দেবেশ রায়ের কর্পোরেট-বীক্ষণ

Send
হামীম কামরুল হক
প্রকাশিত : ১৩:৩৯, মে ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৮, মে ৩১, ২০২০

দেবেশ রায়ের গদ্য-প্রবাহের এমন এক গুণ আছে যা পাঠককে টেনে নিয়ে যায়। ‘ভাসিয়ে নিয়ে যায়’ বলতে চাইছি না, কারণ তাঁর গদ্যে পাঠক পদে পদে বাধাগ্রস্ত হন। কারো কারো মতে, যে-শিল্প আস্বাদনে এই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, (যেমন কমলকুমার মজুমদারের রচনাবলী) তা করার পরও পাঠককে টেনে রাখতে পারে, সেখানে নিহিত থাকে তার হয়ে ওঠার সূত্র। দেবেশের গদ্যে নিত্যই এটা ঘটে। একটু বেখেয়াল হলেই পাঠক তাঁর গদ্য-প্রবাহ থেকে চ্যুত হন, আর আদতে তাকে চ্যুত হতেই হয়, কারণ দেবেশ কেবল আখ্যান লেখেন না, তার ভেতরে ঢুকিয়ে দেন, অবিরামভাবে মিশিয়ে দিতে থাকেন চিন্তার চূর্ণ, সেই চিন্তাগুলি পাঠকের সংবেদে একদিকে ঢুকে পড়ে এবং অন্যদিকে তিনি তাঁর গদ্যপ্রবাহ থেকে সরে আসতে পারেন না। একদিকে ঢুকে পড়েছে চিন্তা, অন্যদিকে চলছে আখ্যান। ঢুকে পড়া চিন্তার ফলে তিনি নিজস্ব বিচারবোধ দিয়ে ঘটনাগুলো ছেনে-ঘেঁটে দেখা শুরু করেন (ব্রেখটের নাটকের এলিয়েনেশন-তত্ত্বটা যেমন) এবং তাতে করে আখ্যানের পরবর্তী বর্ণনাস্রোত থেকে চ্যুত হয়ে যান। ফলে হঠাৎ তার খেয়াল হয় তিনি একটা পর্যায়ে এসে আর কিছু বুঝতে পারছেন না, তিনি কোথায় যেন পড়ে গিয়েছিলেন, এর ভেতরে তিনি ঘুরে এলেন, নিজে বিচার করা তার পরিপার্শ্ব ও তার দেখা পৃথিবীতে—লেখকের দেওয়া চিন্তার চূর্ণের যর্থাথতা খুঁজতে, আর এই করতে করতে তিনি সরে গেছেন উপন্যাস থেকে, লেখকের বর্ণনা থেকে, ফলে আবার তাকে, যেখান থেকে ওই চূর্ণটা পেয়েছিলেন, সেখানে ফেরত গিয়ে আবার পড়তে হয়। তাই বলতে চাইছি দেবেশের গদ্য ভাসিয়ে সামনে নিয়ে গেলেও ফের পিছুটান দেয়। বলা বাহুল্য এটা কেবল তো তাঁর একার বৈশিষ্ট্য নয়, তাঁর মতো গভীরগামী যেকোনো লেখকের বর্ণনাভঙ্গির বৈশিষ্ট্য। এই ধারায় তার সাম্প্রতিক উপন্যাস ‘কর্পোরেটে’ও দেবেশকে সেভাবেই পাওয়া গেছে।

‘কর্পোরেটে’র শুরু হয়েছিল ঢাকার প্রসঙ্গ দিয়ে আর শেষ হয় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রের একটি তেলের আগুনের ঘেরে—যেখানে গাড়িটি পানির ভেতরে পড়ে যায়, পরে একটি হাসপাতালে যেখানে এ উপন্যাসের মূল চরিত্র আনন্দের জ্ঞান ফেরে কিনা, বা মরে গেল কিনা এমন একটা দ্বিধা তৈরি হয়েছে।

শুরু হয়েছিল ব্যবসা-বাণিজ্য, তার গোড়া থেকে আগা অব্দি পরিবারিক নিয়ন্ত্রণ, কাজের লোকের চেয়ে নিজস্ব লোক যেখানে জরুরি ইত্যাদি ইত্যাদি দিয়ে, সঙ্গে জড়ো হয়েছে ব্যবসায় কর্পোরেট যুগের হালহক্কিকত—আর শেষে বিবেচনায় আছে আনন্দ ও কল্যাণীর একমাত্র কন্যা আনন্দময়ীর অটিজম। আদতে দাঁড়ায় কর্পোরেট পদ্ধতি নিজেই একটা অটিস্টিক দশার ভেতরে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। অটিজমের মূল যে লক্ষণ—এতে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনোভাবেই সামাজিক সংযোগ তৈরি করতে পারে না। কর্পোরেট পদ্ধতিও ব্যক্তিমানুষকে সেই স্তরে নিয়ে যায়। ফলে আনন্দর কোম্পানি যখন বাচ্চার চিকিৎসার ব্যয় বহন করার দায়িত্ব নেয়, তাতে আসলে ব্যাপার দাঁড়ায়, নিজেই নিজের রোগের পরিচর্যাকারী ভূমিকা গ্রহণ করার মতো। এর আগে একটি উপন্যাস ‘মার বেতালের পুরাণে’ আমরা পেয়েছিলাম যেখানে বলা হচ্ছে, ‘‘পরস্পরের ব্যাধিতে নিজেদের সংক্রমিত করেই কেবল আমরা এখন পরস্পরের কাছে সত্য হতে পারি। মানুষের সঙ্গে মানুষের এখন ব্যাধি ছাড়া কোনো সর্ম্পক তৈরি হতে পারে না।’’

ঢাকার জামান সাহেব কিংবা সোনাগাছির ভড় মহাশয়ের ব্যবসার চরিত্রের সঙ্গে আনন্দের যে মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানিতে চাকরি করে তার প্রতিতুলনায় ঘটে যায় এই উপন্যাসে। আমরা দেখতে পাই আধুনিক নানান অনুষঙ্গ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যেখানে তিন মহাদেশ জুড়ে ইন্টারভিউ হচ্ছে, আছে যৌন-অযৌন ব্যাপারাদি, সর্বোপরি অটিজমের কার্যকারণ অনুসন্ধান। চকিতে আসে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের বাস্তবতা। জাতি, ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার আভাসও এসে মেশে। আনন্দর অনুভবে আমাদের নতুন করে টের পেতে হয়, ‘‘সে নানা জায়গায় চাকরি করতে-করতে দেখেছে, ধর্ম ছাড়া কোথাও তো জাতি তৈরি হয় না। আবার নিজের পরিচয় দিতে তো কখনোই তার মুখে, ‘হিন্দু’ আসে না। ‘ইন্ডিয়ান’ আসে।’’ আনন্দর এরকমই একটা বাস্তবতা টের পাওয়া হয়, ‘‘আনন্দকে যদি কেউ হার্ডকোর-প্রফেশনাল বলে, সে খুশিই হয়। বিশ বছর ধরে তো সেও দেখে এল, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই। কোথাও তো দেখল না—নিজের লোককে কাজ না-দিয়ে কাজের লোককে কেউ কাজ দেয়।’’ আমরাও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেখতে পাই, ‘‘কথাটা তো ব্যবসা, মানে মুনাফা, মানে টাকা করা। ফ্যামিলি-ছাড়া টাকা থাকবেই-বা কোথায়, বইবেই-বা কোথায়?’’ আর ‘‘ফ্যামিলি বিজনেসই তো একমাত্র বিজনেস। জাপানিরা নতুন ম্যানেজমেন্ট শেখাচ্ছে। টয়োটা, হেবরন, হোম পজিশন। টয়োটার গল্প শুনে যে ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে, তারাই তো টয়োটার স্বার্থ সবচেয়ে বেশি দেখবে।’’

এদিকে ঠিকই লোক নেওয়া হয় বাইরে থেকে। সেই লোক কেবল ভাড়ায় খাটে। একটি চাকমা মেয়ে, যে অত্যন্ত যোগ্য, যোগ্যতার কারণেই সে নিজের পছন্দ মতো তার দক্ষতা বিক্রি করে—যা থেকে উঠে আসে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ব্যক্তির শ্রম বিক্রির মূল দিক, কিন্তু সে তো ওই ব্যবসার মূলে যে ফ্যামেলি তাদের মত ছাড়া সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। বাতিল হয়ে যায়। ফলে কর্পোরেট পুঁজিবাদের নতুন কৌশল হলেও তার ভেতরমূলে আদ্যিকালের পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের বদ্যিবুড়াটি আগের মতোই অনড় বসে আসে। ফলে জামান সাহেব ইংরেজি না জেনেও বোঝেন কাকে কোম্পানিতে নিতে হবে, কাকে নিতে হবে না। ভড় মহাশয় লেখাপড়ার তেমন জুৎ করতে না পারলেও বড় বড় লেখাপড়া করনেওয়ালারা যে তাদের তালে পড়ে থাকে তাও টের পাওয়া যায়। তাহলে আমরা যে আধুনিকতা, আধুনিক-মন—ইত্যাদির জন্য কখনো গর্ব করি, কখনো হাপিত্যেশ করি—এর সবই বানানো বিষয় ছাড়া আর কী। ওপরের আস্তরে কিছু রঙ বদল হলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের ভেতরকাঠামোতে যে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ—তাতে যে-ব্যক্তি ওই ব্যবসায়ী পরিবারের নিজস্ব লোক নয়, তার তেমন প্রবেশাধিকার নেই, মোটাবেতনের উচ্চপদের কর্মচারী হওয়া ছাড়া এবং আরাম-আয়েশের বিচিত্র সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও সে কেবল কর্মচারী মাত্র, ফ্যামিলি বিজনেসের বর্মধারী মাত্র। তার পরিবারের, বিশেষভাবে অসুস্থ শিশুর দায়-দায়িত্ব নেওয়ার পর সে তাদের হয়েও তাদের নয়। ফলে যেরকম নিজেদের যোগ্যতা-দক্ষতা ‘বিক্রি’ করতে এক কোম্পানিতে থেকে আরেক কোম্পানিতে যেতে তাদের বাধে না, বাধাও নেই, কারণ খুব বেশি দিন কেউ কোথাও শেকড় গেড়ে ফেললে তাতে নির্ভরতা-রোগেরও জন্ম হতে পারে। কর্পোরেটের নির্ভরতার তো দরকার নেই, তাদের দরকার, যে কাজে যে যে ভূমিকা পালন করলে তাদের মুনাফা বাড়বে সেটি নিশ্চিত করা।—এই বিষয়গুলো দেবেশ রায়ের ‘কর্পোরেট’ উপন্যাসের কাহিনির সূত্র ধরে আমাদের চিন্তায় ঢুকে পড়ে।

কারো কারো মনে হতেই পারে, এটি একটি খাপছাড়া উপন্যাস। একভাবে শুরু হয়ে পরে আরেকভাবে শেষ হওয়া রচনা, বা তাল কেটে যাওয়া উপন্যাস। এখানে দেবেশের অন্যান্য আকারে সংক্ষিপ্ত উপন্যাস, যেমন ‘জন্ম’ বা ‘আত্মীয়বৃত্তান্ত’ বা ‘আপাতত শান্তিকল্যাণ হয়ে আছে’-র মতো নিবিড় ধারাক্রমের বুনন নেই, কিন্তু বর্তমান সময়ের যে অন্যতম দিক, যে ‘কেয়োটিক’ বাস্তবতা, যাতে আদতে সবকিছুই বিশেষ করে চিন্তার ধারাক্রম নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলতা আক্রান্ত সেখানে ‘নিটোল’ কাহিনিসম্পন্ন উপন্যাস তো এই সময়ের সত্যিকারের চৈতনের প্রতিনিধিত্ব করে না বলেও কেউ কেউ মনে করেন। শুধু বাংলাসাহিত্যের দেবেশ রায় কেন ফরাসিসাহিত্যে নাতালি সরোৎ থেকে জাঁ গুস্তাভ লে ক্লেজিও-র উপন্যাসগুলি এ কথাটাকে আরও স্পষ্ট করে।

তবে উপন্যাস লেখার শুরু থেকেই দেবেশ উপন্যাস ভুবনে দ্বিমুখী টানের ভেতরে নিজের ভারসাম্য তৈরি করে ফেলেছেন। একদিকে লিখছেন ‘যযাতি’ অন্য দিকে লিখছেন ‘মফস্বলি বৃত্তান্ত’, একদিকে লিখছেন ‘যৌনলেখ’, প্রায় সমান্তরালে লিখছেন ‘বরিশালের যোগেন মণ্ডল’। উপন্যাসে পুরাণ, ইতিহাস, ব্যক্তির ভূমিকা এবং সমকালীনতাকে বার বার পরীক্ষা করেছেন এবং তাঁর সেই তদন্তের তৈরি হয়েছে ‘আঙিনা’, ‘মার বেতালের পুরাণ’ ও ‘কর্পোরেটে’র মতো উপন্যাস। আধুনিক অনুষঙ্গের প্রায় কোনোটই তাঁর কলমের কাছ থেকে ছাড় পাচ্ছে না। টেস্টটিউব বেবি, পর্নোগ্রাফি, এইডস, কর্পোরেট, কর্পোরেট মিডিয়ার ব্যবসাসহ প্রায় সবকিছু ঢুকে পড়েছে তাঁর লেখায়। তারপর তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘সমকালীনতা বাদ দিয়ে উপন্যাস হয় না, আবার কেবল সমকালীনতা দিয়েও উপন্যাস হয় না।’’ উপন্যাসে ব্যক্তির ভূমিকাকে একজন লেখক কোনখানে নিয়ে যেতে পারেন সেই সূত্রটি ধরিয়ে দিতে বলেছিলেন, ‘‘যে ব্যক্তির ইতিহাস নেই, সে কেন আমার কাছে ইন্টারেস্টিং হবে? যতক্ষণ না আমি তাকে ইতিহাসটা দিতে পারছি। যেটা আমার কাজ, লেখকের কাজ।’’ (জারি বোবাযুদ্ধ, জানুয়ারি ২০১০) ফলে নিজের উপন্যাসগুলো তার লোকজনেরা ইতিহাসের লোকজনই হয়ে যায়। যেমন ‘কর্পোরেট’ উপন্যাসের আনন্দও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিশ্ব ইতিহাসের চালচিত্রটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও সে এর ভেতরেই প্রবেশ করেছে। এই প্রসঙ্গে আরও একবার তাঁর উপন্যাস ‘মার বেতালে পুরাণে’র শরণ নেই, যাতে ঔপন্যাসিকের ভূমিকাটা দেখে নেওয়া যেতে পারে। দেবেশ সেখানে লিখেছিলেন, ‘‘আমি কি সেই মুখোশটাকে আঁকছি, ছৌয়ের কিংবা কথাকলির, সব মুখরেখাগুলিকে আমি অনড় করে দিচ্ছি? সেই ফর্মটাকে তৈরি করে তুলতে আমরা মুক্তি দরকার? ফর্মের সম্মুখে তো আমরা অসহায়। সেটাই আমাদের একমাত্র আনুগত্য। ‘আকার’ যদি তৈরি হয়ে গিয়ে থাকে, ‘রূপ’ যদি ইন্দ্রিয়ে এসে থাকে, সেই আকার ও রূপকে আমায় দেখতেই হবে: বিশ্বরূপ, ‘আখ্যাহি মে কো ভবানুগ্ররূপো।’ নইলে আমি উপন্যাস লিখতে আসব কেন?’’

কার্লোস ফুয়েন্তেস ‘ইন প্রেইজ অব দ্য নভেল’ বক্তৃতায় ‘দন কিহোতে’র মহিমা তুলে ধরতে গিয়ে আদতে তো দেখিয়ে দেন ঔপন্যাসিক ও উপন্যাসের ভূমিকাটি। তিনি বলেছিলেন, ‘‘ইতিহাস যা ভুলে যায়, উপন্যাস তা মনে করিয়ে দেয়।’’ দস্তয়েভস্কির উক্তি টেনে এনে দেখান—যেখানে সার্বান্তেসের এই উপন্যাস সম্পর্কে দস্তয়েভস্কি বলেছেন, ‘‘এখানে মিথ্যা দিয়ে সত্যকে বাঁচানো হয়েছে।’’ উপন্যাসের কাজ তো এর চেয়ে খুব বেশি সরে এসেছে কি? শিল্প তো একটা কাল্পনিক কাজ, মানে মিথ্যা ও অলীকতাই এর ভিত্তি। অথচ এর পুরো ব্যাপারটাই সত্য, রামের জন্মভূমি অযোধ্যর চেয়েও সত্য হয়ে ওঠে শিল্পী যা রচনা করে। অন্নদাশঙ্কর যেটাকে বলেছিলেন, “বানিয়ে বানিয়ে সত্য বলা।’’ ফলে দেবেশ যখন বলেন, ‘‘শিল্পই একমাত্র জায়গা যা একটুকরো মিথ্যা বহন করতে পারে না।’’—তাঁর এই কথা সেখানে অকাট্য হয়ে ওঠে। চেতনাকে, চিন্তাকে সেই স্তরে নিয়ে যেতে পারে বলেই তো উপন্যাস লেখা।—দেবেশ উপন্যাস বা আখ্যান নামে যা-ই লিখুন না কেন, এই সত্য ও বাস্তবতা থেকে কখনো সরে আসেন না। ‘কর্পোরেট’-এর ক্ষেত্রেও এরই চাষবাস চলেছে এবং এর ফসল কতটা ফলেছে—সুতীক্ষ্ণ চেতনার অধিকারী পাঠকমাত্র সেটি প্রত্যক্ষ করবেন।

//জেডএস//

লাইভ

টপ