আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৬আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২২:৩২

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেখতে হবে, আমরা আরও ভালো অবস্থানে কীভাবে থাকতে পারি।’’

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের সমতল এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় এলজিআরডি-মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রথম সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থপাচার না হতো, তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর) অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো। তবে আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য, সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।’’

সভায় প্রধানমন্ত্রী সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকার এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কোনও জাতি-গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না।’’

সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। কাউকে আলাদা মনে করেন না।

এ সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নেতারা তাদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের দাবি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণসুবিধা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ ফরেস্টের নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বসতি থেকে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওরা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আমাদের সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এর উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার। অথচ আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোনও কার্যক্রম নেই।’’

২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা-সামগ্রীর ওপর আরোপিত কর হ্রাসের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন।

/এমকে/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
মাদক কারবারিদের ধরে ধরে মারুন, আমরা পক্ষে আছি: এমপি শাহজাহান
ইউপি নির্বাচন বিএনপির প্রেস্টিজ ইস্যু: একক প্রার্থী নির্ধারণে চিন্তার ভাঁজ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রসঙ্গে যা বললেন রিজভী
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা (১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
বিএসএফের গুলিতে সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশি নিহত, বিজিবির পতাকা বৈঠক আহ্বান
বিএসএফের গুলিতে সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশি নিহত, বিজিবির পতাকা বৈঠক আহ্বান
এমবাপ্পের জোড়া গোলে ভায়েকানোকে হারিয়ে বার্সাকে স্পর্শ করলো রিয়াল
এমবাপ্পের জোড়া গোলে ভায়েকানোকে হারিয়ে বার্সাকে স্পর্শ করলো রিয়াল
হুথিদের দখলে মানদেবের কৌশলগত দ্বীপ, ট্রাম্পের সাহায্য চাইলেন সৌদি যুবরাজ
হুথিদের দখলে মানদেবের কৌশলগত দ্বীপ, ট্রাম্পের সাহায্য চাইলেন সৌদি যুবরাজ
সর্বাধিক পঠিত
একসঙ্গে ঝিনুক-কোরাল চাষে সফলতা, অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
একসঙ্গে ঝিনুক-কোরাল চাষে সফলতা, অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে: পপি
আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে: পপি
গ্রেফতারের পর ৬৩ বিদেশি নাগরিক যার কথা বলেছেন, এবার সেই কর্মকর্তা গ্রেফতার
গ্রেফতারের পর ৬৩ বিদেশি নাগরিক যার কথা বলেছেন, এবার সেই কর্মকর্তা গ্রেফতার
পে-স্কেল ঘোষণা হলেও গেজেট প্রকাশে দেরি কেন
পে-স্কেল ঘোষণা হলেও গেজেট প্রকাশে দেরি কেন
স্বর্ণের দাম বাড়লো, ভরি কত 
স্বর্ণের দাম বাড়লো, ভরি কত