X
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
উপন্যাস

বিকল্প অর্থনীতি ও গ্রাম্য কায়কারবার

সাজেদুল ইসলাম
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:০৮

নুরু মাঝি যে ঘাটে বৈঠা ঠেলে মানুষ পারাপার করে সেই খেয়াঘাটের ওপাড়ে এক ছোট সড়ক এসে পথের ইতি টেনেছে। জিরাকাঠি গ্রামের মানুষ মফস্বলের সংযোগ পেতে ছোট সড়কটিকে অবলম্বন করে। শহর থেকে যারা জিরাকাঠি পৌঁছাতে চায় তারা সড়কের শেষ প্রান্তে এসে নুরু মাঝির নৌকায় ওঠে। দিনভর সড়কের মত খেয়াঘাটও শশব্যস্ত থাকে। তবে ভোরের দিকে সড়কের মত খেয়াঘাটেরও কাজ কমে যায়। জনশূন্য সড়ক ও খেয়াখাট পথিকের আশায় পথ চেয়ে থাকে। কারো ফেরার কথা আছে, কেন এখনও এলো না– পরিস্থিতি বিরাজ করে সর্বত্র। ডাওরে এই হাহাকার আরও প্রলম্বিত হয়। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সড়কের শেষপ্রান্তে খুব ভোরে কেউ এসে থিতু হবে– তা সহজে ভাবা যায় না। এমনকি কাক-পাখির ঘুম ভাঙল-কী-ভাঙেনি– এই নিয়ে দ্বিধা থাকে নিদারুণ বৃষ্টিতে। অথচ এদিন ভোরে গাছতলায় আচমকা এক আগন্তুকের আবির্ভাব ঘটে।

আগন্তুক লোকটির পাশে দাঁড়ানো রয়েছে এক সবুজ মিশুক। নুরু এবার নিশ্চিত হয় মিশুকটি হরিণ শাবকের মত লাফিয়ে লাফিয়ে আগন্তুককে ঘাটে এনে ভিড়িয়েছে। অবশ্য মিশুক মালিকের পেট চালানোর দায় না থাকলে তারও বৃষ্টিভোরে এখানে আসার কথা নয়। মিশুক এই ধাবমান কচা নদীকে সঙ্গে করে এনে খেয়াঘাটে ছেড়েছে। হরিণ শাবক যেমন পথ ভুল করে না তেমনি মিশুকও চেনে এই পথঘাট। চেনে নুরু মাঝির পাড়াপাড়ের খেয়া। খেয়াঘাটের কাছেও পরিচিত মিশুকের তীব্র ঝিরঝির শব্দ ও কালো ধোঁয়া। সড়কটি নদী ঘেঁষে নির্মিত হওয়ায় পথ পথিককে অনিবার্যভাবে শেষপর্যন্ত খেয়াঘাটে পৌঁছে দেয়। ফলে পথ না চেনার কোনো প্রশ্ন নেই। নদী চিনলে পথও চিনতে হবে। সাতসকালে যে পথিক এই পথ ধরে খেয়াঘাটে ফিরেছে সে নিশ্চয়ই দেখেছে উতল জলের নাচন, অসংলগ্ন পথঘাট– কোথাও ইট আছে, কোথাও নেই, সড়কের দুই কিনারে লালচে ইটে সবুজ শেওলার বাড়বাড়ন্ত দশা। সন্ধ্যা বাংলাদেশের অন্যতম নদী। সংবেদনশীল হৃদয়ের মতো গভীর সে নদী। আর কচা হল সন্ধ্যার শাখা। কেউ কেউ বলে সন্ধ্যার ছোটভাই কচা। কচার যে অংশে নুরু বৈঠা বায় সেখান থেকে কিছুদূর সামনে এগোলে সন্ধ্যার সাক্ষাৎ মেলে। কচা গিয়ে সন্ধ্যায় মিলেছে নাকি স্বস্নেহে সন্ধ্যা টেনে নিয়েছে কচাকে। কে কাকে ডেকেছে, কে কাকে টেনেছে– এই প্রশ্নের মীমাংসা না হলেও নদীদ্বয়ের মিলন স্থলে এক বিস্তৃত জলোপাখ্যান সৃষ্টি হয়েছে– তা স্পষ্ট।

