মহাকাশ ভ্রমণ থেকে চিকিৎসা, নতুন সম্ভাবনার নাম কৃত্রিম নিদ্রাবস্থা

জীবনযাপন ডেস্ক
১৫ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৮আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৮

দীর্ঘ সময়ের মহাকাশ ভ্রমণকে নিরাপদ করার পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে কৃত্রিম নিদ্রাবস্থা। তবে এই প্রযুক্তি বাস্তবে মানুষের ক্ষেত্রে কবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে।

ইতালির বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবিজ্ঞানী অধ্যাপক মাত্তেও চেরি এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে আশাবাদী। তার ধারণা, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই মানুষের ক্ষেত্রে কৃত্রিম নিদ্রাবস্থা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ প্রযুক্তিকে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে আরও দীর্ঘ সময়ের গবেষণা প্রয়োজন।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মহাকাশ জীববিজ্ঞান গবেষক ক্রিস্টিয়ানে হানের মতে, এই প্রযুক্তি বাস্তবে রূপ নিতে আরও কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। তার ভাষ্য, মানুষের শরীরে কৃত্রিম নিদ্রাবস্থা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গবেষকদের মতে, মহাকাশ ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসাক্ষেত্রে কৃত্রিম নিদ্রাবস্থা ব্যবহারের আগে এর জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম কীভাবে নিরাপদে কমিয়ে আনা যায় এবং দীর্ঘ সময় পর কীভাবে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে—এসব বিষয় এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।

ক্রিস্টিয়ানে হান বলেন, “কাউকে কৃত্রিম নিদ্রাবস্থায় নেওয়ার প্রক্রিয়া আমরা মোটামুটি বুঝতে পেরেছি। কিন্তু তাকে নিরাপদে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তাই এই দুই ধাপই সঠিকভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত জরুরি।”

বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে মহাকাশ গবেষণা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে। ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহের মতো দূরবর্তী গন্তব্যে দীর্ঘ মহাকাশ অভিযানে নভোচারীদের শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গ প্রতিস্থাপন, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রোগীর চিকিৎসা এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায়ও কৃত্রিম নিদ্রাবস্থার ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

তবে গবেষকদের জোরালো মত, প্রযুক্তিটি নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার আগে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মানুষের শরীরে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিপাকীয় কার্যক্রম কমিয়ে দিয়ে আবার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা গেলেই কৃত্রিম নিদ্রাবস্থা ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযান ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
মানুষের মেরুদণ্ড কি আসলেই সোজা?
জামদানির সুতার কাউন্ট কী, শাড়ির মান বুঝতে কেন গুরুত্বপূর্ণ
এআইয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ‘ভূত’ দেখছেন? আসলে কী হচ্ছে
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, জিএম প্রত্যাহার
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, জিএম প্রত্যাহার
তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে কী করবেন, কী করবেন না
তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে কী করবেন, কী করবেন না
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের বড় উল্লম্ফন
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের বড় উল্লম্ফন
জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডে নিয়োগ, দ্রুত আবেদন করুন
জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডে নিয়োগ, দ্রুত আবেদন করুন
সর্বাধিক পঠিত
মদিনায় ১১০ মিলিয়ন টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান
মদিনায় ১১০ মিলিয়ন টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে কক্সবাজারে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে কক্সবাজারে
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ‘ন্যক্কারজনক’, দ্রুত অপরাসরণ চায় ছাত্রদল
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ‘ন্যক্কারজনক’, দ্রুত অপরাসরণ চায় ছাত্রদল
ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসায় পুলিশ সুপার বরখাস্ত
ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসায় পুলিশ সুপার বরখাস্ত
পুলিশের খাবার পৌঁছানোর দৃশ্য বদলে দিলো নতুন ভ্যান
পুলিশের খাবার পৌঁছানোর দৃশ্য বদলে দিলো নতুন ভ্যান