চিৎকার করে সব রাগ, বিরক্তি আর হতাশা উগরে দিতে। এমন অনুভূতি কি আপনারও হয়? তা হলে জেনে রাখুন, মনের এই অবস্থার জন্যও রয়েছে একটি বিশেষ দিবস- ‘আন্তর্জাতিক হতাশায় চিৎকার দিবস’।

নাম শুনে একটু অবাক লাগলেও, দিবসটির মূল ভাবনা বেশ সহজ। প্রতিদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে জমে থাকা মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলতে কয়েক মুহূর্তের জন্য থামুন। তারপর নিরাপদ ও নিরিবিলি কোনও খোলা জায়গায় গিয়ে প্রাণ খুলে চিৎকার করুন। এখানে নেই ধ্যানের কঠিন নিয়ম, নেই ডায়েরিতে মনের কথা লেখার বাধ্যবাধকতা। শুধু নিজের কণ্ঠস্বর আর মনের ভার কিছুটা হালকা করার সুযোগ।

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এই দিবসের আকর্ষণ ঠিক এখানেই। চিৎকার করার সময় নিজেকে সুন্দর দেখানোর চিন্তা নেই, সামাজিক মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও প্রকাশেরও প্রয়োজন নেই। কয়েক সেকেন্ডের একটি চিৎকারের মধ্য দিয়ে নিজের জমে থাকা বিরক্তি প্রকাশ করাই এর উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক হতাশায় চিৎকার দিবসের ইতিহাস

আন্তর্জাতিক হতাশায় চিৎকার দিবসের সূচনা করেন রুথ ও থমাস রয়। তাঁদের সংস্থা ‘ওয়েলক্যাট হলিডেজ’ বিভিন্ন ব্যতিক্রমী ও অভিনব দিবস উদ্‌যাপনের ধারণা তৈরির জন্য পরিচিত। তাঁদেরই একটি মজার ভাবনা থেকে এই দিবসের প্রচলন।

দিবসটির উদ্দেশ্য, মানুষকে একসঙ্গে চিৎকার করার মাধ্যমে মনের মধ্যে জমে থাকা হতাশা প্রকাশের একটি উপলক্ষ করে দেওয়া। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুসারে দুপুর ১২টায় বাইরে বেরিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে চিৎকার করার কথা বলা হয়। এ সময় কোনও বক্তব্য বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। শুধু খোলা আকাশের দিকে মুখ তুলে প্রাণ খুলে চিৎকার।

২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে দিবসটির আনুষ্ঠানিক প্রচলন শুরু হয় বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন ক্যালেন্ডার, রেডিও অনুষ্ঠান এবং ব্যতিক্রমী দিবস নিয়ে তৈরি বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এটি পরিচিতি পায়।

নামটি মজার হলেও, এর পেছনের ভাবনাটি মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিনের দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের আবেগ প্রকাশের সুযোগ পান না। এই দিবস সেই অনুভূতিগুলো স্বীকার করে নেওয়ার কথা বলে।

যেভাবে পালন করবেন আন্তর্জাতিক হতাশার চিৎকার দিবস

দিবসটি পালন করতে চাইলে নিজের সুবিধা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন কয়েকটি মজার উপায়।

১. খোলা প্রকৃতির মাঝে চিৎকার করুন

বাড়ির বাইরে কোনও খোলা মাঠ বা নিরিবিলি জায়গা বেছে নিন। গ্রামীণ পরিবেশ, শান্ত সমুদ্রসৈকত কিংবা নির্জন কোনও খোলা প্রান্তর হতে পারে উপযুক্ত স্থান। তবে এমন জায়গা বেছে নিন, যেখানে আপনার চিৎকারে অন্যদের অসুবিধা হবে না এবং আপনি নিজেও নিরাপদ বোধ করবেন।

খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে গভীর শ্বাস নিন। তারপর নিজের মতো করে চিৎকার করে মনের জমে থাকা বিরক্তি প্রকাশ করুন।

২. বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে চিৎকার করুন

একা চিৎকার করতে অস্বস্তি লাগলে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন। সবাই মিলে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন, তারপর একসঙ্গে গুনে শুরু করুন চিৎকার। খোলা ও নিরিবিলি জায়গা এ ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প।

একসঙ্গে এমন অদ্ভুত একটি অভিজ্ঞতায় অংশ নিলে পরিবেশে হাসি-ঠাট্টাও যোগ হতে পারে। বন্ধুত্বের আড্ডায় এটি হয়ে উঠতে পারে নতুন ধরনের মজার সংযোজন। তবে আশপাশের মানুষের শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রাখুন।

