সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা একগুচ্ছ গোলাপ

অনুবাদ : ফরহাদ নাইয়া
২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৫৭আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৫৯

[ইরানের কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বাখতাস আবতিন গত ৮ জানুয়ারি কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি প্রেম ও দ্রোহের কবিতা লিখে সরকারের শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বাঁকস্বাধীনতার পক্ষে লড়েছেন আজীবন। চলচ্চিত্রের সেন্সরশিপ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছেন। বাখতাসের এই প্রতিবাদী অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় জেল খাটতে হয়েছে। বন্দি এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় মরেছেন তিনি। 
বাখতাস আবতিনের জন্ম ১৯৭৪ সালে ইরানের শহর রেতে। কবিতার বই তিনটি। ২০২১ সালে পেয়েছেন পেন অ্যাওয়ার্ড। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৫ মে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং পাঁচ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেয়। এর আগেও তিনি বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রীয় মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন। গ্রেফতার করে তাকে রাখা হয় ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে।] 

অনুবাদ : ফরহাদ নাইয়া


হৃদয়

আমার হৃদয়
নদীর শব্দের মতো উচ্ছল আর উদ্বিগ্ন
অথচ তোমার আঙুল জানে না কিভাবে পড়তে হয় প্রেমে
কথায়, বাক্যে আমি আর কিভাবে বলব!
কিভাবে?
কিভাবে?
তারচেয়ে জ্যোতিস এসে দেখুক
আমার চোখের ভেতরে
বছরের পর বছর ধরে
রয়ে গেছে কার নাম।
আমার চায়ের কাপ
বিছানায় বিছানো মাদুর এবং আমি
আমরা আজো তোমার অপেক্ষায়।


তোমার মতো

যে মদ আমি পানই করিনি
তার স্বাদ কিভাবে তোমার মতো হয়।
কত কত দুখিকথা
কাপের তলানিতে জমে আছে
আমার সামনের
দেয়ালের মানচিত্রটি বহন করে
কত ব্যথা
মানচিত্রে একটি সমুদ্র আছে
যা গতিহীন ঢেউহীন আর নির্জীব।
তুমি ছাড়া
এখানের দ্বীপটিও বাঁকা দুঃখের মতো
যা এই সাগরে উড়ে পড়েছে
এবং আমি সেখানে
একটি লুকানো আলপিনের নিচে বসে তোমাকে ভাবছি প্রিয়তমা।


ক্ষত

তোমার চোখের গভীর ক্ষতের মাঝে একটা দাগ থেকে যায়
আমি কী বলতে পারি?
বেডকভারে রয়ে যাওয়া দাগ
তোমার কনুয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।


কালো রাত

কালো বলতে রাত্রিকে বুঝি
বিদায় বলার পর তোমার ভেজা কণ্ঠকে
অন্ধকার গলির মতো লাগে।
বন্ধু...
আমি থাকি বা না থাকি
প্রতি সন্ধ্যায়,
আমার স্বপ্ন
তোমাকে চুমু খাবে গলির ভিতরে।
সাদা দেখলে হাসপাতাল হাসপাতাল লাগে
ফ্যানের পাতলা ব্লেডে
পৃথিবী এখনো ঘুরছে আমাকে ঘিরে
তুমি এখানে নেই, তাই
রাত্রির পা ধুইয়ে দেই
ঢেকে নেই সাদা কম্বলে
ভান করি, মরে গেছি
মরে গেছি একেবারে।
ফার্সি থেকে পারিসা সারঞ্জের হাত ধরে ইংরেজি।
আবতিন, খেত থির, হেলিন বোলেকরা মরে গেছে ঠিকই কিন্তু সারা দুনিয়ার
মুক্তিকামী মানুষের জন্য তারা স্বপ্ন রেখে গেছে। রেখে গেছে কবিতা, গান,
সিনেমা। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা তারা একগুচ্ছ লাল গোলাপ,
তাদেরকে ভালোবাসা।

/জেডএস/
সম্পর্কিত
ক‌বি শামীম রেজা‌র ক‌বিতা নি‌য়ে পিএইচ‌ডি করলেন ভারতীয় গবেষক
এই বেঁচে থাকা কিংবা মরে যাওয়া
চেনা দুই পুরুষ
সর্বশেষ খবর
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী