(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)
১৯৭২ সালের ৪ সেপ্টেম্বরে তৎকালীন অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন। বাসসের খবরে বলা হয়, লন্ডন থেকে অস্ত্রোপচারের পর বঙ্গবন্ধু সেসময় জেনেভায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে নজরুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার আগে ১৬ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি পৌঁছাবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু এখন চলাফেরা করতে পারেন। তার সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনাকালে বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার জন্য উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন এবং সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। যেসব চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু অস্ত্রোপচার করেছেন তারা পিত্তকোষে পাথর এবং অ্যাপেন্ডিক্স পরীক্ষা করে অভিমত প্রকাশ করেছিলেন যে অস্ত্রোপচারে বিলম্ব হলে বঙ্গবন্ধুর জীবন বিপন্ন হতো। অস্ত্রোপচারের পর বঙ্গবন্ধুর অসুস্থ হওয়ার জন্য জেনেভা ভ্রমণ করেন। সেসময় তিনি দ্রুত দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন কিন্তু চিকিৎসকরা সে বিষয়ে অসম্মত ছিলেন।
রেশনে বরাদ্দ
বাংলাদেশ সরকারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাথাপিছু রেশনের চালের পরিমাণ হ্রাস করে গমের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে কোনও কোনও সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে যা সত্য নয়। রেশনের পরিমাণ বৃদ্ধি বা কমানো হয়নি, অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকার প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিটির পূর্ণ বিবরণ পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়। এদিকে সরকারের হ্যান্ডআউটে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার অবিলম্বে বিদেশ থেকে ২৭ লাখ ২২ হাজার ২শ মন চালের এর ব্যবস্থা করেছে। এ ব্যাপারে দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আরব লীগ শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে
সপ্তাহব্যাপী বিদেশ সফর শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ ঢাকা প্রত্যাবর্তন করে জানান, সমতা সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তানের সকল বিষয় শান্তিপূর্ণভাবে নিয়মনীতিতে সমাধানে বাংলাদেশ আস্থাশীল। ঢাকা প্রত্যাবর্তনের পথে দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা জানান বলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, আরব লীগের আসন্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ৯ সেপ্টেম্বরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলন হওয়ার কথা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি কলকাতা হয়ে ঢাকায় ফেরেন। ইতিপূর্বে তিনি বাগদাদ, কায়রো এবং দামেস্ক সফর করেন। তিনি দিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। তিনি আরব রাজধানী সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তারা উদগ্রীব। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ এর আবেদন সাধারণ পরিষদের আলোচনাকালে সমর্থন করার বিষয়েও আরব লীগ তাকে প্রতিশ্রুতি দেয়।
বিশ্ব বিবেক নীরব কেন?
পাকিস্তানে কারাগারে আটক বাঙালিরা এক এক করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে বলে খবরে প্রকাশ করা হয়। ১৯৭২ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের ইত্তেফাকের সংবাদে বলা হয়, গত ২১ দিনে অনাহার-অর্ধাহারে ও কুখাদ্য খেয়ে কেবল করাচিতে ৪০ জন শিশুসহ ১৭ জনের অধিক বাঙালি মারা গেছে। দ্রুত খাদ্য সরবরাহ ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে মৃত্যুর হার আরও বেড়ে যাবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে আটক বাঙালিদের অস্তিত্ব পাকিস্তানের বুক থেকে মুছে যেতে পারে বলে শঙ্কাও জানিয়েছেন সেখান থেকে ফেরত আসা কেউ কেউ। ২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান হতে আগত কাস্টম বিভাগের সুপারেনটেনডেন্ট চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার আশরাফ হোসেন চৌধুরী ও ব্যাঙ্ক কর্মচারী চাঁদপুরের হেদায়েতুল্লাহ দৈনিক বাংলাকে এসব তথ্য জানান।







