আজ শুক্রবার রংপুরে 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের শতবর্ষ' উদ্যাপন করা হয়েছে। ‘আত্মসভা'র উদ্যোগে শহরের বিকন মোড়ে অবস্থিত ‘গড়ন আর্ট গ্যালারি’তে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘বাংলার মুসলিম চিন্তার অগ্রগতির তত্ত্বতালাশ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রাবন্ধিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক ও বাংলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকী।
মামুন সিদ্দিকী বলেন, ‘শিখা-গোষ্ঠীর অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, পরমতসহিষ্ণুতা, উদারনৈতিকতা ও বহুত্ববাদী চিন্তাধারা উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে আদর্শ হিসেবে কাজ করতে পারে। এখানেই শতবর্ষে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য।’
মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক ড. সঞ্জয় সরকার, বাংলা একাডেমির সহকারী সম্পাদক, আভিধানিক ও প্রাবন্ধিক রাজীব কুমার সাহা এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম পলাশ।
রাজীব কুমার সাহা বলেন, 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি বহুমাত্রিক ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। শিখা পত্রিকা এই আন্দোলনের তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক অভিভাবক হিসেবে আধুনিক শিক্ষা, ভাষা-সাহিত্যের বিকাশ, নারী চেতনার উন্মোচন, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও মুক্ত মননের পক্ষে গভীর ও সুসংবদ্ধ বৌদ্ধিক পরিসর তৈরিতে সবিশেষ ভূমিকা রেখেছে।'
ড. সঞ্জয় সরকার উল্লেখ করেন, ‘আজকের তরুণ প্রজন্মকে অন্যায্য প্রথা ও অন্ধবিশ্বাস ভেঙে মুক্তবুদ্ধির চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে, তবেই এই শতবর্ষ উদ্যাপন সার্থক হবে।’
খাইরুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ তৎকালীন বাঙালি মুসলমানের উন্নয়নের স্বার্থে যে শিক্ষাদর্শন বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছিল, সে দর্শন বাস্তবায়ন করতে পারলে শুধু বাঙালি মুসলমান না বরং সমস্ত বাঙালি ও বাংলাদেশির জন্য তা বিশেষ গুরুত্ববহ হবে।’
উদ্যাপন সভার আয়োজক, ‘আত্মসভা'র কর্মাধ্যক্ষ কবি ও কলামিস্ট মীর রবি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সাম্প্রতিককালে কী রূপ পরিগ্রহ করেছে, তা ইতিহাসের আলোকে বিচার করার তাগিদ থেকেই এই আয়োজন।’
শিল্পী ইসরাত জাহান কাকনের সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আলোকচিত্রী ফিরোজ চৌধুরী।
আলোচনাসভা বিষয়ে জবাবদিহিতা করেন কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনিন্দ্য আউয়াল, নুরনবী ইসলাম এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন কবি মনজিল মুরাদ লাভলু।
উপস্থিত সুধীজনের মধ্যে অভিমত প্রকাশ করেন প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম, অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু, শিরিনা খাতুন, অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাক, সুনীল সরকারসহ প্রমুখ।
‘আত্মসভা’র সহযোগী ছিল ‘আত্মপাঠ’এবং তথ্য ও তত্ত্বের কাগজ ‘নাগরিক’।









