বেশ কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩১, জুলাই ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৯, জুলাই ১৪, ২০২০

বন্যাএখনও দেশের ১৪ নদীর ২৩ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করছে। ভারী বৃষ্টির কারণে আরও বেশ কিছু পয়েন্টে পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিপদসীমার ওপরে উঠে যাবে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর, রাজবাড়ী ও ঢাকা  জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বন্যা ও আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা। তবে বেশ কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও জানান তারা।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ  কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, ১৪টি নদীর ২৩ পয়েন্টে পানি এখন বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করছে। এখনও পানি বাড়ছে। আমরা আশঙ্কা করছি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও কিছু পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে চলে যাবে। এতে  দেশের  বেশ কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তবে নীলফামারী, লালমনিরহাট, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও রংপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি সোমবার (১৩ জুলাই) যেখানে ছিল ৮৮  সেন্টিমিটার সেখান মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তা বেড়ে ১০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে ৮, ঘাগট নদীর গাইবান্ধা পয়েন্টে ৬৪, ব্রহ্মপুত্র নদীর  নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। মঙ্গলবার নুনখাওয়া পয়েন্টে তা বেড়ে ৮৫,  চিলমারীতে ৫১ থেকে বেড়ে ৯০, যমুনা নদীর ফুলছড়ি পয়েন্টে ৬২ থেকে বেড়ে ১০১,  বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৫৭ থেকে বেড়ে ৯৯, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ৪২ থেকে বেড়ে ৮৩, কাজিপুর পয়েন্টে ২৮ থেকে বেড়ে ৬৯, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৬ থেকে বেড়ে ৩৯, গূড় নদীর সিংড়া পয়েন্টে ২৫ থেকে বেড়ে ৩২, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে ৬ থেকে বেড়ে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে পানি ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এখন প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল যা বিপদসীমার নিচে ছিল। একইভাবে আপার আত্রাই নদীর ভুসিরবন্দর পয়েন্টে ৩৬, আত্রাই নদীর আত্রাই পয়েন্টে ১৩,  পদ্মা নদীর  গোয়ালন্দ পয়েন্টে ৫ থেকে বেড়ে আজ ৩০, ভাগ্যকুল পয়েন্ট ২  সেন্টিমিটার  বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে ৭১ থেকে কমে এখন ৬৯, সিলেট পয়েন্টে ৯ থেকে ৩,  সুনামগঞ্জ  পয়েন্টে ৩১  থেকে ১৪ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে  ১৭  থেকে বেড়ে ২০ , পুরাতন সুরমা নদীর দিরাই পয়েন্টে ৩১ থেকে বেড়ে ৩৫ এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৭ থেকে কমে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ  কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়,  ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও  গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুশিয়ারা  ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকায় প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কমছে। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে পানি  বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি কমতে পারে।

এদিকে জেলাগুলোর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায়  নীলফামারী, লালমনিরহাট, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও রংপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল . নাটোর, নওগাঁ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়,  মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, ঢাকা ও রাজশাহী  বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা  থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।   দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী  থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

আজ দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে  ৯২ মিলিমিটার। এছাড়া ঢাকা বিভাগের মধ্যে ফরিদপুরে ৩১, ময়মনসিংহে ৪৭, সিলেটে ৫১, রাজশাহীর বগুড়ায় ৩৬, রংপুরের দিনাজপুরে ৪২, খুলনার চুয়াডাঙ্গায় ৫০ এবং বরিশালের পটুয়াখালীতে ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি  রেকর্ড করা হয়েছে।

/এসএনএস/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