X
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

শিশুর হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৪৬

ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ শিশুদের ভাইরাসজনিত একটি জটিল সংক্রামক রোগ। কক্সাকি ভাইরাসের কারণে এ রোগ হয়। ৫ বছরের কম বয়সের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয় এতে। কেউ যদি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যায় এবং তার যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তবে সেও এতে আক্রান্ত হতে পারে।

 

উপসর্গ

  • আক্রান্ত হবার ৩-৬ দিনের মধ্যে অল্প তাপমাত্রা থেকে ১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর আসবে।
  • জ্বর হবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গলায় ব্যথা শুরু হবে। খাওয়ার রুচি কমে যাবে। ক্লান্তি ভর করবে।
  • গলাব্যথার কারণে শিশু কিছুই খেতে চাইবে না। তখন পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হতে পারে। গলাব্যথার পাশাপাশি মুখ গহব্বরের ভেতর ছোট ছোট সাদা আকৃতির ফুসকুড়ি দেখা দেবে, ঠোঁটের আশেপাশে র‍্যাশ দেখা দেবে।
  • র‍্যাশগুলো কিছুটা যন্ত্রণাদায়ক হবে। র‍্যাশগুলোতে চুলকানিও থাকতে পারে।
  • জ্বর শুরু হবার ২-৩ দিনের মধ্যে হাত ও পায়েও র‍্যাশ দেখা দেবে। হাত, পা ও মুখ আক্রান্ত হওয়ার কারণে এই রোগকে হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ বলে।

 

কারণ

  • কক্সাকি ভাইরাস দিয়ে সংক্রমিত হলেই এই রোগ হয়।
  • যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তারা কক্সাকি ভাইরাসে সংক্রমিত হলে এ রোগ দেখা দেয়।

 

যেভাবে ছড়ায়

  • এই রোগ মূলত ফিকো-ওরাল রুট, নাকের পানি, থুথু ও কাশির মাধ্যমে  ছড়ায়। হাত ও পায়ের র‍্যাশ হলে সেটার সংস্পর্শেও ছড়ায়।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির জামা কাপড়, গ্লাস ব্যবহার করলেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে।

 

জটিলতা

এই রোগ থেকে টনসিলাইটিস, ফ্যারিনজাইটিস, ল্যারিনজাইটিস,  মেনিনজাইটিস, সেকেন্ডারি স্কিন ইনফেকশন হতে পারে।

 

প্রতিরোধ

খাবার আগে ভালোভাবে হাত ধোয়া, বিশুদ্ধ পানি পান করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চলা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না যাওয়ার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়৷

অনেকেই ছোট শিশুদের আদর করে চুমু দিয়ে থাকেন। এতেও শিশুরা বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকিতে থাকে। তাই এভাবে আদর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মা-বাবাকে এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সেই সঙ্গে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা, ভিটামিন এ, ই ও সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই শিশুদের এসব খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খেলেও শিশুদের ইমিউনিটি বাড়ে।

 

চিকিৎসা

যেহেতু এটা ভাইরাসজনিত রোগ তাই এটি ৭-১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।

শিশু যদি ঠিকমতো খেতে পারে, তবে তেমন একটা চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসার ক্ষেত্রে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামলের সঙ্গে চুলকানি কমানোর জন্য অ্যান্টি হিস্টামিন দেওয়া যেতে পারে। জ্বর না থেকে শুধু ব্যথা থাকলেও প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া যেতে পারে। সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সিভিট৷ জিংক দেওয়া যেতে পারে।

খেয়াল রাখতে হবে শিশু যেন পর্যাপ্ত নিউট্রিশন পায় এবং কোনোভাবেই যেন পানিশূন্যতায় না পড়ে। পানিশূন্যতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে শিরায় স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।

 

লেখক: সিইও, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স এন্ড রিসার্চ।

/এফএ/
সম্পর্কিত
শিশুর চিকেন পক্স: সংক্রমণ, জটিলতা ও প্রতিকার
শিশুর চিকেন পক্স: সংক্রমণ, জটিলতা ও প্রতিকার
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
শিশুর চিকেন পক্স: সংক্রমণ, জটিলতা ও প্রতিকার
শিশুর চিকেন পক্স: সংক্রমণ, জটিলতা ও প্রতিকার
© 2022 Bangla Tribune