X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

অমিয় চক্রবর্তী : হারানো অর্কিডের কবি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২২, ১৪:৩৩

রবীন্দ্র পরবর্তী যুগের অন্যতম কবি অমিয় চক্রবর্তী (জন্ম : এপ্রিল ১০, ১৯০১। মৃত্যু : জুন ১২, ১৯৮৬)। আধুনিক বাংলা কবিতার ধারায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিরিশের দশকে প্রধান ধারার কবিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪), সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০), জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪), বিষ্ণু দে (১৯০৯-১৯৮২) এবং অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬) বাংলা সাহিত্যে পঞ্চপাণ্ডবখ্যাত। তাঁদের নাম ইতিহাসে অবিনাশী বন্ধন ও সমসাময়িকতার বিস্ময়ে জড়ানো। বাংলা কবিতা যখন নতুন এক যুগে পদার্পণ করে তখন নানা ভাঙাগড়া ও চড়াইউৎরাই পেরিয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো কবিতাবলী (১৩৩২ বঙ্গাব্দ), উপহার (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), খসড়া (১৯৩৮), এক মুঠো (১৯৩৯), মাটির দেয়াল (১৯৪২), অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩), পারাপার (১৯৫৩), পালাবদল (১৯৫৫), ঘরে ফেরার দিন (১৯৬৪) ইত্যাদি। সাহিত্যে বিশেষ অবদান ও কৃতিত্বস্বরূপ তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), পদ্মভূষণ (১৯৭০), সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কার (১৯৬০) লাভ করেন। আধুনিক বাংলা কবিতার যুগবদলে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

পারিবারিক আবহে কবি অমিয় চক্রবর্তীর শিক্ষাদীক্ষা ও সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ ঘটে। তাঁর পিতা দ্বিজেশচন্দ্র চক্রবর্তী ছিলেন উচ্চশিক্ষিত এবং আসামে গৌরীপুর এস্টেটের দেওয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মা অনিন্দিতা দেবী ছিলেন সাহিত্যিক। তিনি ‘বঙ্গনারী’ ছদ্মনামে প্রবন্ধ লিখতেন। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে দক্ষতা এবং সনাতন ভারতবর্ষীয় মূল্যবোধ তিনি পরিবার থেকেই গ্রহণ করেন। এরপর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশের পর হাজারিবাগে আইরিশ মিশনের সেন্ট কোলাম্বাস কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন। একই কলেজে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি সাহিত্য, দর্শন, বটানিতে বি,এ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯২৬ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলিয়ল কলেজের ছাত্র হিসেবে ১৯৩৪-৩৭ পর্যন্ত অধ্যায়ন করেন। ১৯৩৭ সালে কবি টমাস হার্ডির (১৮৪০-১৯২৮) কাব্য নিয়ে গবেষণার জন্য ডি.ফিল লাভ করেন।

কবি অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন প্রচারবিমুখ, সঙ্গ বিমুখ। তিরিশের অন্যান্য কবিদের তুলনায় তিনি ভিন্ন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিলেন। ক্ষীণকায় মৃদুভাষী কবির কিছু গভীর প্রত্যয় ছিলো। তিনি ছিলেন বিতর্কে অনাগ্রহী কিংবা আস্থাহীন। নরনারী, পশুপাখি, শহরগ্রাম, বিশ্বের বিচিত্র অধিবাসী এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক রূপ সম্পর্কে তাঁর কৌতুহল ছিলো অপরিসীম। তাঁর অস্তিত্বের কেন্দ্রে এক ধরনের গভীর নিরাসক্তি তাঁকে আচ্ছন্ন করে রাখতো। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেন। ঘনিষ্ঠ সহচর্যে থেকেও তিনি রবীন্দ্র বলয়ের বাইরে সাহিত্য রচনা করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা বিস্ময়কর এবং প্রশংসনীয়।

শিবনারায়ণ রায় (১৯২১-২০০৮) তাঁর কবির নির্বাসন ও অন্যান্য ভাবনা (১৯৩৭) গ্রন্থে অমিয় চক্রবর্তীকে ‘বিশ্বনাগরিক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং শিক্ষা গ্রহণ করেন। ফলে তাঁর সাহিত্যচিন্তাও ছিলো বিশ্বমানের। তাঁর প্রথম দিকের কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব থাকলেও অচিরেই স্বকীয়তা অর্জন করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অমিয় চক্রবর্তীর কবিতার মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছিলেন ‘অনুভূতির বিচিত্র সূক্ষ্ম রহস্য; বিশ্বসাহিত্যের স্পর্শ’। বুদ্ধদেব বসু তাঁকে ‘কবির কবি’ অভিধায় আখ্যায়িত করেন। আবু সায়ীদ অইয়ুব (১৯০৬- ১৯৮২) অমিয় চক্রবর্তীকে ‘প্রিয়তম কবি’ বলেছেন।

সাহিত্যের ছাত্র ও অধ্যাপক, ধর্মতত্ত্ব-রাজনীতি, দর্শন শাস্ত্রে সুপণ্ডিত, বিশ্বসাহিত্যের তন্নিষ্ঠ পাঠক অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন মননঋদ্ধ মানুষ। তাঁর কবিতায় আবেগের সঙ্গে মননশীলতা মিশে আছে। শব্দ চয়ন, ছন্দের ব্যবহার, পংক্তি গঠনের কৌশল সবকিছু মিলিয়ে তিনি ছিলেন অন্যান্য কবিদের মধ্যে অনন্যসাধারণ। সংস্কৃতের কঠিন শব্দও তাঁর কবিতায় প্রবেশ করেছে অনায়াসে। তাঁর কবিতায় জাগ্রত চৈতন্যের সঙ্গে সঙ্গে অবচেতনার প্রক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (১৮৩৮-১৮৯৪) পর প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন সাহিত্যের একচ্ছত্র সম্রাট। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮), প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬), নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) তাঁর সমকালের শক্তিশালী ও প্রভাবশালী লেখক হওয়া সত্ত্বেও সাহিত্যে পর্বান্তর ঘটেনি। কিন্তু তিরিশের কবিরা এক স্বতন্ত্র বলয় সৃষ্টিতে সক্ষম হন। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত তাঁর কল্লোল যুগ গ্রন্থে বলেন: ‘অমিয় চক্রবর্তী “কল্লোলে” না লিখলেও কল্লোল যুগের মানুষ। এই অর্থে যে, তিনি তদানীন্তন তারুণ্যের সমর্থক ছিলেন। নিজেও অন্তরে সংক্রমিত কওে নিয়েছিলেন সেই নতুনের বহ্নিকণা’ (অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, ১৪২২: ১৬২)

অমিয় চক্রবর্তী একদিকে সনাতন মূল্যবোধ অন্যদিকে আধুনিকতাকে ধারণ করেন। ঐতিহ্যের ভিত্তিভূমিতে দাঁড়িয়ে গ্রহণ করেন আধুনিকতার নানা অনুষঙ্গ। তাঁর হারানো অর্কিড কাব্যের ভূমিকায় তিনি বলেন: ‘রূপ সনাতনের যাত্রাপর্ব এই দূরাঞ্জলির কাব্যে যোগ হয়েছে। বিসর্জনের পালা শেষ হয়নি, এখনো পুরো তার যজ্ঞ প্রজ্বলিত ভুবন-ডাঙায়। সঙ্গে সঙ্গে সর্বনামের দল দেশে-দেশে জেগে উঠেছে যাদের বিপ্লব অন্যপন্থী।’ (অমিয় চক্রবর্তী, ১৩৬৬: ১২২)

যুগের এই পালাবদলের অন্যতম মহারথী ছিলেন তিরিশের কবিরা। অমিয় চক্রবর্তী কবিতার বিষয় নির্বাচন, প্রতিন্যাস্ত রীতি সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ছিলেন অভিনব। রবি ঠাকুর ও তাঁর কবিতার জগত মূলত এক হলেও উপাদানে ও বিন্যাসে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তাঁর প্রতিভা পাঠককে ঋণগ্রস্থ না করে বিস্মিত ও অভিভূত করে। কবিতায় তাঁর শিল্পিত মন ও মননশীলতার অকৃত্রিম ও বিশিষ্টতাপূর্ণ প্রকাশ। একদিকে হারানো ঐতিহ্য অপরদিকে আধুনিকতার অনুষঙ্গ তাঁর কবিতায় পরিলক্ষিত :

কতদিন ধ’রে হলোপ্রবল আকুল বাসনায়
ধু ধু করে প্রাণ, সেই দাহে
ইতিহাস দরজা খুলে ধুলো পথ দেখায় মিশরে
পিরামিড ছায়ায় প্রাচীন
যুবে ব’সে আছে নীল নদীর ওপারে কাকে চেয়ে; (নরেশ গুহ (সম্পা.) , ১৩৬৬: ১২০)

গিরিসংকট ও শীততুষারকে পরাস্ত করে অর্কিড টিকে থাকে। এই অর্কিড অপ্রতিহত বীর্যের প্রতীক। কোনো শক্তির সাধ্য নেই তাকে ধ্বংস করার। আহত পুড়ন্ত ভিয়েতনামের অরণ্যে অনিন্দ্যসুন্দর বিজয়ী অর্কিড হৃদয়ে তারুণ্য জাগায়। ঠিক তেমনি কবিও তারুণ্যের পূজারি:

প্রত্যাশার পারে ফিরে আসো,
চুলে রাঙা জবা―
ওগো ভোর, দ্যুতিকণ্যা, কোমল আলোর জাগা ভোর (নরেশ গুহ (সম্পা.) , ১৩৬৬: ১২১)

বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে কবি একাত্মতা ঘোষণা করেন বারবার। অধুনিক কবিদের এই কাব্যপ্রবণতা তাঁর মধ্যে পরিলক্ষিত। বিশেষত জীবনানন্দ দাশের কবিতায় প্রকৃতি বন্দনা দেখা যায়। কবি অমিয় চক্রবর্তীও এই প্রকৃতির মধ্যে তারুণ্য খোঁজেন:

১.

মিশ্র সন্ধ্যারাত্রি আজ ছায়াসাক্ষ্যহীন।
খোয়াই খয়ের রঙ, রঙ দিগ্বলয়,
চতুর্দিকে নবজাত বৃক্ষের সমাজ। (নরেশ গুহ (সম্পা.) , ১৩৬৬: ১৩১)

২.     

লঙ্কা লাল কাকাতুয়া, জংলি মেঘ-ঘন জামরুল
কামরাঙা ঝোলে শাখে, টাটকা ঝরে আগুনি শিমুল,
পেয়ারা আতার ফল নখে পেড়ে
জীবময় তুমি ওঠো মেতে

―জানি সে― ভঙ্গিকে। (নরেশ গুহ (সম্পা.) , ১৩৬৬: ১৩২)

যুগবদল বা যুগের পালাবদলের বাণী উচ্চারণ করেন কবি। তিনি আগামীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিন্তু বাঙালির এই তারুণ্য ম্রিয়মাণ হয়ে গেছে বারবার। কবি সেই বীরত্বের গাঁথা ভোলেননি :

আভিজাত্য সহজ শিল্পিত
প্রত্যেক সূচের রিপ বাক্যে বেশে গাঁথা
পুরুষাণুক্রমে,
কটাক্ষের কালো দ্যুতি সাক্ষ্য দেয় যুগান্তের
ভ্রমরিত। (নরেশ গুহ (সম্পা.) , ১৩৬৬: ১৩৫)

দূরদেশে বসেও কবি বাংলাকে ভোলেননি। বাংলার প্রকৃতি, ঐতিহ্য, আভিজাত্য তাঁকে বারবার আলোড়িত করেছে :

১.

সেখানে সে ভোর-লাগা আকণ্ঠ সবুজ ভর্তি গ্রামে
সম্পূর্ণ আপন তবু অচেনার বাঁকে
তৃপ্তি-নদী তীরে থাকে,
বাংলার হাওয়ায় আগমনী
পুজোর আগেই শোনো কালাংড়া সানাইয়ে পরানো
ভ্রু রেখায় নত চোখে লাবণ্য ঝরানো,
কারুণ্যে কাজল দৃষ্টিমণি। (নরেশ গুহ (সম্পা.) , ১৩৬৬: ১৩৭))

২.     

ফুটছে
প্রাচীন ফুল
তোমার মনের তলে আনমনা
তুমি সন্ধান জানো না। (নরেশ গুহ (সম্পা.) , ১৩৬৬ : ১৪০)

কবি অমিয় চক্রবর্তী স্বদেশ ও স্বকাল সচেতন ছিলেন। সনাতন বীরত্ব ও ঐতিহ্য ভূমিতে তাঁর মনন গঠিত। তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও শিক্ষা তাঁকে প্রকৃতপক্ষে আধুনিক মানুষ কওে তুলেছে। অর্কিড তারুণ্যের প্রতীক। হারানো অর্কিডের মাধ্যমে তিনি সেই বীরত্বপূর্ণ অতীতকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সুর মেলান বর্তমানের। বাংলা সাহিত্যে তাঁর চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নবতর দিক উন্মোচন করেছে। জন্মদিবসে কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 

তথ্যনির্দেশ

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত (১৪২২)। কল্লোল যুগ। এম.সি. সরকার অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেড। কলকাতা।
নরেশ গুহ (সম্পা.) (১৩৬৬)। অমিয় চক্রবর্তী কবিতা সংগ্রহ দ্বিতীয় খণ্ড। দেশকাল। কলকাতা।

/জেডএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের টাকার হিসাব নিয়ে বিবাদে নিহত ১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের টাকার হিসাব নিয়ে বিবাদে নিহত ১
নববধূ সেজে ইয়াবা কিনতে ঢাকা থেকে টেকনাফে
নববধূ সেজে ইয়াবা কিনতে ঢাকা থেকে টেকনাফে
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার পাশে দুর্ঘটনায় এমপির এপিএসসহ আহত ৩
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার পাশে দুর্ঘটনায় এমপির এপিএসসহ আহত ৩
এ বিভাগের সর্বশেষ
পুরস্কারপ্রাপ্তি আনন্দের
জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২১পুরস্কারপ্রাপ্তি আনন্দের
মারুফা মিতার কবিতা
জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২১মারুফা মিতার কবিতা
দিপন দেবনাথের কবিতা
জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২১দিপন দেবনাথের কবিতা
খোঁপায় গমখেতের মায়া
খোঁপায় গমখেতের মায়া
বুভুক্ষাই জন্ম দিয়েছে ইরোটিকার
বুভুক্ষাই জন্ম দিয়েছে ইরোটিকার