খাবারের সময় হঠাৎ করেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে শিশু? পছন্দের খাবার দেখেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না, এমনকি দুধ খাওয়ানোর সময়ও বিরক্ত হয়ে উঠছে? সব সময় এটিকে শিশুর খাবারে অনীহা বা বায়না ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কখনও কখনও মুখের ভেতরের অস্বস্তিও এর কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে শিশুর জিভে সাদা আস্তরণ দেখা গেলে বিষয়টি একটু ভালোভাবে খেয়াল করা দরকার। মুখের ভেতরে ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে এমন সাদা আস্তরণ তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হয় ওরাল থ্রাশ।
কেন হতে পারে ওরাল থ্রাশ?
শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় তাদের মুখে ছত্রাকের সংক্রমণ তুলনামূলক সহজে হতে পারে। বিশেষ করে কোনও সর্দি-কাশি, জ্বর বা ভাইরাল সংক্রমণের পর শরীর দুর্বল হয়ে গেলে এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
মুখের পরিচ্ছন্নতার যথাযথ যত্ন না নেওয়াও সমস্যাটির একটি কারণ হতে পারে। তাই শিশুর মুখের ভেতর পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
কী লক্ষণে বুঝবেন?
ওরাল থ্রাশ হলে শিশুর জিভ বা মুখের ভেতরে সাদা আস্তরণের মতো দেখা যেতে পারে। মুখে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া থাকায় খাওয়ার সময় শিশুর বিরক্তি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে দুধ খাওয়া ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বোঝা কিছুটা কঠিন। তারা দুধ খাওয়ার সময় অস্বস্তি বোধ করতে পারে, বোতলের নিপল মুখ থেকে ঠেলে বের করে দিতে পারে কিংবা বারবার কান্নাকাটি করতে পারে।
দুধ বা খাবার ঠিকমতো খেতে না পারায় শিশু ক্ষুধার্তও থাকতে পারে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খিটখিটে হয়ে ওঠা বা ঘ্যানঘ্যান করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে একটু বড় শিশু হলে পছন্দের খাবারও মুখে তুলতে না চাইতে পারে। তাই শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে জিভ ও মুখের ভেতরের অবস্থাও দেখে নেওয়া ভালো।
কী করবেন?
শিশুর জিভে অস্বাভাবিক সাদা আস্তরণ দেখা গেলে বা খাওয়ার সময় বারবার অস্বস্তি হলে নিজে থেকে কোনও ওষুধ ব্যবহার না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে ছত্রাকের সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ বা স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের চিকিৎসা দিতে পারেন। শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা নির্ধারণ করা উচিত।
মুখ পরিষ্কার রাখবেন যেভাবে
শিশুর বয়স অনুযায়ী মুখ ও দাঁতের পরিচর্যার পদ্ধতিও আলাদা হওয়া প্রয়োজন।
৬ মাসের কম বয়সী শিশু: পরিষ্কার ভেজা নরম সুতির কাপড় আঙুলে পেঁচিয়ে আলতোভাবে মুখের ভেতর পরিষ্কার করা যেতে পারে।
৬ মাসের বেশি বয়সী শিশু: বয়স উপযোগী ফিঙ্গার ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
দাঁত ওঠার পর: শিশুর দাঁত পরিষ্কার করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে এবং বয়স উপযোগী টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত।
১ বছর পার হলে: দিনে দুবার নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস করানো ভালো।
তবে জিভে সাদা আস্তরণ দেখা গেলেই যে সেটি ওরাল থ্রাশ, তা নয়। দুধের আস্তরণ বা খাবারের অবশিষ্টাংশ থেকেও জিভ সাদা দেখাতে পারে। তাই সঠিক কারণ জানতে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
শিশু হঠাৎ খেতে না চাইলে শুধু খাবারের বায়না হিসেবে বিষয়টি না দেখে তার মুখ, জিভ ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর দিন। সামান্য সচেতনতাই শিশুর অস্বস্তি দ্রুত বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: এনএইচএস, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস









