X
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২
১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ঈদসংখ্যা ২০২২

৩টি ফ্ল্যাশ ফিকশন

অনুবাদ : সুকন্যা মন্ডল
৩০ এপ্রিল ২০২২, ১৩:২১আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২২, ১৪:০৫

একটি ভীষণ ছোটগল্প ।। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

পাদুয়ায় এক উষ্ণ বিকেলে তারা তাকে ছাদে বয়ে নিয়ে এসেছিল যেন সে শহরের দৃশ্য ওপর থেকে দেখতে পারে। আকাশে চিমনি সুইফট পাখিরা উড়ছিলো। কিছুক্ষণ বাদে অন্ধকার নেমে এলো এবং সার্চলাইটের আলো দৃশ্যমান হচ্ছিল। অন্যরা নিচে নেমে গেল এবং বোতলগুলো তাদের সাথে করে নিয়ে গেল। সে এবং লাজ নিচের বারান্দা থেকে তাদের শুনতে পাচ্ছিল। লাজ বিছানায় বসেছিল। সেই উষ্ণ রাতেও সে ছিল শীতল এবং সতেজ ।

লাজ তিন মাস যাবত নাইট ডিউটি করছিল। তারা তাকে এই সুযোগ দিতে পেরে খুশিই ছিলো। যখন তারা তার অপারেশন করছিল লাজ তাকে অপারেশনের জন্য তৈরি করে দিয়েছিল; এবং তারা একটি কৌতুকও করেছিল বন্ধু বা ডুশ নিয়ে। সে অনুভূতিনাশক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যাওয়ার সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করছিল যেন সে সেই সময়টায় বোকাটে, অর্থহীন বাচালতা এড়িয়ে যেতে পারে। ক্রাচ ব্যবহার শুরুর পর থেকে সে নিজেই নিজের তাপমাত্রা পরিমাপ করত যেন লাজকে তার বিছানা থেকে উঠতে না হয়। সেখানে গুটিকয়েক রোগী ছিল, এবং তারা সকলেই ব্যাপারটা জানত। তারা সকলেই লাজকে পছন্দ করত। হলঘর দিয়ে হেঁটে ফিরে আসার সময় সে লাজকে তার বিছানায় চিন্তা করছিল।

যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার আগে তারা ডুয়োমোতে গিয়েছিল এবং প্রার্থনা করেছিল। জায়গাটি ছিলো অনুজ্বল এবং শান্তিপূর্ণ, এবং সেখানে অন্য মানুষেরা প্রার্থনা করছিল। তারা বিয়ে করতে চেয়েছিল, কিন্তু তখন গির্জায় প্রস্তাবিত বিয়ের ঘোষণার ব্যবস্থা করার মতো যথেষ্ট সময় ছিল না, এবং দুজনের একজনেরও জন্মসনদ ছিল না। যদিও তারা মনে করত যে তারা বিবাহিত যুগল, কিন্তু তারা সকলে ব্যাপারটা জানাতে এবং এই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে চেয়েছিলো যেন তারা এটি হারিয়ে না ফেলে।

লাজ তাকে অনেক চিঠি লিখেছিলো যেগুলো তার কাছে যুদ্ধবিরতির পর পৌঁছেছিল। পনেরোটি চিঠির বান্ডিল এসেছিল যুদ্ধক্ষেত্রে এবং সে সেগুলোকে তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে বিনা বিরতিতে পড়ে নিয়েছিল। চিঠিগুলোর বিষয়বস্তু ছিলো হাসপাতাল নিয়ে, এবং সে তাকে কতটা ভালোবাসত তা নিয়ে এবং কিরকম অসম্ভব ছিলো তাকে ছাড়া দিনগুলো যাপন করা এবং কতটা অসহনীয় ছিলো তাকে ছাড়া রাতগুলো কাটানো সেসব নিয়ে। 

যুদ্ধবিরতির পর তারা সহমত পোষণ করেছিল যে তার প্রেমিকবাড়ি ফিরে একটি চাকরির চেষ্টা করবে যেন তারা বিয়ে করতে পারে। লাজ ততদিন বাড়ি ফিরবে না যতদিন না তার প্রেমিক একটি ভালো চাকরি পাচ্ছে এবং নিউইয়র্ক গিয়ে তার সাথে দেখা না করছে। এটা বোঝা গিয়েছিল যে সে পান করবে না, এবং সে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বন্ধু বা অন্য কারো সাথে দেখাও করতে চায়নি। শুধু একটি চাকরির দরকার ছিলো এবং তারপর বিয়ের। পাদুয়া থেকে মিলানের ট্রেনে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলেছিল তার বাড়ি আসার প্রতি অনীহা নিয়ে। যখন তাদের বিদায় জানাবার সময় এসেছিল মিলানের স্টেশনে, তারা বিদায় চুম্বন করল, কিন্তু ঝগড়া তখনো শেষ হয়নি। এভাবে বিদায় জানানো তার প্রেমিকের কাছে কষ্টদায়ক মনে হয়েছিল। 

