দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও দুধে মিললো অ্যান্টিবায়োটিক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:০৮, জুলাই ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৩, জুলাই ১৪, ২০১৯

দুধ, ফাইল ছবি বাজারে বিক্রি হওয়া পাঁচটি কোম্পানির ৭ ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত গরুর দুধে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষাতেও আরও বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ড. আ ব ম ফারুক। শনিবার (১৩ জুলাই) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্যাকেটজাত এ ব্র্যান্ডগুলো হচ্ছে: মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগো দুধ। 
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক ফারুক জানান, প্রথম দফায় দুধের নমুনা পরীক্ষা করে তিন রকম অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গিয়েছিল। এবার চারটি পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে পরীক্ষাটি পুনরায় করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এবারও আগের ৫টি কোম্পানির ৭টি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের নমুনা এবং খোলা দুধের ৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ১০টি নমুনাতেই উদ্বেগজনক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, এবার অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে চার ধরনের। এগুলো হলো, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোফ্লক্সাসিন। এর মধ্যে আগেরবার ছিল না এমন অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে দু’টি। তা হচ্ছে, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিন। ১০টি নমুনার মধ্যে তিনটিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে চার রকমের। ছয়টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে তিনটি এবং একটিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে দু’টি। 

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতেও এই পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল জনস্বার্থে প্রকাশের চেষ্টা করবো। আশা করি, এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট দুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে তাদের দুর্বলতা দূর করে পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলো দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেবে এবং এভাবে দেশের দুধের মানের উন্নতি ঘটবে। এই সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরিবর্তে বিশেষ কোনও সরকারি কর্মকর্তাকে আর বিদেশি চক্রান্ত খুঁজতে হবে না।’ 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের লেকচার থিয়েটার ভবনে আয়োজিত প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ ও ইগলু কোম্পানির ৭টি ব্র্যান্ডের দুধ বাজার থেকে সংগ্রহ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার ও ফার্মেসি অনুষদের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষা করেছেন তারা। এর প্রায় প্রতিটি নমুনায় পাওয়া গেছে লেভোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও এজিথ্রোমাইসিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক। এছাড়া অপাস্তুরিত দুধের নমুনার একটিতে ফরমালিন এবং একটিতে পাওয়া গেছে ডিটারজেন্ট। এবারও এসব কোম্পানির দুধ বাজার থেকে সংগ্রহ করেই গবেষণাগারে পরীক্ষা করেছেন তারা।

নমুনা দুধগুলোর মধ্যে মিল্ক ভিটা হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড এর ব্র্যান্ড। এছাড়াও অপর নমুনাগুলোর মধ্যে আড়ং হচ্ছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান আড়ং ডেইরির পণ্য, ফার্ম ফ্রেশ হচ্ছে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের অন্যতম ব্র্যান্ড, প্রাণ হচ্ছে প্রাণ গ্রুপ এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাণ ডেইরির পণ্য। এছাড়াও ইগলু ব্র্যান্ডের দুধগুলো বাজারজাত করে থাকে আবদুল মোনেম লিমিটেড এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইগলু ডেইরি।

/এসও/এসটি/ টিএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