করোনা ঝুঁকির মধ্যেই ঢাকার ভোট ইভিএমে

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ১৯:৪৫, মার্চ ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৮, মার্চ ২০, ২০২০

ইভিএমে ভোট (ফাইল ছবি)করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই শনিবার ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪ ও গাইবান্ধা-৩ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদের মধ্যে বাগেরহাট ও গাইবান্ধার আসনে ব্যালট পেপারে ভোট হলেও ঢাকা-১০ আসনে ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর ইভিএম ব্যবহারে বেশি ঝুঁকির কথা জানিয়েছে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ভোটারকে চিহ্নিত করা হয় এবং ভোটারকে ভোটও দিতে হয়। এদিকে, অন্য নির্বাচনগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও এবার তা হয়নি। কমিশন বলেছে, তারা ছুটি না দিয়ে ভোটগ্রহণের পাইলটিং হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সফল হলে অন্য নির্বাচনেও তা প্রয়োগ করা হবে। অবশ্য শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় সাধারণ ছুটি না থাকার প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করা হচ্ছে।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আসন তিনটিতে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছে। বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বাকি দুটি আসনে এ দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। নির্বাচনি এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে সারা দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ভোটারদের মধ্যে আগে থেকেই আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনার কারণে ভোটার উপস্থিতি একেবারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে খোদ নির্বাচন কমিশনও। করোনা পরিস্থিতির কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন মহলের দাবি উঠলেও কমিশন ভোটগ্রহণে অটল রয়েছে। অবশ্য কমিশন জানিয়েছে, তারা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে করোনা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালুর পাশাপাশি প্রত্যেক ভোটারকে ভোটদানের আগে ও পরে হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন ও টিস্যু সববরাহ করবে।

তবে ইভিএম ব্যবহার করে ভোটগ্রহণে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হলে অবশ্যই ঝুঁকি রয়েছে। ইভিএমে বারবার একই বাটনে চাপ দিয়ে ভোট দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি অবশ্যই রয়েছে। তবে, বারবার হাত ধুয়ে ভোট দিলে সংক্রমণ না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
শনিবার যে তিনটি আসনে উপনির্বাচন হবে সেগুলোর সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে ইসি। আসন তিনটির মধ্যে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস পদত্যাগ ও অন্য দুই জন সংসদ সদস্যের মৃত্যুর কারণে আসনগুলো শূন্য হয়। পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচনগুলোর তফসিল হলেও, ভোটগ্রহণ হবে ২০২০ সালের হালনাগাদ করা তালিকায়। গত ২ মার্চ হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন ভোটার তালিকায় ভোট নেওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশনকে আসনগুলোর ভোটার তালিকার গেজেট সংশোধন করতে হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী ঢাকা-১০ আসনে আট হাজার ৯৯৪ ভোট, বাগেরহাট-৪ আসনে ১৯ হাজার ৭৬ ভোট এবং গাইবান্ধা-৩ আসনে ২৭ হাজার ১৩৭ ভোট বেড়েছে।

নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে দাবি করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনি মালামাল পাঠানো হয়েছে। শনিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পরিবেশও ভালো রয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও মাইকিং করে জনগণকে সচেতনভাবে ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের বাইরে ব্যানার টানিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা-১০
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস পদত্যাগ করায় ঢাকা-১০ আসনটি গত ২৯ ডিসেম্বর শূন্য ঘোষণা করা হয়। রাজধানীর ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, শেরে-ই বাংলা ও লালবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিএনপির শেখ রবিউল আলম, জাতীয় পার্টির হাজী মো. শাহজাহান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের কাজী মুহাম্মদ আবদুর রহিম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মিজানুর রহমান। এ আসনে ভোটার তিন লাখ ২১ হাজার ২৭৫ জন। আর ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৭টি ও ভোটকক্ষ ৭৭৬টি। এ আসনটির ভোট হবে ইভিএমে। শুক্রবার রাজধানীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইভিএম পাঠানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকি বিবেচনায় পুলিশ ও আনসারের ১৪ থেকে ১৬ জন মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনি এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। থাকবে র‌্যাবের টিমও।

ঢাকায় নির্বাচনি উপকরণ বিতরণের পর কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছেবাগেরহাট-৪
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া বাগেরহাট-৪ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের মো. আমিরুল ইসলাম মিলন ও জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রী। এ আসনে যাচাই-বাছাইয়ের সময়ে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এর ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যেই হবে নির্বাচনি লড়াই। বাগেরহাট-৪ আসনে ভোটার রয়েছেন তিন লাখ ১৬ হাজার ৫১০ জন। আর ভোট হবে ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৬২৯টি কক্ষে। বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনি এলাকায় আচরণবিধি প্রতিপালন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভালে দুই জন জুডিশিয়াল ও ২৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নেমেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, বাগেরহাট-৪ আসনের ১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৩টিই ঝুঁকিপূর্ণ ও ১০টি সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৭০৫ জন পুলিশ ও এক হাজার ৭১৬ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারের ২১টি মোবাইল ও ১০টি স্ট্রাইকিং টিম, ১০ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাবের ১০টি টিম কাজ করবে।

গাইবান্ধা-৩
গাইবান্ধা-৩ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ মোট চারটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের উম্মে কুলসুম স্মৃতি, বিএনপির অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মাইনুল হাসান সাদিক, জাতীয় পার্টির মাইনুর রাব্বী চৌধুরী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি। সংসদ সদস্য মো. ইউনুস আলী সরকারের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৩৫ হাজার ২১১ জন, ভোটকেন্দ্র ১৩২টি ও ভোটকক্ষ ৭৮৬টি। সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ১৪টি টিম ও পুলিশের ৪০টি টিম টহলে রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনি এলাকায় আচরণবিধি প্রতিপালন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভালে দুই জন জুডিশিয়াল ও ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন।

ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভোটের প্রস্তুতি শেষ। যদিও বাংলাদেশ এখনও সেভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নয়, তারপরও  করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় নিয়ে আমরা বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতিটি ভোটকক্ষে জীবাণুনাশক ও টিস্যু রাখা হবে। ভোটারদের হাত ধুয়ে ভোট দিতে এবং ভোট দেওয়ার পর আবারও হাত ধোয়ার অনুরোধ জানিয়ে ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ছুটি না ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় সরকারি ছুটি থাকলে আগে-পরে একদিন ছুটি নিয়ে অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এতে ভোটার উপস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এজন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে সাধারণ ছুটি না দিয়ে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। এটা সফল হলে বিধি সংশোধন করে অন্যান্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটা চালু হবে। অবশ্য এবারের ভোটের দিন এমনিতেই সরকারি ছুটি থাকায় প্রভাব খুব একটা পড়বে না বলেও মনে করেন তিনি।

বাগেরহাট-৪ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভোটের পরিবেশ ভালো রয়েছে। মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল দিচ্ছে। রয়েছেন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও। করোনা পরিস্থিতির জন্য কমিশনের নির্দেশে আমরা বাড়তি সতর্কতা নিয়েছি। আশা করছি, কোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


আরও পড়ুন:
করোনা শঙ্কার মধ্যেও তিনটি আসনে উপনির্বাচন কাল

 

/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