X
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২
১৫ আষাঢ় ১৪২৯

রূপকল্প ২০২১: কতটা বাস্তবায়ন হলো

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ১৫:৪৬

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘রূপকল্প ২০২১’ এর কর্মপরিকল্পনায় ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতায় থাকা দলটি এ প্রতিশ্রুতি নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস্তবায়ন করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গড় আয়ু সত্তরের কোটায় উন্নীত, রংপুরকে বিভাগ ঘোষণা, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছে বর্তমান সরকারি দল। তবে দেশকে নিরক্ষরমুক্তকরণ, নিট ভর্তির হার শতভাবে উন্নীতকরণ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হার কমনোর লক্ষ্যমাত্রা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিয়ে আনা, শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা, মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিকীকরণ, সবার জন্য আবাসনসহ বেশকিছু লক্ষ্যমাত্রা ২০২১ সালের মধ্যে অর্জন করতে পারেনি সরকার। সরকারি দল বলেছে, তারা সার্বিক বিচারে লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশের বেশি বাস্তবায়ন করেছে। বাকিটা চলতি মেয়াদের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করছে সরকার।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘দিন বদলের সনদ’ শিরোনামে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। ওই ইশতেহারে ‘রূপকল্প ২০২১’ নামে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরপর দলটি ক্ষমতায় আসার পর টানা দেশ পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে ‘রূপকল্প’ বাস্তবায়নের সময়ও পার করেছে। দলটি নতুন করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রূপকল্প ২০৪১’র। এক্ষেত্রে রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। গত ডিসেম্বরে ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের সময়কাল শেষ করেছে সরকার।

রূপকল্প ২০২১ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের ওই নির্বাচনি ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট ২২টি লক্ষ্য ১৪ বছরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর বাইরে সেক্টরভিত্তিক আরও কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলটি।

আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনে ইশতেহারে ২০২১ সালে তথ্য-প্রযুক্তিতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করবে বলে প্রতিশ্রতি দিয়েছিল। তবে এই প্রতিশ্রুতি তারা আগেই বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। করোনা মহামারিতে অফিস-আদালত সবকিছু বন্ধ থাকলেও ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে ঘরে বসে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

দলটি ইশতেহারে রংপুরকে নতুন বিভাগ গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ময়মনসিংহকে বিভাগ গঠন করেছে। এছাড়া কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে।

আইসিটি খাতের সম্ভাবনাকে সার্থক করে তোলা, এর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইসিটি ইনকুবেটর ও কম্পিউটার ভিলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে।

ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার ও উজ্জ্বল করার যে প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে আওয়ামী লীগ দিয়েছিল, সেটা বাস্তবায়িত হয়েছে।

নারীশিক্ষা উৎসাহিত করতে উপবৃত্তি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠিত ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। ওষুধ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওষুধনীতি যুগোপযোগী করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ আমলের নেওয়া প্রকল্প ‘একটি বাড়ি একটি খামার’, আশ্রয়ণ, গৃহায়ন, আদর্শ গ্রাম ও ঘরে ফেরা কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। বাস্তবায়ন হয়েছে বয়স্ক ভাতা, দুস্থ মহিলা ভাতা বৃদ্ধি ও সুবিধাভোগী দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতিও।

দলটি ২০১২ সালে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জনের ঘোষণা দিলেও এর বাস্তবায়ন ওঠা-নামার মধ্যে রয়েছে। কোনও কোনও বছর খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও পরের বছর আবার খাদ্য আমদানি করতে দেখা গেছে।

২০১০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে নিট ভর্তির হার শতভাবে উন্নীতকরণের প্রতিশ্রুতি থাকলেও সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০০৮ সালের নিট ভর্তির হার ৯০.৮ শতাংশ থেকে উন্নীত হয়ে ৯৭-এর ঘরে আটকে রয়েছে। বর্তমানে নিট ভর্তি হার ৯৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। প্রতিশ্রুত সময় এক দশক পার হলেও নিট ভর্তি শতকে উন্নীত করতে পারেনি সরকার। ২০১৩ সালে মাধ্যমিক স্তর অবৈতনিক করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্য বই সরকার বিনামূল্যে প্রদান করে আসছে।