৩. বালিশে মুখ গুঁজে চিৎকার করুন

বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই? ঘরেই থাকতে পারেন। একটি বালিশে মুখ গুঁজে চিৎকার করলে শব্দ কিছুটা কম ছড়াতে পারে। তবে বালিশ দিয়ে নাক-মুখ শক্ত করে ঢেকে রাখবেন না, যাতে শ্বাস নিতে কোনও অসুবিধা না হয়।

এই পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত পরিসরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। কয়েক মুহূর্তের জন্য দৈনন্দিন কাজ থেকে বিরতি নিয়ে নিজের মনের অবস্থার দিকে মনোযোগ দিন।

৪. পছন্দের গানে মেতে উঠুন

মনের অবস্থা অনুযায়ী পছন্দের গান বেছে নিন। গলা ছেড়ে গান গাইতে পারেন, সুর ঠিক থাকল কি না, তা নিয়ে ভাবার দরকার নেই। ইচ্ছে হলে ঘরের মধ্যে নাচুন, শরীরকে সচল রাখুন।

অনেকের ক্ষেত্রে গান শোনা, গাওয়া বা হালকা নড়াচড়া মন ভালো করতে সাহায্য করে। গান শেষ হলে ইচ্ছে করলে নিরিবিলি জায়গায় একবার চিৎকারও করে নিতে পারেন।

৫. চিৎকার রেকর্ড করুন, তারপর মুছে ফেলুন

নিজের ফোনে চিৎকার রেকর্ড করে পরে মুছে ফেলতে পারেন। রেকর্ড করার আগে মনের মধ্যে কী চলছে, তা কয়েকটি কথায় প্রকাশ করুন। তারপর নিজের কণ্ঠে হতাশা বা বিরক্তি প্রকাশ করুন।

রেকর্ডিংটি রেখে দেওয়া জরুরি নয়। চাইলে সেটি মুছে দিয়ে মুহূর্তটিকে সেখানেই শেষ করতে পারেন। তবে নিজের বা অন্য কারও ব্যক্তিগত তথ্য রেকর্ডে থাকলে গোপনীয়তার বিষয়টি মাথায় রাখুন।

চিৎকারেই কি মিলবে মানসিক স্বস্তি?

চিৎকার করে মনের চাপ প্রকাশ করার ধারণাটি মজার হলেও, এটিকে মানসিক চাপ দূর করার নিশ্চিত উপায় ভাবা যায় না। কারও কাছে এটি সাময়িক স্বস্তির অভিজ্ঞতা, আবার কারও ক্ষেত্রে চিৎকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিজের অনুভূতি বুঝে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই ভালো।

চাইলে এর বদলে হাঁটতে যাওয়া, পছন্দের গান শোনা, কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা কিংবা কিছুক্ষণ নিরিবিলি সময় কাটানোর মতো উপায়ও বেছে নিতে পারেন।

আন্তর্জাতিক হতাশায় চিৎকার দিবসের আসল বার্তা হলো নিজের আবেগকে অস্বীকার না করে তা প্রকাশের উপযুক্ত পথ খুঁজে নেওয়া। কখনও কখনও নিজেকে একটু সময় দেওয়া, মনের কথা বলা কিংবা প্রাণ খুলে হাসা।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
সমান সুযোগে এগিয়ে যাক প্রতিটি কন্যাশিশু
একটি আলিঙ্গনেই ছড়িয়ে পড়ুক আনন্দ
রহস্যের জগতে কৌতূহলের এক দিন
সর্বশেষ খবর
দুপুরে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবে ইন্ডিয়া জোট
দুপুরে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবে ইন্ডিয়া জোট
চুয়েটে নতুন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে ভবনে তালা, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ
চুয়েটে নতুন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে ভবনে তালা, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ
ছোট ছেলে নিখোঁজ, বড় ছেলে দেশের বাইরে—নাসিমা খানের দাফন কোন দিন
ছোট ছেলে নিখোঁজ, বড় ছেলে দেশের বাইরে—নাসিমা খানের দাফন কোন দিন
ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা
ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা
সর্বাধিক পঠিত
বিএনপির এমপির ছেলে-ভগ্নিপতি-ভাগনের বউ পেলেন সারের ডিলারশিপ, ডিসি বললেন ‘কমিটির তালিকা’ 
বিএনপির এমপির ছেলে-ভগ্নিপতি-ভাগনের বউ পেলেন সারের ডিলারশিপ, ডিসি বললেন ‘কমিটির তালিকা’ 
জয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, উঠে এলো আ.লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের দুই অভিনেতার নাম
জয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, উঠে এলো আ.লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের দুই অভিনেতার নাম
১০ বছর পর খুলছে ওসমানী উদ্যান
১০ বছর পর খুলছে ওসমানী উদ্যান
রাশেদ খাঁনের দুঃখ প্রকাশ 
রাশেদ খাঁনের দুঃখ প্রকাশ 
ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি ছাড়লেন ছাত্রদল নেতা
ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি ছাড়লেন ছাত্রদল নেতা