জেনোয়া থেকে একটি নৌকা করে তার প্রেমিক আমেরিকা পৌঁছেছিল। লাজ পোর্দেনন ফিরে গিয়েছিল একটি হাসপাতাল চালু করতে। জায়গাটি ছিলো নিঃসঙ্গ এবং বর্ষণময়, এবং সেখানে শহরে অর্ডিটি সৈন্যের একটি দল অবস্থান করছিল। কর্দমাক্ত, বর্ষণময় শহরে অবস্থানকালে, সেই সৈন্যদলের মেজর সঙ্গম করেছিল লাজ এর সাথে, এবং এর আগে ইতালিয়ানদের সম্পর্কে তার কোনো জানাশোনা ছিল না, এবং অবশেষে সে যুক্তরাষ্ট্রে লিখে পাঠিয়েছিল যে তাদের মধ্যে শুধু একটি চাহিদাসম্পন্ন সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সে দুঃখ প্রকাশ করেছিল, এবং সে জানত তার প্রেমিক সম্ভবত কখনো বিষয়টি বুঝে উঠতে পারবে না, কিন্তু হয়তো একদিন তাকে ক্ষমা করে দেবে, এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে, এবং সে প্রত্যাশা করেছিল, একদম অপ্রত্যাশিতভাবে, যে সেই বসন্তে তাদের বিয়ে হবে। সে বরাবরের মতোই তাকে ভালোবাসত, কিন্তু সে এখন বুঝতে পারছিল যে এটি শুধুই চাহিদাসম্পন্ন ভালোবাসা। সে আশায় ছিলো যে তার প্রেমিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা হবে, এবং তাকে সে পুরোপুরিভাবে বিশ্বাস করত। সে জানত এটিই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।

সেই মেজর তাকে সেই বসন্তে বিয়ে করেনি, অন্য কোনো সময়েও নয়। লাজ এ ব্যাপারে শিকাগোতে লেখা সেই চিঠির কোনো উত্তর পায়নি। এর অল্পকিছু কাল পর তার প্রেমিক লুপ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের এক মহিলা বিক্রয়কর্মীর থেকে গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলো যখন সে একটি ট্যাক্সিক্যাবে করে লিঙ্কন পার্ক দিয়ে যাচ্ছিল। 


