X
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২
২২ আশ্বিন ১৪২৯
হাসান আজিজুল হক

খুলে দিয়েছেন আধুনিকতার দ্বার

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
১৭ নভেম্বর ২০২১, ১৪:৩২আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২১, ১৪:৩২

ক.

স্কুলের পাঠ্য বইয়ের গল্প-কবিতা প্রবন্ধ পড়তে পড়তে বড় হতে হতে শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে কলেজে উঠি। ইতোমধ্যে পাঠ্য বইয়ের চেয়ে ‘অপাঠ্য’ বইয়ের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছি। হঠাৎ পাঠ্যপুস্তকের দুটি লেখা আমার মর্মমূলে নাড়া দিলো, গেঁথে গেল বোধে। যেন খুলে দিলো এক নতুন দিগন্ত।

বছরের শুরুতেই বই হাতে পেয়ে ক্লাস শুরু হবার আগেই পুরো বই পড়া শেষ। এমতাবস্থায় একটি কবিতা আর একটি গল্প পড়ে ধাক্কা খাই, ভীষণ বিস্ময় জাগে। এতদিন যেসব গল্প কবিতা পড়েছি, তার চেয়ে এই কবিতা এবং গল্পটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, একেবারেই অন্যরকম। কিন্তু কী রকম?

কিছুটা বুঝতে পারছি, কিছুটা বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে—এটাই হয়তো আধুনিকতা। একা একা বারবার বুঝতে চেষ্টা করি। পারি না। আবার পড়ি। পড়তে পড়তে একটা ভিন্ন পথে হাঁটতে থাকি। টের পাই এ পথটা, সে পথ নয়। বন্দে আলী মিয়া, বেগম সুফিয়া কামাল, বেনজির আহমেদ, জসিমউদ্দীনদেরকে ছাড়িয়ে সৃষ্টি হয়েছে সৈয়দ আলী আহসানের ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতা, তেমনি হাসান আজিজুল হকের ‘আত্মজা এবং একটি করবী গাছ’ গল্পটি। ভালো লাগার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। ভাবনার জগৎকেও অতিক্রম করে নিয়ে যায় অন্য কোনো ভুবনে।

তথাকথিত মিল-মাত্রা-ছন্দ বর্জিত ‘আমার পূর্ব বাংলা এবং দেশ বিভাগের যন্ত্রণায় দগ্ধ ‘আত্মজা এবং একটি করবী গাছ’ আমার চিন্তা ও চেতনায় আধুনিকতার দ্বার খুলে দিলো।

খ.

সৈয়দ আলী আহসান লিখেছেন—‘আমার পূর্ব-বাংলা একগুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল/ অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ/ সন্ধ্যার উন্মেষের মতো/ সরোবরে অতলের মতো/ কালো-কেশ মেঘের সঞ্চয়ের মতো/ বিমুগ্ধ বেদনার শান্তি/ আমার পূর্ব-বাংলা বর্ষার অন্ধকারের অনুরাগ/ হৃদয় ছুঁয়ে-যাওয়া/ সিক্ত নীলাম্বরী/ নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা/ কবরী এলো করে আকাশ দেখার/ মুহূর্ত/ অশেষ অনুভব নিয়ে/ পুলকিত সচ্ছলতা/ এক সময় সূর্যকে ঢেকে অনেক মেঘের পালক/ রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ/ কত দশা বিরহিণীর—এক দুই তিন/ দশটি/ এখানে ত্রস্ত আকুলায় চিরকাল/ অভিসার/ ঘর আর বিদেশ আঙিনা/ আকুলতায় একাকার/ তিনটি ফুল আর অনেক পাতা নিয়ে/ কদম্ব তরুর একটি শাখা মাটি/ ছুঁয়েছে/ আরও অনেক গাছ পাতা লতা/ নীল হলুদ বেগুনি অথবা সাদা/ অজস্র ফুলের বন্যা অফুরন্ত/ ঘুমের অলসতায় চোখ বুঁজে আসার মত।’