আগন্তুককে দেখে নুরু মাঝি ব্যস্ত হয়ে ওঠে। তড়িৎ কৌশলে নৌকা নিয়ে ওই পাড়ে ভিড়িয়ে দেয়। যেন শিকারী মাছ ধরবে বলে কৌশলী জাল ছড়িয়ে দিল। সুর সুর করে এবার জালের ভিতর মাছ ঢুকবে। আগন্তুককে নৌকায় তুলে নুরু মাঝি জানতে চায়, বিয়ান বেলায় এত বৃষ্টি মাথায় নিয়া কই যাইবেন? প্রশ্ন করতে করতে নুরু আকাশের দিকে তাকায়। যেন সে আবহাওয়ার গতিবিধি, আকাশ ও বৃষ্টি মাপজোখ করতে জানে। প্রশ্নের সঙ্গে লেজ জুড়ে দিয়ে বলে, আইলেনই বা কই থেইকা? আগন্তুক নুরু মাঝির কথায় তেমন সায় দেয় না। চুপ করে থাকে। কেউ কোনো প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়া ভদ্রতা। অনেকে চুপ থেকে অহমিকা দেখায়। সব কথায় সায় দেয় না। নুরু এই অহমিকার পাত্র নয়। কতশত লোককে সে নদী পাড় করে রোজ পরিত্রান দেয়। এবার নুরু জোর গলায় বলে, কী মেয়া কিছু কন না যে? নুরুর উচ্চস্বরে আগন্তকের ঘোর কাটে। আগন্তুক বয়সে যুবক। মাথায় সরু চুল। পরনে মার্জিত পোশাক। সে বলে, কিছু বলছেন? নুরু এবার বিরক্ত হয়। কই যাইবেন? বাড়ি কই আম্নের? নুরুর প্রশ্ন ও স্বর শুনে আগন্তুক অপ্রস্তুত হয়। ঢাকা থেকে এসেছি। মোড়ল বাড়ি যাব। উত্তর শুনে নুরু এবার প্রশ্নের পরিধি প্রশস্ত করে। মোড়ল বাড়ি কার কাছে যাবেন? আগন্তুক যুবক এবার বিরক্তি নিয়ে চিন্তা করে– এ কোন কর্পোরেট অফিসের রিসিপশনে এসে পড়লাম। নামধাম, পরিচয়, ফোন নম্বর, কোথা থেকে এসেছি, কার কাছে যাব– এসব কী। তবু সে উত্তর দেয়, বলে, আমি মোড়ল বাড়ির ছেলে। হায়দার মোড়ল আমার দাদা। নুরু এবার দ্বিধান্বিত হয়ে বলে, আম্নেরে আগে দেহি নাই। আম্নে হায়দার মোড়লের নাতি? আগন্তুক হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ে। নুরু এবার বলে, বাড়ি-ঘরে তো তালা দেওয়া, লোক থাহে না। কার কাছে যাবেন? অপরিচিত যুবক বিরক্ত হলেও বুঝতে দেয় না। বলে, আমার কাছে চাবি আছে। চাবির কথা শুনে নুরু হায়দার মোড়লের উত্তরাধিকার সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। তবু বলে, চাবির মালিক অইলেই ঘরে ঢোহা যায়? মেলাদিনের বন্ধ ঘর। আলো নাই, হাওয়া নাই। যুবক এবার নুরু মাঝির কথার মর্ম বুঝতে পারে। মালিকানা এবং সম্পর্ক দুটি ভিন্ন বিষয়। সম্পর্ক ধারাবাহিকতা কামনা করে। হায়দার মোড়লের ভিটায় যুবকের উত্তরাধিকার থাকলেও মাটির সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। মাটি চিরকালীন সম্পর্কের দাবি করে। খন্ডকালীন প্রেমে মাটি সিক্ত হয় না। নুরু নৌকাটিকে ঘাটে ভিড়িয়ে দিতে দিতে এবার আগন্তুককে বলে আমার নাম নুরু। লোকজন নুরু মাঝি নামে চেনে। আম্নের নাম তো কইলেন না। সাবধানে নৌকা থেকে নেমে যুবক বলে, আমার নাম মেঘনাদ। মেঘনাদ রিহিল। যুবককে অবাক করে নুরু এবার বলে, নামের লগে মোড়ল নাই? বিরতিহীন বৃষ্টির ভোরে নুরু মাঝির সংশয় দূর করতে হলে নামের বিষয়টি আগন্তুক রিহিলকে খোলাসা করতে হবে। নিঃসঙ্গ সকালে নূহের কিস্তির মতো নৌকা নিয়ে হাজির হয়েছে নুরু মাঝি। অপরিচিত যুবককে পার করে দিয়ে এইটুকু জানার অধিকার মাঝির আছে। যুবক বলে পারিবারিক নাম মেঘনাদ মোড়ল। এতক্ষণে নুরুর দিকে চেয়ে মেঘনাদ আশ্বস্ত হলো। মনে মনে ভাবলো, যাক, এই লোককে শেষপর্যন্ত আশ্বস্ত করা গেল।

ঘরের সম্মুখভাগে সিঁদুর রঙে বাঁধানো বেঞ্চ। এই বেঞ্চকে লোকে আরো পৃথক দুটি নামে ডাকে। একটি হলো শান। এখানে বসে ক্ষণিকের শান্তি মেলে বলে লোকে শান বলে। ভিন্ন অর্থে শান গৌরব ও আভিজাত্যের প্রতীকও। দ্বিতীয় যে নাম দেওয়া হয়েছে সেটি– আলিস্যা। অলস সময় কাটানোর উত্তম স্থান বলে সম্ভবত লোকে এই নাম দিয়েছে। নয়তো এই নামের অনুকূলে কোনো ব্যাখ্যা জোগাড় করা যায় না। বসবার উপযোগী করে নির্মিত চুন-সুরকি দিয়ে পোস্তা করা শান দেখতে সিংহাসনের উভয় দিকে থাকা বিশেষ তখতের মত। যেন দরবারের রাজমন্ত্রকদের জন্য নির্ধারত আসন। আছে পিছনে হেলান দেওয়ার মত স্তম্ভ। ঘরের চৌকাঠ পেরোলে সম্মুখ দরজা লাগোয়া শানে ঘরের লোকেরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষাণিকক্ষণ বসতে পারে। বাইরের লোকের গৃহ প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনাকালীন সময় থেকে গৃহ প্রবেশের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বসার আয়োজন রেখে তৈরি করা হয়েছে রঙিন বেঞ্চ। দরজার ডানে ও বামে বসার এই আয়োজন। দুইদিকে চারজন করে মোট আটজন বসতে পারে। প্রতিটি বেঞ্চের তলায় রয়েছে চারটি করে মোট আটটি কুঠুরি। ছোট ছোট কাঠের দরজায় মোড়ানো সেসকল কুঠুরিতে পিতলের বদনা, ঘটি, চটি ও বাজারের ব্যাগের মত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা হয়। কুঠুরির ছোট ছোট কাঠের দরজায় উৎকীর্ণ রয়েছে স্বর্ণালী লতা। লতার শরীর জুড়ে সংযুক্ত রয়েছে অগুন্তি পাতা। দুই বেঞ্চের পৃষ্টদেশে উৎকীর্ণ আছে মনীষীকথা। একপাশে লেখা সত্যপ্রেম পবিত্রতা। অন্যপাশে লেখা অন্তরে বিতৃষ্ণা, মুখে ভালোবাসা, তারচেয়ে অনেক ভালো প্রকাশ্যে শত্রুতা। বাড়ির লোকেরা সকালে ঘুম ভেঙে এখানে বসে। বিশেষত পুরুষ লোকেরা এখানে বসে সকালের চা-টুকু পান করে। চায়ের সঙ্গে থাকে মুড়ি, চালভাজা ও হালকা টোস্ট। পালাক্রমে বিকেলে বাড়ির নারীরা শানে এসে জড়ো হয়। গল্পে গল্পে কেউ চুল বাঁধে, কেউ অন্যের মাথায় বিলি কাটে।

হায়দার মোড়ল ব্রিটিশ শাসনের কালে বেঁধেছিলেন এই শান। তিনি গত হলেও তার বেঁধে দেওয়া শান এখনও অবিচল। তবে শানের উপর ঘটে যাওয়া সেসব দৃশ্য এখন অতীত। হায়দার মোড়লের ভিটায় এখন ঘুঘু চড়েছে। জনশূন্য বাড়িতে ঝুলছে লোহার তালা। ঘরের সামনের শান কেবল ঘরদোর পাহারা দেয়। পূর্ণিমা রাতে বাঁধানো শানে পাশের বাড়ির কেউ কেউ এসে গান ধরে। কেউ নতুন গান বাঁধে।