১০৮ জন স্ট্রিট ।। মার্ক হ্যালিডে

ঘরটি ছিলো হলুদরঙা। দিনগুলো ছিলো দীর্ঘ। রান্নাঘরে কখনো সখনো ভিড় লেগে থাকত। বিল জানত কি করে আবর্জনা রাখার কাগজের থলেগুলোকে দড়ি দিয়ে বাঁধতে হয় কিন্তু মার্ক তা কোনোদিনই আয়ত্তে আনতে পারেনি। প্রতি বুধবার রাতে এ নিয়ে বেশ আমোদ হতো। রেফ্রিজারেটর মৃদু গুঞ্জন করতে থাকত। মার্ক ওপরতলায় গিয়ে তাদের ধূসর কার্পেট পাতা ঘরটায় দেখতে পেল জেসিকা ক্যারল কিংয়ের গান শুনছে। তার চুলগুলো ছিলো ভেজা এবং ঘন কালো। সে বলল, ‘তুমি কি পাই খেয়েছ বাঁদর?’ যখন বিল স্নান সেরে নিচ্ছিল তখন জুডি তার জন্য বড় শোবার ঘরটায় অপেক্ষা করছিল। জুডির মনে হতো বিল স্নানে অস্বাভাবিক লম্বা সময় নেয়। স্নানঘরের দরজার ভেতর দিয়েই সে চেঁচিয়ে ডাকত 'উইলিয়াম', জেসিকা মার্ককে বলেছিল যে প্রবহমান গরম জলের ধারার সাথে ঈর্ষার সম্পর্ক ছিল জুডির। মার্ক একটি ভীষণ যুক্তিহীন কবিতা লিখেছিল সবুজ কালিতে। কবিতাটির উহ্য বিষয় ছিল কিছু মানুষ, ঠিক তার মতো, যারা বাতাসের মধ্যে দেবদূতদের দেখতে পেত, যখন অন্যরা তা পেত না। সে কিছু বই এক স্তূপ থেকে অন্য স্তূপে সরিয়ে রেখেছিল। সে সংশয়ে ছিল যে সে আদৌ―আর্তেমিয়ো ক্রুজের মৃত্যু―বইটি পড়তে পারবে কি না এবং সে বিস্ময়ে ভেবেছিল এই নিয়ে তার বিষণ্ন বোধ করা উচিত কিনা। যখন লিনা চেন এসেছিলো এবং কড়াইতে রান্না করত, মার্ক সবসময় পেঁয়াজ কেটে দিত। ‘বাঁদর কাঁদে তখনি যখন চেন পাখি বেড়াতে আসে’, বলত জেসিকা। সে একটা কার্টুন এঁকেছিল যেখানে শূকরেরা ওভারঅল পরে আইসক্রিম সোডা খাচ্ছিল। বেসমেন্টের ঘরে, সমকামী উকিল লরেন্স ফোনে মোজার্টকে নিয়ে এমনভাবে কথা বলেছিল যেন কেউ এর আগে মোজার্টের নামই শোনেনি। রান্নাঘরে লরেন্স ‘মানসম্মত রান্নার পাত্র’ নিয়ে বুলি আওড়াতে পছন্দ করত। যে রাতে সে নিজেকে সমকামী বলে ঘোষণা করেছিল, সবাইকে গুরুগম্ভীর আচরণ করতে হয়েছিল। সবাই একসাথে থাকতে শিখছিল। বিল মার্ককে দেখিয়ে দিয়েছিল যে হরহামেশাই সে হাঁড়ি-পাতিলের তলা অব্দি ধোয়া নিয়ে হেলাফেলা করত। বিল একটি খুনের রহস্যকাহিনি পড়েছিল, কোনো সূত্র বাদ না দিয়েই। বসার ঘরটি আশ্চর্যজনকভাবে মনোরম ছিলো যেখানে বালিরঙা সোফা এবং লরেন্সের মানসম্মত ল্যাম্প রাখা ছিল। এসব কিছু, এই সবকিছু, জেসিকা তার সজাগ বাদামি চোখের সাথে, এই সবকিছু অর্থপূর্ণ ছিলো, এই সবকিছু জাগরণের অন্তরালে স্পন্দিত হচ্ছিল যার দৃঢ় তাৎপর্য ছিলো। অথবা শুধু কি জীবন ছিল? শুধুই জীবন? মার্ক পনিরের সাথে সেলেরি খেয়েছিলো এবং ওপরতলায় গিয়ে যোগ দিয়েছিল জেসিকার সাথে। সে ফোনে কৌতুক করছিল, সিমন দ্য বিউভয়ের যখন জিন-পলকে বলেছিল সোজা হতে এবং সঠিকভাবে উড়তে। মার্কের ভিয়েতনাম নিয়ে কিছু একটা পড়ার কথা ছিলো কিন্তু তার ঘুম পাচ্ছিল। জেসিকা তাকে উপহাস করেছিল ‘প্লিজ প্লিজ মি’ গানটি বেসুরো গলায় গাইবার জন্য কিন্তু যখন সে তাকে জড়িয়ে ধরেছিল তখন জীবন ভালো ছিল। সকালে একটি কবুতর তাদের জানালার ধার দিয়ে চৌকি দিচ্ছিল তাদের ঘুমন্ত মাথাগুলোর কাছ দিয়েই। সব অর্থপূর্ণ। এবং ঈশ্বর এই সবকিছু একটি কাপড়ের থলেতে ভরেছিলেন এবং আন্দোলিত করেছিলেন চারদিকে এবং হালকাভাবে এটিকে ফেলে দিয়েছিলেন নদীতে।


প্রাতরাশে নির্বাসন ।। ল্যারি ফন্ডেশন

জানালার ওপরের সংকেতগুলো আমাকে প্রলুব্ধ করেছিল ভেতরে যেতে। এক ডলারের বিনিময়ে আমি পেতে পারি দুটো ডিম, সেঁকা রুটি এবং কিছু আলু। জায়গাটা অন্য সবের চেয়ে ভালই ছিলো―পরিবার পরিচালিত এবং পরিচ্ছন্ন। সংকেতগুলো ছিলো হাতেলেখা এবং পরিপাটি। কাগজটায় যদিও কিছু জায়গায় হলদে দাগ পড়েছিল, কিন্তু কালো অক্ষরগুলো ছিলো সপ্রতিভ। একটি সবুজ এবং সাদা চাঁদোয়া দরজার ওপর পাতা ছিলো, যার ওপর ছাপানো ছিলো ‘ক্লারা'র নামটি।