এই কবিতা পড়তে পড়তে অপূর্ব মিল খুঁজে পাই নিজ গ্রামের সাথে। নিজের অজান্তেই মিশে যাই একগুচ্ছ স্নিগ্ধতায়, হারিয়ে যাই—অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়।

অপর দিকে ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’ পড়তে পড়তে একের পর একের প্রশ্ন জমা হতে থাকে। গ্রন্থের ৮টি গল্পই তির-ধনুকের মতো টানটান। তবে আটকে থাকি—‘আত্মজা ও একটি করবী গাছে’। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত এই হৃদয় নিংড়ে নেওয়া কাহিনির কি অসাধারণ শৈল্পিক রূপ, ভাষা বিন্যাস, বর্ণনা। তা ২/১টি উদ্ধৃতি তুলে ধরছি :

১. সুহাস ও ফেকুর দুই দুই করে চার টাকা তার দিকে ঝুঁকে দিয়ে ফেকু যখন বলল, ‘সুহাস আর আমি দিচ্ছি।’ তখন সে ভীষণ ভীত-সন্ত্রস্ত, চেয়ার থেকে হেলে পড়ে শরীর। জীবন তাকে দক্ষ অভিনেতা বানিয়েছে, মিথ্যা অভিনয় এই ছলটুকু করতে পারল নিখুঁতভাবেই, ‘দাও। আর কত যে ধার নিতে হবে তোমাদের কাছে! কবেই-বা শুধতে পারব এই সব টাকা...

২. দেশত্যাগের আগে সাতপুরষের বাস্তুভিটায় একটি করবী গাছ লাগিয়েছিল, করবী ফুলের বিচি থেকে বিষ পাওয়ার আশায়। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস, সেই বিষ এখন তাকেই গলাধঃকরণ করে নীল হয়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে হচ্ছে। নিজে তার পরিবারকে বাঁচাতে পারছে না, পালাতেও পারছে না। একদিকে পাশের ঘরে নিজরে আত্মজাকে খাবলে খাচ্ছে দুই বখাটে, মেয়ের চুড়ির শব্দ, কান্নার শব্দ, গোঙানির শব্দ, বখাটের অট্টহাসি কানে আসছে...

৩. যেখানে তরুণী মেয়ের শরীর বিক্রি করে পিতাকে বেঁচে থাকতে হয়। তরুণী রুকু অখণ্ড বাংলার প্রতীক হয়ে উঠেছে। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, বাবার ব্যর্থতা ও স্বার্থের কারণে নিঃশব্দেই মেনে নিতে হচ্ছে এই রমননিপীড়ন। যেভাবে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাঙালিকেও মেনে নিতে হয়েছিল দেশভাগের নাটক, নৃশংস আত্মবিচ্ছেদের ট্রাজেডি।

এ গ্রন্থের ‘পরবাসী’ গল্পটিও দেশ বিভাজন ভয়াবহ বাস্তবতা নিয়ে। হিন্দুদের জন্য হিন্দুস্থান আর মুসলমানদের জন্য পাকিস্থান সৃষ্টি হয়েছে, এই সাম্প্রদায়িকতা তুলে ধরতে গিয়ে হাসান আজিজুল হক মাতৃভূমির প্রতি প্রবল টান, প্রোথিত জন্ম-শেকড় ছেঁড়া ক্ষরণ, নাড়ী ছেঁড়া কষ্ট, অবিচ্ছিদ্য আত্মার অস্তিত্ব তছনছ করে দিয়েছে জীবনকে। চরম দুঃখ, অসহ্য দারিদ্র্য, ভেঙে পড়া দৈন্য নিয়ে বুড়ো যাচ্ছে ভারতে আর ‘পরবাসী’ গল্পের প্রায় পাগল বশির উল্টো ভাবে বাধ্য হয়ে ফিরতে হচ্ছে ভূতের বাড়ি পাকিস্তানে। ‘বুকভাঙা আর্তনাদ নিয়ে নিঃস্ব বশিরকে নিজ থেকে পালিয়ে পাকিস্তানের পথে পা বাড়াতে হয়। তীব্র শীতের রাতে মজা-ডোবা, বন্ধুর অচেনা পথ ধরে বশির আগাতে আগাতে সীমান্তবর্তী এলাকার খালের পড়ে হঠাৎ আবিষ্কার করে ধুতিপরিহিত একজন মানুষ দাঁড়িয়ে, যে কিনা পাকিস্তান থেকে পালিয়ে রাতের অন্ধকারে ভারতে ঢুকতে যাচ্ছিল। প্রাগৈতিহাসিক জিঘাংসা বুকে চাড়া দিয়ে উঠলে বশির সম্পূর্ণ অপিরচিত মানুষটাকে খুন করে নিজের স্ত্রী-সন্তান হত্যার বদলা নিল। মূলত, গল্পটিতে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, বিকৃত স্বাধীনতা তৃণমূল মানুষের ভিতরে কিভাবে আদিম বর্বরতাকে সাম্প্রদায়িকতার প্রলেপে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে; রাজনৈতিক দুর্বিপাকে পড়ে বশিরের মতো সম্পূর্ণ নিরপরাধ সাম্প্রদায়িক ভেদবোধহীন মাটির মানুষটিও বদলে হয়ে গেল কি ভয়ানক নিষ্ঠুর পাশবিক! বিনা কারণেই হিন্দু দাঙ্গাবাজদের বশিরের ঘর-বাড়ি, স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে দেওয়া এবং সম্পূর্ণ অচেনা অসহায় একজন মানুষকে হত্যা করে বশিরের জিঘাংসা নিবৃত করা চেষ্টা প্রমাণ করে, সাতচল্লিশের দেশভাগ এবং তারই প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কি পরিমাণ অসার এবং যুক্তি-বিচার বর্জিত...’

‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ : একটি নৃশংস আত্মবিচ্ছেদের ট্রাজেডি’ র্শীষক এক লেখায় চন্দন আনোয়ার লিখেছেন—‘পরিণতিতে এক দেশকে দুই দেশ করে এবং একজাতিকে দুইভাগ করে, নিজেদের মধ্যে আন্তঃবিভেদের বীভৎস খেলায় নামিয়ে দিয়ে দেবতার মতো ঊর্ধ্বে বসে হেসেছে তাঁরা। বন্ধনে বিশ্বাসে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের নিবিড় সর্ম্পককে হাসান একই সঙ্গে দুটি টর্চ ফেলে দেখেছেন।

গ.

পরবর্তীকালে সৈয়দ আলী আহসান এবং হাসান আজিজুল হক দুজনকেই কাছে পাই, ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তৈরি হয় ব্যক্তিগত সম্পর্ক। আমার আর নাসিমা সুলতানার যৌথ কাব্যগ্রন্থ ‘তবু কেউ কারো নই’-এর প্রকাশনা উৎসবের প্রধান অতিথি সৈয়দ আলী আহসান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তো কোনো দিনই ভুলবার নয়। সে প্রসঙ্গ থাক।

গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে প্রায় সব কবি-সাহিত্যিকের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে, পরিচয় হচ্ছে কিন্তু হাসান আজিজুল হককে কোথাও দেখি না। একদিন পুরানা পল্টনস্থ সচিত্র সন্ধানীর কার্যালয়ে কবি বেলাল চৌধুরীর মাধ্যমে জানলাম, তিনি রাজশাহীতে থাকেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। ফলে দেখা হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসেন, আবার কখন যে চলে যান ফলে তাঁকে পাওয়া মুশকিল। মনে মনে অপেক্ষায় থাকি তাঁর সঙ্গে দেখা পাবার। তারপর কীভাবে প্রথম দেখা হয়েছিল, তা মনে নেই। তবে যখনই কোথাও দেখা হতো স্নেহাদরে কাছে টেনে নেন। এত বড় মাপের একজন লেখক এত সাধারণ স্বভাবের মানুষ মেলাতে পারি না। বিটিভিতে ‘দৃষ্টি ও সৃষ্টি’ শীর্ষক সাহিত্যবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানের বিষয় নির্বাচন করি—‘মফস্বলের লেখক’ (শিরোনামটা আমার পছন্দ হয়নি বিটিভি’র দেওয়া নাম) উপস্থাপনা করাই ছিলো অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। এতে যতীন সরকার, ওমর আলী, শান্তনু কায়সার, ময়ূখ চৌধুরী, রনজিৎ সিংহ প্রমুখ অংশ নিলেও হাসান আজিজুল হক ছিলেন না। এখন ভাবতেও অবাক লাগে, ধৃষ্টতাও বটে যে—কীভাবে তাঁকে ঢাকার বাইরের লেখক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল, জানি না। এবার বিটিভির অনুষ্ঠান নয়, অন্য আবদার। ‘কথাশিল্পীদের কবিতা’ নিয়ে একটি সংকলন করব, তাই কবিতা চাইলাম। কিন্তু হাসান ভাই ‘না’ করলেন না। আমার ঠিকানা নিলেন। এবং ক’দিন পরেই ডাকযোগে পেলাম তাঁর একটি কবিতা ‘অদল-বদল’ :

কী কী বদলে নেওয়া যায় না?
আপন জন্ম তার অন্যের যৌবন
কপালে একেবারে ভিতরের দিকে
খোদাই করা ক্ষুদে ক্ষুদে অক্ষর
দুই চোখের পাশে চামড়ার ওপর
কাকের পায়ের ছাপ
হয়তো আরও আছে
আঁকা বাঁকা আঙুল ফাটা পায়ের ভিতর শুকনো হাড়
ফিরে পাওয়া যায় না
মৃত্যুর পরে আর একবার পুরনো জীবন ফেরা যায় না উৎস মুখে
পাথরে লবণে মাটিতে জলের রেখায়
এরা সবাই এক মুখে বয়ে যায়
শূন্য থেকে শূন্যে।

২০০৯-এ মুক্তধারার বইমেলায় অতিথি হয়ে নিউইয়র্কে এলেন হাসান আজিজুল হক। আমিও গেলাম টরেন্টো থেকে। ১৮তম বইমেলায় আমরা ১৮জন ১৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে উদ্বোধন করলাম। ১৮ জনের মধ্যমণি ছিলেন দীপু মনি, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই এসেছেন। এসেছেন স্বপরিবারে জনপ্রিয় হুমায়ূন আহমেদ। জমজমাট মেলায় হাসান ভাইয়ের সার্বক্ষণিক সঙ্গী মহিউদ্দিন খোকন। ভেতরে পর্বে পর্বে সেমিনার। বাইরে তুমুল আড্ডা। আড্ডা থেকে সেমিনার। সেমিনার থেকে আড্ডা। সেমিনারের এক পর্যায়ে হাসান আজিজুল হক আর সমরেশ মজুমদারের পাশাপাশি আমিও মঞ্চে।

আমার বক্তব্য শুনে কয়েকজন উত্তেজিত প্রবাসী লেখক ক্ষুব্ধ হয়ে হইচই শুরু করলেন। সমরেশ দা বক্তৃতা দিয়ে থামাতে পারলেন না। তারা থামলেন হাসান আজিজুল হকের কথায়। পরে হাসান ভাই আমার পিঠ চাপড়াতে চাপড়াতে বললেন, প্রবাসী লেখকদের সম্পর্কে তোমার কথা শতভাগ সত্য। কিন্তু এ সত্য মেনে নেওয়ার মতো ক্ষমতা তাদের নেই।

সেমিনার শেষে হাসান ভাই আর খোকন সাহেব বইমেলার কাছে জ্যাকসন হাইটের একটা জীর্ণশীর্ণ সস্তা গেস্ট হোটেলে থাকেন। আমরা সেখানেই দুপুরে খাব।

