প্রায়শই বলা হয়, ‘সোজা মেরুদণ্ড’ কিংবা ‘শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা’। কথাগুলো শুনলে মনে হয়, মানুষের মেরুদণ্ড বুঝি একেবারেই সোজা একটি কাঠামো। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। মানুষের মেরুদণ্ড পুরোপুরি সোজা নয়, বরং পাশ থেকে দেখলে এতে স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি বাঁক দেখা যায়।
ঘাড়ের অংশ সামনের দিকে হালকা বাঁকানো। এরপর বুকের অংশে মেরুদণ্ড বাঁক নেয় পেছনের দিকে। একটু নিচে, কোমরের অংশে আবার সামনের দিকে বাঁক রয়েছে। আর নিতম্বের কাছে মেরুদণ্ড আবার পেছনের দিকে বাঁকানো।
এই বাঁকগুলো কিন্তু শরীরের কোনো ত্রুটি নয়। বরং শরীরকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখার জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা চলাফেরার সময় শরীরে যে ঝাঁকুনি তৈরি হয়, সেটিও সামলাতে সাহায্য করে মেরুদণ্ডের এই স্বাভাবিক বাঁকগুলো।
অর্থাৎ সামনে বা পেছন থেকে দেখলে মানুষের মেরুদণ্ড মোটামুটি সোজা থাকার কথা। কিন্তু পাশ থেকে দেখলে এটি অনেকটা ইংরেজি ‘এস’ অক্ষরের মতো বাঁকা।
তাহলে প্রশ্ন আসে, আত্মসম্মান বা দৃঢ়তা বোঝাতে ‘সোজা মেরুদণ্ড’ কথাটি এলো কোথা থেকে?
এখানে বিষয়টি শারীরবৃত্তীয় নয়, বরং রূপক অর্থের। ‘সোজা মেরুদণ্ডের মানুষ’ বলতে বোঝানো হয় এমন একজনকে, যিনি অন্যায় কিংবা চাপের কাছে নত হন না। নিজের নীতি, মূল্যবোধ ও মর্যাদা ধরে রাখেন।
সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গিতেও আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা ও মর্যাদার প্রকাশ ঘটে। আর মেরুদণ্ডই যেহেতু শরীরকে সোজা ও স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই রূপক অর্থে এটি মানুষের দৃঢ়তা ও চরিত্রের ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
ইংরেজিতেও এর কাছাকাছি একটি ধারণা আছে, ‘হ্যাভ এ ব্যাকবোন’। অর্থাৎ কারও সাহস ও নৈতিক দৃঢ়তা আছে। মজার বিষয় হলো, এই কথাটির সঙ্গে মেরুদণ্ড আসলে সোজা না বাঁকা, তার কোনো সম্পর্ক নেই।
তাই বাস্তবের মেরুদণ্ড বাঁকা হলেও ভাষার মেরুদণ্ডে ‘সোজা’ থাকা মানে অন্যায়ের কাছে না নত হওয়া, নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকা।

আমার মেরুদণ্ড বরাবরই সোজা ছিল, কারও সামনে মাথা নত করিনি: ভাবনা