হায়দার মোড়ল ব্যক্তিগত জীবনে এগার সন্তানের জনক ছিলেন। এখন লোকান্তরিত পুরুষ। জিরাকাঠি গ্রামে তাকে নিয়ে প্রচলিত আছে নয়শ নব্বইটি উপকথা। ধনাঢ্য এই গ্রামীণ কারবারির নামে গ্রামে এবং ধাবমান নদীর কূলে কূলে এখনও কথা ভেসে বেড়ায়। কিছু কথা সত্যি, কিছু কথা অপূর্ণ। কিছু অতিরঞ্জিত। ধান-চালের সফল কারবারি হায়দার মোড়লকে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ গ্রুপ ফুসলিয়ে একবার চেয়ারম্যান নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দিল। মোমবাতি প্রতীক নিয়ে হায়দার মোড়ল নির্বাচনে জয়ী হলেন। জনসেবার ভূত মাথায় চেপে কারবারিতে মনোযোগ হারালেন। প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ধারদেনা করে দেউলিয়া হলেন। দ্বিতীয়বার নির্বাচনে গিয়ে চেয়ার হারালেন। চেয়ার ও কারবারি হারিয়ে পাগল হওয়ার জোগাড় হলো হায়দার মোড়লের। এমন সময়ে আটটি সন্তান রেখে তার স্ত্রীর মৃত্যু হল। ব্যবসায়-বাণিজ্যে খ্যাতি ও নেতৃত্ব হারিয়ে পথের ভিখিরি হবারকালে স্ত্রীর বিদায়ে চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়লেন হায়দার মোড়ল।

পঞ্চাশোর্ধ্ব হায়দার মোড়ল এবার ঘরে আনলেন দ্বিতীয় স্ত্রীকে। দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম আম্বালা বেগম। নাম নিয়ে শুরুতে হোচট খেলেন হায়দার মোড়ল। মোড়লের চতুর্থ কন্যার মিতা হলেন তার নতুন স্ত্রী। শুধু নামের সাদৃশ্য নয় বয়সেও দুই আম্বালা প্রায় কাছাকাছি। বিয়ের জন্য হায়দার মোড়ল কয়েক গ্রাম দূরে যেদিন আম্বালা বেগমকে দেখতে গেলেন সেদিন স্বল্পবয়সী সুন্দরী আম্বালা সখীদের সঙ্গে শ্যাওলাধরা উঠোনে খেলছিলেন। পিতার বয়সী মোড়লকে দেখে সুন্দরী আম্বালা ভেবেছিলেন লোকটি তার পুত্রের জন্য কনে দেখতে এসেছেন। কিশোরী আম্বালার ভুল ভাঙতে সময় লাগেনি। দিন পনেরোর মধ্যে নাছোড়বান্দা হায়দার মোড়ল আম্বালাকে নিয়ে ঘরে তুললেন। পুত্রের জন্য নয়। নিজের রমণী হিসেবে। আম্বালা দেখলেন ঘরের বড় কন্যার চেয়ে তিনি নিজে বয়সে অন্তত বারো বছরের ছোট। ঘরের বড় কন্যার চেয়ে বয়স কম হলেও অসুবিধা হল না আম্বালার। বড়কন্যা শশুরবাড়ি থেকে মাঝেমধ্যে স্বামী-সন্তানসহ বেড়াতে আসে। কিন্তু নয়া কন্যার সঙ্গে নামের মিতালী আম্বালাকে ফেসাদে ফেলল। হায়দার মোড়ল যখন আম্বালা বলে ডাক দিতেন বিবি আম্বালা বিষ্ময়ে পেরেশান হতেন। মনে মনে বলতেন– হায় মাবুদ, জগতে এমনও ঘটনার সাক্ষী করলেন আমারে। তিনবছর ঘুরতে না ঘুরতে আম্বালার কোলজুড়ে দুটি সন্তান এলো। আম্বালাকে ফের পোয়াতি রেখে প্রাণঘাতী রোগে দুনিয়া ছাড়লেন হায়দার মোড়ল।

আম্বালার সঙ্গে হায়দার মোড়লের বয়সের মাঝে তিন যুগের ব্যবধান ছিলো। এই ব্যবধান দুজনের মাঝে সর্বাত্মক দেওয়াল তুলে দিল। আম্বালা বেগম বাড়ির কাজ করতেন। ভাঙনের মুখে পতিত সংসারে একপাল ছেলেমেয়ের জন্য খাবারের বন্দোবস্ত করতেন। হায়দার মোড়লের কাছে যাওয়ার ফুসরত হতো না। তবু রাতে ঘুমাবার কালে হায়দার মোড়লকে আম্বালা নানান অভিযোগ শোনাবেন বলে মনে মনে তালিকা সাজাতেন। কিন্তু হায়দার মোড়ল সেসব কানে তুলতে চাইতেন না। আম্বালা একদিন মনস্থির করলেন স্বামীকে সবকিছু বলবেন। সমাধান না হলে বাপের বাড়ি চলে যাবেন। ঘরে সতীন নেই তবে অনটন আছে। সতীনের বড় বড় সন্তান আছে। যেন– সতীন নেই সতীনের কাঁথা আছে, সাক্ষাত সতীন বেঁচে আছে। আম্বালা ভয়ে ভয়ে বললেন, আম্নে লগে একটু কতা আছিল। বিশেষ কী কথা থাকতে পারে তা হায়দার মোড়ল অনুমান করতে পারেন। তিনি বলেন, ঘুমানোর সময় এত কথা কওনের কী কাম। সব অভিযোগ দূরে রেখে এবার আম্বালা বলেন, আফনে তো আমার কোনো কতা শুনবার চান না। আমার লেইগা আফনের হাতে কোনো সময় নাই। হায়দার মোড়ল আম্বালা বেগমের ক্ষোভ আন্দাজ করতে পেরে বলেন, তুমি বুঝি জান না যে আমি সারাদিন মাঠে-ময়দানে ব্যস্ত থাহি। আম্বালা এবার বিদ্রূপের হাসি হাসেন। হেসে হেসে বলেন, যার আতে সময় নাই মানুষ তার কাছেই সময় চায়। যার আতে অঢেল টাইম তার কাছে কেডা সময় চায়। স্ত্রীর কথা শুনে হায়দার মোড়ল বুঝতে পারেন জীবন হলো বরফপানি খেলার মতো। প্রায়শই দুঃখ-হতাশায় জমে জীবন বরফ হয়ে থাকে। তখন প্রিয়জনের একটু স্পর্শ প্রয়োজন হয়। একটু ভালো কথা, একটু আদরে, একটু আহ্লাদে ব্যথার বরফ গলে নিমিষে জল হয়ে যায়।

চলবে

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ধোনি-জাদেজার লড়াই ছাপিয়ে প্লে অফে বেঙ্গালুরু
ধোনি-জাদেজার লড়াই ছাপিয়ে প্লে অফে বেঙ্গালুরু
হীরকজয়ন্তীর পর সংগঠনে মনোযোগ দেবে আ.লীগ
হীরকজয়ন্তীর পর সংগঠনে মনোযোগ দেবে আ.লীগ
নীরবে মামুনুল হক,  শাপলা চত্বরের ঘটনা বিশ্লেষণের সিদ্ধান্ত
নীরবে মামুনুল হক, শাপলা চত্বরের ঘটনা বিশ্লেষণের সিদ্ধান্ত
তীব্র হচ্ছে রুশ হামলা, গোলাবারুদের জন্য মরিয়া ইউক্রেনীয় সেনারা
তীব্র হচ্ছে রুশ হামলা, গোলাবারুদের জন্য মরিয়া ইউক্রেনীয় সেনারা
সর্বাধিক পঠিত
মামুনুল হক ডিবিতে
মামুনুল হক ডিবিতে
৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের
৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের
সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের স্থান পরিদর্শন প্রধান বিচারপতির
সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের স্থান পরিদর্শন প্রধান বিচারপতির
আমেরিকা যাচ্ছেন ৩০ ব্যাংকের এমডি
আমেরিকা যাচ্ছেন ৩০ ব্যাংকের এমডি
নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভালো সড়ক কেটে ২ বছর ধরে খাল বানিয়ে রেখেছে
নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভালো সড়ক কেটে ২ বছর ধরে খাল বানিয়ে রেখেছে