চীনে ফ্লাইট স্থগিত বাড়ছে, পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ০৯:৪৮, জানুয়ারি ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৯, জানুয়ারি ৩১, ২০২০







হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
করোনা ভাইরাস আতঙ্কে চীনের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সগুলো। বাংলাদেশ থেকে চারটি এয়ারলাইন্স সরাসরি চীন ও হংকংয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে এই মুহূর্তেই বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক।



বাংলাদেশ থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, চায়না সাউদার্ন, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স সরাসরি চীনে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ড্রাগন এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে সপ্তাহে চার দিন হংকংয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। প্রতিদিন এসব ফ্লাইটে প্রায় ৫০০ জন চীন থেকে বাংলাদেশে আসছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ২০০-৩০০ জন চীনে যাচ্ছেন।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ফ্লাইট অপারেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, চীনের গুয়াংজুতে আমাদের ফ্লাইট চলছে। তবে সরকার যদি বন্ধের কোনও নির্দেশনা দেয়, তখন সেটি আমরা অনুসরণ করবো।

এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সগুলো চীনে সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত করছে। কোনও কোনও এয়ারলাইন্স কমিয়েছে চীনে ফ্লাইটের সংখ্যা। ইতোমধ্যে এয়ার কানাডা, আমেরিকান ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, দক্ষিণ কোরিয়ার এয়ার সিউল এয়ারলাইন্স, ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ার, এয়ার এশিয়া, ক্যাথাই প্যাসিফিক এয়ারলাইন্স লুফথেন্সা ও ফিনএয়ার চীনে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে।

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় প্রতিবেশি দেশ ভারতের দুটি এয়ারলাইন্সও চীনের ফ্লাইট স্থগিত করছে। ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো জানিয়েছে, চীনে ব্যাপকহারে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় তারা ব্যাঙ্গালুর-হংকং রুটে আগামী ১ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়াও। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা জানুয়ারি ৩১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লি-সাংহাই রুটে বিমান চলাচল বন্ধ রাখবে।

বাংলাদেশ থেকেও ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরাও। বিমানবন্দরের একাধিক সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের মূল উৎপতি চীনে, ফলে দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ সাময়িক স্থগিত রাখা প্রয়োজন। ভাইরাস যাতে না ছড়ায় তার জন্য চীন নিজের দেশেও ঝুঁকিপূর্ণ প্রদেশ ও শহরের সঙ্গে অন্য শহরের যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে।

এ অবস্থায় বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করে ভাইরাস আক্রান্ত কাউকে শনাক্ত করার চেয়ে, দেশে ভাইরাস আক্রান্ত কেউ যাতে না প্রবেশ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরর পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো নিজে থেকে ফ্লাইট বন্ধ করতে পারে। অথবা সরকার চাইলে ফ্লাইট বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ হিসেবে আমরা কোনও ফ্লাইট বন্ধের নির্দেশ দিতে পারি না। তবে বিমানবন্দরে সব যাত্রীর থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে আক্রান্ত কেউ দেশে প্রবেশ করতে না পারেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, চীনের ফ্লাইট বন্ধ নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।

/টিটি/

লাইভ

টপ