৫০ শতাংশের কম সাক্ষরতার হার নিয়ে ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি ছিল ৬ বছরের মধ্যে (২০১৪ সালে) নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তবে ১৩ বছরেও সেটা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকারের ১৩ বছরে সাক্ষরতার হার ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১১ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও ১৩ শতাংশের মতো মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। এছাড়া ২০১৩ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বর্তমানে এক শতাংশ মানুষ এর বাইরে রয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৭৪ শতাংশ নিয়ে দেশ পরিচালনা শুরু করা আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি ছিল ২০১৩ সালে ডিজিপি ৮ শতাংশে এবং ২০১৭ সালে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করার। সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথমে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে, এর পর আর বাড়াতে পারেনি সরকার। বর্তমানে ডিজিপি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অবশ্য গত দুই বছর করোনা না থাকলে জিডিপি আরও বাড়ার সম্ভাবনা ছিল।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪৯৪২ মেগাওয়াটে থাকতে ২০০৯ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার পথেই হেঁটে চলেছে আওয়ামী লীগ। দলটির প্রতিশ্রুতি ছিল ২০২১ সাল-নাগাদ বিদ্যুতের চাহিদা ২০ হাজার মেগাওয়াট ধরে উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়ার। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট। অবশ্য এই ক্ষমতার বিপরীতে একদিনের সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে এখনও পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে।

সরকার ২০১৫ সালের মধ্যে সব মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বললেও সেটা এখনও পূরণ হয়নি। তবে সরকার সবার আবাসন নিশ্চিত করতে বর্তমানে অগ্রাধিকারভুক্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। মুজিববর্ষে (২০২১ সাল) কেউ গৃহহীন থাকবে না— এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভূমি ও গৃহহীনদের বাড়ি করে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। সরকার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকা ধরে সারা দেশে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি বাড়ি নির্মাণ করে ধারাবাহিকভাবে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

নির্বাচনি ইশতেহার ২০০৮-এ ‘২০২১ সালে গড় আয়ুষ্কাল ৭০-এর কোঠায় উন্নীত’ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৮ বছরে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে হাজারে ১৫ করা, মাতৃমৃত্যুর হার ১.৫ শতাংশ করার প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে থাকলেও করোনায় এক্ষেত্রে সামান্য ভাটা পড়েছিল। এদিকে ২০২১ সালে প্রজনন নিয়ন্ত্রণের হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। এই হার বর্তমানে ৬৩.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সরকার ২০২১ সালে বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার এবং কৃষি খাতে শ্রমশক্তি ৩০ শতাংশে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এছাড়া ২০২১ সালে দারিদ্র্য ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, শিল্পে শ্রমশক্তি ১৬ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে এবং সেবা খাতে ৩৬ থেকে ৪৫ শতাংশে উন্নীত করা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম ২১২২ কিলো ক্যালোরির ঊর্ধ্বে খাদ্য নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের সংক্রামক ব্যাধি সম্পূর্ণ নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে এসব সেক্টরে অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে করোনার কারণে গত দুই বছরে এসব সেক্টরে অর্জন ছিল নেতিবাচক।

এদিকে মজুতদারি ও মুনাফাখোরি সিন্ডিকেট ভেঙে চাঁদাবাজি বন্ধ, নিত্যপণ্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও এ ক্ষেত্রে পুরোপুরি সফলতা আসেনি।

বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‌্যাব এবং র‌্যাবের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর, যুদ্ধাপরাধের বিচার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে সরকার। তবে জেলখানায় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের পুনর্বিচার সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন হলেও গঠিত হয়নি ন্যায়পাল নিয়োগের প্রতিশ্রতি।

নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন পদ্ধতির চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দৃশ্যমান দেখা যায়নি। তবে সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন ও সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠনের প্রক্রিয়া চালু করেছে। বাস্তবায়িত হয়নি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি। যদিও প্রবাসীদের ভোটার করার ক্ষেত্রে অনস্টপ সার্ভিস চালুসহ সহজীকরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।

সরকার গত ১৪ বছরে দুটি জাতীয় বেতন স্কেল দিলেও প্রতিশ্রুত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন হয়নি।

বাস্তবায়িত হয়েছে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার এবং এ লক্ষ্যে যুগোপযোগী নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতিও। তবে শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর বেতন কাঠামো ও স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন এবং স্বতন্ত্র কর্মকমিশন গঠন করা হয়নি। যদিও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগে একটি কর্তৃপক্ষ তৈরি হয়েছে।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ৩৩ শতাংশে উন্নীত (১০০টি) করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার নারী আসনের সংখ্যা ৪৫টি থেকে বাড়িয়ে ৫০টিতে উন্নীত করেছে।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, স্বল্প খরচে যাতায়াত নিশ্চিত না হলেও নতুন রেললাইন স্থাপন করে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়েকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে।

কোরআন ও সুন্নাহ্‌ পরিপন্থী কোনও আইন প্রণয়ন করা হবে না বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা রক্ষা করেছে সরকার। সব ধর্মের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চলমান আছে।

স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চলমান আছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমরা বেশ কিছুদিন আগে দলীয় একটি ফোরামে ইশতেহার নিয়ে প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করেছি। সেখানে আমরা দেখেছি গড়ে ৮০ শতাংশের ওপর বাস্তবায়ন হয়েছে। বর্তমানে মূল্যায়ন করলে এটা আরও বেশি হবে। আশা করছি, সরকারের মেয়াদে ‘ভিশন ২০২১’ পুরোটাই বাস্তবায়ন হবে।’’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু প্রতিশ্রুতিতে পিছিয়ে পড়লেও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়াসহ বেশকিছু প্রতিশ্রুতি নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন করেছি। করোনার কারণে আমরা হয়তো কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। না-হলে আমাদের অগ্রগতি আরও বেশি থাকতো। তবে সরকার করোনা মোকাবিলা করে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে কোনও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমাদের বেগ পেতে হবে না।’

/এপিএইচ/ইউএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রে লরি থেকে অর্ধশতাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযোগ গঠন
যুক্তরাষ্ট্রে লরি থেকে অর্ধশতাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযোগ গঠন
মাদক মামলায় সম্রাট ও তার স্ত্রীর যাবজ্জীবন
মাদক মামলায় সম্রাট ও তার স্ত্রীর যাবজ্জীবন
ঢাকার দুই সিটিতে কতদিনের কীটনাশক মজুত আছে?
ঢাকার দুই সিটিতে কতদিনের কীটনাশক মজুত আছে?
জুতার দুর্গন্ধ দূর করার টিপস
জুতার দুর্গন্ধ দূর করার টিপস
এ বিভাগের সর্বশেষ
বাণিজ্যমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রতারণা: সতর্ক থাকার আহ্বান
বাণিজ্যমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রতারণা: সতর্ক থাকার আহ্বান
বুড়িগঙ্গা চ্যানেল দখলদারদের ছাড় দেওয়া হবে না: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
বুড়িগঙ্গা চ্যানেল দখলদারদের ছাড় দেওয়া হবে না: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
‘গাড়িতে যেতে যেতে পদ্মা সেতুর সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী’
‘গাড়িতে যেতে যেতে পদ্মা সেতুর সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী’
মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নে স্বামী-স্ত্রীদের প্রশিক্ষণের সুপারিশ
মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নে স্বামী-স্ত্রীদের প্রশিক্ষণের সুপারিশ
করোনা ঠেকাতে সরকারের নতুন ৬ নির্দেশনা
করোনা ঠেকাতে সরকারের নতুন ৬ নির্দেশনা