হাঁটতে হাঁটতে হোটেলে গিয়ে দেখি—চাইনিজদের সেই সস্তা একটা হোটেল। নানান সমস্যা। ফ্রিজ নাকি নষ্ট, মাইক্রোঅভেন ঠিকমতো কাজ করে না। টিফিন কেয়ারি বাটিতে ভাত, তরকারি আর মশুরির ডাল কে যেন খুব যত্ন করে গতকাল পাঠিয়েছেন। ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’ গল্পের বুড়োর মতো আমরা তিন ক্ষুধার্ত সেই ঠান্ডা ডাল-ভাত-তরকারি ভাগাভাগি করে খেলাম। যেতে যেতে বললাম—হাসান ভাই, কানাডায় ঘুরে যান।

তিনি বললেন, শরীরটা ভালো না। হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। প্রবাস ভাল্লাগছে না। দেশে ফিরতে হবে দ্রুত। এবার না, পরে যাব ক্ষণ।

এখানে একটি দুঃখজনক ঘটনা না বললেই নয়। সেই খোকনের পাল্লায় পড়ে দশ ডলার দিয়ে একটি হাসপাতালের টিকিট কেটে অপারেশন করে দেশে চলে যান।

ঘ.

সেদিন খেতে খেতে হঠাৎ দেশ ছাড়ার বেদনা নিবিড় ভাবে হৃদয়ে অনুভব করলাম। হাসান ভাই ফিরে যাবেন বাংলাদেশে আর আমি ফিরব কানাডায়। পরাণের প্রিয় স্বদেশ ছেড়ে তেরো হাজার মেইল দূরে দেশান্তরী হয়ে আজ আমরাও যেন হাসান আজিজুল হকের যন্ত্রণায় আক্রান্ত ‘পরবাসী বশির’ হয়ে গেছি।

পরবাস আর পরকাল বেশি দূরে নয়। আজ আমি পরবাসে এবং হাসান ভাইও চলে গেলেন দীর্ঘ পরবাসে।

হাসান ভাইয়ের এই ভদ্রতা-সৌজন্যতা এবং বন্ধুপ্রীতি দেখেছি ঢাকার একটি সাহিত্যাষ্ঠানেও। শাহবাগের লোক প্রশাসন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক কথাশিল্পী দেবেশ রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করলে, সেদিনও হাসান ভাই দেবেশ রায়ের পক্ষে ছিলেন। এই বিনয় কোনো দিন ভোলার নয়।

/জেডএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বাংলাদেশ ম্যাচের আগে যে বার্তা দিলো ইয়েমেন
বাংলাদেশ ম্যাচের আগে যে বার্তা দিলো ইয়েমেন
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু
বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ
বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ
বিমানবন্দরে ইলিশসহ আটক ২ যাত্রীকে জরিমানা
বিমানবন্দরে ইলিশসহ আটক ২ যাত্রীকে জরিমানা
বাংলাট্রিবিউনের সর্বাধিক পঠিত
প্রস্তুত হন, চেরাগ জ্বালিয়ে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রস্তুত হন, চেরাগ জ্বালিয়ে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
আলিবাবার জ্যাক মা পারলে আমরা পারবো না কেন: শামীমা নাসরিন
আলিবাবার জ্যাক মা পারলে আমরা পারবো না কেন: শামীমা নাসরিন
গোলমাল বাধলে ঘর স্ত্রীর নামে যাবে, স্বামীর নামে না: প্রধানমন্ত্রী
গোলমাল বাধলে ঘর স্ত্রীর নামে যাবে, স্বামীর নামে না: প্রধানমন্ত্রী
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
চোখের সামনে পড়েছিল কয়েকজনের লাশ, মৃত্যুর হাত থেকে ফিরলাম
চোখের সামনে পড়েছিল কয়েকজনের লাশ, মৃত্যুর হাত থেকে ফিরলাম