দেবেশ দা নেই

Send
আসাদ মান্নান
প্রকাশিত : ১২:১৫, মে ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২০, মে ১৭, ২০২০

কথাসাহিত্যিক দেবেশ রায়ের সঙ্গে কবি আসাদ মান্নান (বাঁ থেকে ৪র্থ) ও অন্যান্যরা

১.
আবার দেবেশ দা'কে এরকম যদি ফিরে পাই—

সে শুধু স্বপ্নের স্মৃতি ভালোবাসা রাতজাগা নদী!

জলের পুতুল হয়ে আমরা কী জাহাজ ভাসিয়ে

বরিশাল রাজাপুর ধানসিদ্ধি নদীর কিনারে

দাদাকে জড়িয়ে বুকে আরবার জীবনানন্দের

পৈত্রিক বাড়িতে যাবো না কি? হায় প্রেম! ভালোবাসা

ধোঁয়াশা জড়িয়ে কুয়াশায় নিশি-জাগা নক্ষত্রের মতো

চোখে ঘুম ভেঙে ভেঙে দক্ষিণের জলপথ ধরে

আমরা পুরুষ নারী চলেছি সবাই যাকে ঘিরে

তিনি এক কথাকার মজাদার রসের পূজারি

কবিতা ও কবি অনুরাগী; শান্ত কিন্তু বাইরে দেখতে

অথচ ভেতরে রাগী—সঙ্গে তার স্নিগ্ধ অভিমান;

সব কিছু মিলে কেন জানি তাঁকে সহজ সরল

শাদামাটা স্বভাবের একজন সম্পন্ন মনের

একজন সুন্দর মানুষ বলে প্রথম সাক্ষাতে

মনে হয়; এমন একটা সুন্দর মানুষ, যাঁকে

প্রথমে দেখেই যাঁকে প্রাণভরে ভালোবাসা যায়।

২.

যে আগুন স্বপ্নের বাসনা জিবে লকলকিয়ে জ্বলে

সে আগুন এ জীবনে কেউ আর এভাবে জ্বালেনি;

কী এক জাদুর নেশা চোখে নিয়ে সে রাতে জেগেছি

আমরা ক'জন কবিতার বেপরোয়া বাজিগর:

রাতটাকে নগ্ন করে চুমু খাই চাঁদের ওলানে;

বয়সের পালটাকে কী সুন্দর মুচকি হাসি মুখে

হাওয়ার তাঁবুতে রেখে শরীরের ভাঁজ খুলে দিয়ে

দেবেশ দা আনন্দে ব্যাকুল কণ্ঠে কথার ময়ূর

কী করে যে ছেড়ে দেন জলগন্ধী মদির আসরে!

 

দেবেশ রায়ের কাছে বাঙালি যে স্বপ্নে হেঁটে যায়:

দেবেশ দা বাড়ি ফেলে ধুতি পরে ওপারে গেছেন—

কার কোন্ গুপ্ত প্রেমে সালমা বাণী শামীম রেজার

নিবিড় আদরে তাঁকে কত বার ছুটে আসতে দেখি

পিতার ভিটির টানে—খুঁজেছেন প্রকৃত ঠিকানা

যদি পুর্ব পুরুষের গন্ধ কিছু খুঁজে পাওয়া যায়!

৩.

কথা ও কবিতা মুগ্ধ কতিপয় অন্ধ অনুরাগী

তরুণ জীবনে তিনি কী দুর্বার রতিগতি ছন্দে

কল্লোলিত মুখরিতা তিস্তাজলে ভাসালেন তাঁর

সেই স্বপ্নজয়ী অসম্ভব সুন্দর একটা নৌকা;

সে-নৌকার দাঁড়ে আজ একেমন কান্নার মাতম:

দেবেশ দা নেই—দাদা নেই—সকলের দাদা

ছোটদের বড়দের ছেলেদের মেয়েদের দাদা—

আমার হৃদয়ে থাকা প্রিয় মুখ দেবেশ দা নেই।

 

এ বাংলার মাটি ফুঁড়ে উঠে আসা কথার নাবিক

সহজ সরল চিত্তে শিকারী বাঘের মতো তেজি

বাঙালির কথারাজ আমাদের দেবেশ দা নেই:

চিতার আগুন ছুঁয়ে তিনি আজ কালের সাগরে,

যে-সাগরে ডুব দিয়ে পেয়েছেন অতলের সিঁড়ি।

 

ও তিস্তা! তোমার জলে কার মুখ পূর্ণিমায় ভাসে—

ঢেউয়ের কান্না শুনে নড়ে কেন আসমানের তারা

জমিনে ঘুমের ডাকে সাড়া দেয় চিতার হরিণ;

ও হরিণ! বাঘ চিতা তোমাদের পায়ের নখড়ে

জীবনের একেমন গন্তব্যের পথ বাঁধা আছে! !

 

এ বাংলার মাটি ফুঁড়ে উঠে আসা কথার নাবিক

সহজ সরল চিত্তে শিকারী বাঘের মতো তেজি

বাঙালির কথারাজ আমাদের দেবেশ-দা নেই:

চিতার আগুন ছুঁয়ে তিনি আজ কালের সাগরে,

যে-সাগরে ডুব দিয়ে পেয়েছেন অতলের সিঁড়ি।

//জেডএস//

লাইভ

টপ