ফেসবুকে ৫ হাজার বন্ধু, মোবাইলের কন্টাক্ট লিস্টে শত শত নাম। কিন্তু গভীর রাতে বিপদে পড়লে কজনকে ফোন করতে পারবেন? বন্ধু দিবসে এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেলো— মনোবিজ্ঞান ও নৃতত্ত্বের গবেষণা বলছে, মানুষের জীবনে বন্ধু যত বেশি, তত ভালো; এমন ধারণা সব সময় সত্য নয়। বরং সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গভীরতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষের অনেক পরিচিত থাকতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাধারণত হাতে গোনা কয়েকজনই হন।
সত্যিকারের বন্ধুর সংখ্যা কত?
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ববিদ অধ্যাপক রবিন ডানবারের গবেষণা অনুযায়ী, একজন মানুষ গড়ে প্রায় ১৫০টি সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন। তবে এই সম্পর্কগুলোর মাত্র একটি ছোট অংশই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে পরিণত হয়।
ডানবারের সাম্প্রতিক পর্যালোচনামূলক গবেষণায় বলা হয়েছে, একজন মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রায় পাঁচজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের সদস্য সবচেয়ে কার্যকর সামাজিক সহায়তা দিতে পারেন। গবেষণাটি বলছে, সম্পর্কের সংখ্যা নয়, বরং ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মানই মানুষের সুস্থতা নির্ধারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুত্ব?
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বন্ধুত্ব শুধু আড্ডা বা বিনোদনের বিষয় নয়। একজন বিশ্বস্ত বন্ধু মানসিক চাপ কমাতে, একাকিত্ব দূর করতে এবং সংকটের সময়ে আবেগগত সহায়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএ) অভিধান অনুযায়ী, বন্ধুত্ব হলো এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের প্রয়োজন, আগ্রহ ও কল্যাণের প্রতি আন্তরিক থাকে। সাধারণত পারস্পরিক বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও মানসিক সংযোগ থেকেই এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বেশি বন্ধু নয়, ভালো বন্ধু
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে বন্ধুর সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দেখালেও বাস্তবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিধি খুব একটা বাড়েনি।
ডানবারের গবেষণায় দেখা যায়, মানুষের সামাজিক সম্পর্ক স্তরভিত্তিক। সবচেয়ে ভেতরের স্তরে থাকেন তিন থেকে পাঁচজন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মানুষ। এরপর ধীরে ধীরে পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু আবেগগত ঘনিষ্ঠতা কমতে থাকে।
একাকিত্বের ওষুধ কি বন্ধুত্ব?
গবেষণা বলছে, দীর্ঘমেয়াদি একাকিত্ব মানসিক ও শারীরিক—দুই ধরনের স্বাস্থ্যের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিপরীতে, ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব মানুষকে নিরাপত্তাবোধ দেয়, মানসিক চাপ কমায় এবং জীবনের কঠিন সময়গুলো মোকাবিলা করতে সহায়তা করে।
বন্ধু দিবস তাই শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন নয়। এটি হয়তো নিজের কাছেও একটি প্রশ্ন রাখার দিন, আমার ফ্রেন্ডলিস্টে কতজন আছেন, সেটি বড় কথা নয়; বরং এমন কজন আছেন, যাদের কাছে নির্দ্বিধায় নিজের আনন্দ, দুঃখ কিংবা ভয় ভাগ করে নেওয়া যায়?









