X
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ড. শামসুজ্জোহার শাহাদাতবার্ষিকী, ৫৩ বছরেও মেলেনি জাতীয় স্বীকৃতি

তৌসিফ কাইয়ুম, রাবি
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৫:০৩আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৭:৩৮

আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. শামসুজ্জোহার ৫৩তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৬৯ সালের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তৎকালীন প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে পাকিস্তানি বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। 

প্রতিবছরের মতো এবারও দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ড. শামসুজ্জোহার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও রচনা প্রতিযোগিতা।

ড. জোহার আত্মদানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ত্বরান্বিত হলেও জাতীয় পর্যায়ে আজও কোনও স্বীকৃতি মেলেনি। প্রতিবছর জোহা দিবসে জাতীয় স্বীকৃতির দাবি উঠলেও পরবর্তী সময়ে এই নিয়ে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ দেখা যায় না। তবে স্বীকৃতি না পাওয়ার জন্য সরকারের অনীহা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাবকে দায়ী করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থাকেও অনেকেই কারণ হিসেবে মনে করছেন।

১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হকের মৃত্যুর খবর শুনে দেশব্যাপী গণআন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলের চেষ্টা করেন। প্রক্টর শামসুজ্জোহা তখন বুঝতে পারেন, আন্দোলনকারী ছাত্ররা মিছিল বের করলে অনেক ছাত্রের প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে ছাত্রদের মূল ফটক থেকে ফিরে যেতে বলেন। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা আবাসিক হল প্রাঙ্গণে অবস্থিত ড. শামসুজ্জোহার স্মৃতি ভাস্কর্য

পাকিস্তানি সেনারা তখন মিছিলের সম্মুখভাবে অবস্থান করছিল। এই সঙ্কটাপন্ন মুহূর্তে ছাত্রদের প্রাণ বাঁচাতে শামসুজ্জোহা নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন সেনাসদস্যদের। বলেছিলেন, ‘দয়া করে গুলি ছুড়বেন না, আমার ছাত্ররা এখনই চলে যাবে এখান থেকে।’ কিন্তু সেনা সদস্যরা তার কথা উপেক্ষা করে গুলি চালাতে গেলে ড. জোহা নিজে এগিয়ে যান। তখন তার ওপরই গুলি চালায় সেনারা। রাবির মূল ফটক থেকে বেরিয়ে একটু পূর্ব পাশে রাস্তার উল্টো দিকে তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।

শামসুজ্জোহাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে বলা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। এছাড়া তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও জাতীয়ভাবে ড. জোহার স্বীকৃতি না মেলার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন। 

তিনি বলেন, প্রতিবছরই ১৮ ফেব্রুয়ারি এলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিনটিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণার দাবি তুলি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটি নিয়ে আমাদের জোরালো কোনও ভূমিকা থাকে না। শহীদ ড. জোহার আত্মত্যাগকে জাতীয় পর্যায়ে খুব ভালোভাবে তুলে ধরতে পারি না। বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। তখন তারা জোহা দিবসকে জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণার বিষয়ে সংসদে উত্থাপনের আশ্বাস দেন। তবে ঢাকায় গিয়ে বিষয়টি ভুলে যান তারা। ফলে এ নিয়ে সংসদে কিংবা জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, এমনটা দেখা যায় না। আমাদের দেশব্যাপী  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে কমিউনিটি রয়েছে, তাদেরকেও এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ করতে পারিনি। তাছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ভালো ভূমিকা রাখতে পারেননি।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মাদ মিজানউদ্দিন বলেন, আমরা জাতীয় শিক্ষক দিবসের দাবিটি কেবল ১৮ ফেব্রুয়ারি এলেই তুলি। কিন্তু সারা বছর খোঁজ রাখি না। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী থেকে দূরের হওয়ায় খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ জোহা স্যার যদি ঢাবির হতেন তবে ৫৩ বছর পর্যন্ত এই দাবি তোলার প্রয়োজন হতো না। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবিকে একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ছাত্র-শিক্ষক সম্মিলিতভাবে জোরালো দাবি তুলতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষিত শ্রেণিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবেই ড. জোহার জাতীয় স্বীকৃতি মিলবে।

১৯৬৯ সালে ড. শহীদ শামসুজ্জাহা যখন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হয় তখন অধ্যাপক আব্দুল খালেক সহকারী প্রক্টর ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুল খালেক।

ড. শহীদ শামসুজ্জোহার জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি না মেলার বিষয়ে তিনি বলেন, জোহা স্যার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবেগের জায়গা। আমি যখন উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলাম জোহা দিবসকে জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণার জন্য সরকারের উচ্চ মহলে যোগাযোগ করি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ১৯৬৯ সালের পর একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশব্যাপী অনেক শিক্ষক শহীদ হয়েছেন। সবার জন্য আলাদাভাবে দিবস ঘোষণা সম্ভব নয়। এজন্য সম্মিলিতভাবে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী পালন  করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ড. শহীদ শামসুজ্জোহার আত্মদানের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতার আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়েছে।  আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবো। যাতে এই দিনটিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণা করে। আমাদের এই একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ছাত্র-শিক্ষক সম্মিলিত প্রয়াস চালাবো।

/এএম/ /এসএইচ/
পাহাড় থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
পাহাড় থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
সার্বিয়াকে হারিয়ে নকআউটে সুইসরা
সার্বিয়াকে হারিয়ে নকআউটে সুইসরা
ব্রাজিলকে হারিয়ে দিলো ক্যামেরুন
ব্রাজিলকে হারিয়ে দিলো ক্যামেরুন
‘এত উন্নয়ন হয়েছে, প্রবাসীরা দেশে ফিরে নিজের গ্রামই চিনবেন না’
‘এত উন্নয়ন হয়েছে, প্রবাসীরা দেশে ফিরে নিজের গ্রামই চিনবেন না’
সর্বাধিক পঠিত
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
খালেদা জিয়া মুক্ত, জামিন দেওয়ার কী আছে: আইনমন্ত্রী
খালেদা জিয়া মুক্ত, জামিন দেওয়ার কী আছে: আইনমন্ত্রী