ভেতরে, জায়গাটিতে ছিলো আবেদনময় এবং পুরোনো ধাঁচের সজ্জা। বাতাসে ছিলো সতেজ এবং ঘরের সুবাস, মোটেও তেল চিটচিটে নয়। খাবারের তালিকা লেখা ছিলো একটি খড়িমাটির বোর্ডে। সেটি ছিলো সংক্ষিপ্ত এবং যথাযথ। সেই তালিকায় ছিল বিভিন্ন পদের সেঁকা রুটি যেখান থেকে আপনি যেকোনো টি নির্বাচন করতে পারবেন। একটা লেখা তালিকার মাঝখান থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। অনুমান করে আমি বের করলাম এটি ছিলো রাই। এমনিতেও আমি রাইয়ের সেঁকা রুটি চাইনি। 

যেহেতু আমি ছিলাম একা, আমি কাউন্টারে বসেছিলাম, ফাঁকা টেবিলগুলোকে মুক্ত রেখেছিলাম অন্য খরিদ্দারদের জন্য যারা হয়তো আসতে পারে। সেই সময়টায়, ব্যবসা চলছিলো শান্তভাবে। মাত্র দুটো টেবিল খরিদ্দারদের দখলে ছিলো; এবং আমি কাউন্টারে একা বসেছিলাম। কিন্তু তখনো বেলা বেশি গড়ায়নি―সাতটা ত্রিশও বাজেনি। 

কাউন্টারের পেছনে ছিল একজন খর্বকায় মানুষ যার ছিল কুচকুচে কালো চুল, একটি গোঁফ এবং একটি যুবাসুলভ দাড়ি, যা বেশিদূর বাড়েনি। সে পরিষ্কার পরিচ্ছদে সজ্জিত ছিলো, পাচকের সাদা প্যান্ট, শার্ট, অ্যাপ্রন, কিন্তু কোনো টুপি ছিল না। তার ছিল বেশ ভারী বাচনভঙ্গি। ‘জাভিয়ার’ নামটি সেলাই করা ছিলো তার শার্টে।

আমি কফির অর্ডার করেছিলাম, এবং এক মিনিট সময় চেয়েছিলাম এক ডলারের বিশেষ প্রাতরাশ এবং পনিরের অমলেটের মধ্যে একটিকে নির্বাচন করতে যার দাম ছিল ১.৫৯ ডলার। আমি অমলেটটিই নির্বাচন করেছিলাম। 

কফিটি ছিলো গরম, কড়া, এবং সতেজ। আমি কাউন্টারের ওপর আমার পত্রিকাটি বিছিয়ে নিলাম এবং মগে চুমুক দিচ্ছিলাম যখন জাভিয়ার গ্রিলের কাছে গেল আমার খাবার রান্না করতে।

ডিমগুলোকে তাওয়ার ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো, রুটি নিমজ্জিত ছিলো টোস্টারের ভেতরে, যখন কর্তৃপক্ষ চলে এসেছিল। তারা দ্রুত জাভিয়ারকে ধরে ফেলেছিল বিনা বাক্যব্যয়ে, তারা বল প্রয়োগ করে তার হাতদুটোকে পেছনে নিয়ে গিয়েছিল। সেও কিচ্ছুটি বলেনি। সে বাধাও দেয়নি, এবং তারা তাকে ধাক্কা দিয়ে দরজা দিয়ে বের করে নিয়ে ঢুকিয়েছিল তাদের জন্য অপেক্ষমান গাড়িতে।

গ্রিলের ওপর, আমার ডিমগুলো ফুটছিল। আমি চারপাশে তাকাচ্ছিলাম আরেকজন কর্মচারীকে খুঁজতে, হয়তো সে পেছনে কোথাও থাকতে পারে অথবা ওয়াশরুমে। আমি কাউন্টারের ওপর ঝুঁকে পরে কাউকে ডেকেছিলাম। কেউ উত্তর দেয়নি। আমি আমার পেছনে তাকালাম টেবিলগুলোর দিকে। দুজন প্রবীণ ভদ্রলোক একটিতে বসেছিলেন; এবং দুজন প্রবীণ ভদ্রমহিলা অন্যটিতে। দুজন ভদ্রমহিলা কথা বলছিলেন। ভদ্রলোকেরা খবরের কাগজ পড়ছিলেন। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল তারা জাভিয়ারের বেরিয়ে যাওয়া খেয়ালই করেননি। 

আমি গন্ধ পাচ্ছিলাম যে আমার ডিম পুড়তে শুরু করেছে আমি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না যে আমার কি করা উচিত। আমি জাভিয়ারের কথা চিন্তা করছিলাম এবং আমার ডিমগুলোর দিকে তাকিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ দ্বিধায় থাকার পর, আমি আমার লাল সুইভেল স্টুল থেকে উঠে দাঁড়ালাম এবং কাউন্টারের পেছনে চলে গেলাম। আমি একটি অতিরিক্ত অ্যাপ্রন নিয়ে নিলাম এবং একটি স্প্যাচুলা দিয়ে ডিমগুলোকে উল্টে দিলাম। আমার রুটি সেঁকা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সেগুলো বাদামি না হওয়ায় আমি আবার ওগুলোকে সেঁকতে দিলাম। যখন আমি রান্না করছিলাম, সেই দুই প্রবীণ ভদ্রমহিলা কাউন্টারে এসে অর্থ পরিশোধ করতে চাইলেন। আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা কি কি নিয়েছিলেন। তারা আশ্চর্য হয়েছিলেন এটা দেখে যে আমার কিছুই মনে ছিল না। আমি খড়িমাটির বোর্ড থেকে দাম দেখে নিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ চাইলাম। তারা খুব ধীর গতিতে অর্থ পরিশোধ করলেন, তাদের বড় টাকার থলি হাতড়ে, এবং বাইরে চলে গেলেন, আমাকে এক ডলার বখশিশ দিয়ে। আমি আমার ডিমগুলোকে গ্রিল থেকে নামিয়ে নিয়ে একটি পরিষ্কার প্লেটে নিয়ে নিয়েছিলাম। আমার রুটি সেঁকা হয়ে গিয়েছিল। আমি তাতে মাখন লাগিয়ে নিয়েছিলাম এবং প্লেটে ডিমের পাশে নিয়ে নিয়েছিলাম। আমি কাউন্টারে আমার জায়গায় প্লেটটাকে রেখে দিয়েছিলাম, ঠিক আমার পত্রিকার পাশে। 

যখনই আমি কাউন্টারের পেছন থেকে আমার স্টুলের দিকে এগোচ্ছিলাম, ছয়জন নতুন খরিদ্দার দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। ‘আমরা কি কিছু টেবিল একসাথে করে বসতে পারি?’ তারা জিজ্ঞেস করল। ‘আমরা সবাই একই পার্টি।’ আমি তাদের হ্যাঁ বলেছিলাম। তারপর তারা ছয়টি কফির অর্ডার করল, দুটি ক্যাফেইনবিহীন। 

আমি ভেবেছিলাম তাদের বলে দেই যে আমি সেখানে কাজ করি না। কিন্তু হয়তো তারা অভুক্ত ছিল। আমি তাদের কফি ঢেলে দিলাম। তাদের অর্ডার খুবই সাধারণ ছিল : ছয়টি বিশেষ প্রাতরাশ, সবকটার সাথে স্ক্রাম্বেল্ড ডিম এবং গমের রুটি। আমি গ্রিলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।

তারপর প্রবীণ ভদ্রলোকেরা অর্থ পরিশোধ করতে এলেন। অনেক নতুন খদ্দের আসতে লাগল। সাড়ে আটটা নাগাদ, আমি পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এই রকমের ব্যবসার ক্ষেত্রে, আমি বুঝে উঠতে পারলাম না যে জাভিয়ার কেনো একজন ওয়েট্রেসকে নিয়োগ দেয়নি। সম্ভবত আমি আগামীকাল সাহায্য চাই লিখে পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেবো। আমি আগে কখনো রেস্তোরাঁর ব্যবসা করিনি। এই রেস্তোঁরা একা চালানো আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

/জেড-এস/
মেসিকে পরীর চুমু, চঞ্চলের সংলাপ ‘বোঝনাই ব্যাপারটা’!
আর্জেন্টিনার জয়ে ফেরামেসিকে পরীর চুমু, চঞ্চলের সংলাপ ‘বোঝনাই ব্যাপারটা’!
নারীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহিংসতাই অন্যতম বাধা
নারীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহিংসতাই অন্যতম বাধা
যেভাবে জানা যাবে এসএসসি ও সমমানের ফল
যেভাবে জানা যাবে এসএসসি ও সমমানের ফল
সড়কে প্রাণ গেলো মা-বাবা-মেয়ের
সড়কে প্রাণ গেলো মা-বাবা-মেয়ের
সর্বাধিক পঠিত
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী